আইপিএলে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের’ নিয়ম থাকাই উচিত নয়: গিল

আইপিএল
শুভমান গিল
শুভমান গিল
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আইপিএলের গত কয়েক আসর ধরেই ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়ম নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। সমালোচনার মধ্যেও এবারের আইপিএলেও থাকছে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়ম। কদিন আগেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। এরপরও এমন নিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল।

এবার গুজরাট টাইটান্স অধিনায়ক শুভমান গিল জানিয়েছেন ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়মই থাকা উচিত নয় আইপিএলে। ভারতীয় এই তারকা ব্যাটারের ব্যাখ্যা ক্রিকেট একটি দলগত খেলা। এখানে বাড়তি ব্যাটার বা বোলার ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে যুক্ত করলে বাকিরা গুরুত্ব হারায়।

তিনি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, 'ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না যে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম থাকা উচিত। ক্রিকেট সব সময় ১১ জনের খেলা। আইপিএলে আমরা যে ধরনের উইকেট আর মাঠে খেলি, সেখানে একজন অতিরিক্ত ব্যাটার খেলানোর সুযোগ মানেই হলো খেলা থেকে ক্রিকেটীয় দক্ষতা কেড়ে নেওয়া।'

ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার' নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের যেকোনো সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলার বা ব্যাটার বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ পায় দলগুলো। যার কারণে অলরাউন্ডারদের চাহিদা কমছে দিন দিন। এ কারণে ক্রিকেট খেলাটা ক্রমশই একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন গিল। ক্রিকেটারদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে বলেও ধারণা গিলের।

গুজরাট অধিনায়ক বলেন, 'নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যাটার নিয়ে খেলাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। কয়েকটা উইকেট দ্রুত পড়ে গেলে কীভাবে স্কোরবোর্ড সচল রেখে দলকে ভালো স্কোরে নিয়ে যেতে হয়, সেখানেই একজন ক্রিকেটারের আসল পরীক্ষা। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার আসার ফলে সেই দক্ষতার আর প্রয়োজন পড়ছে না।'

বাড়তি ব্যাটার খেলানোর সুযোগ পাবার ফলে আইপিএলে এখন দুই শতাধিক স্কোরও এখন আর নিরাপদ নয় ম্যাচ জয়ের জন্য। আইপিএলে মোট ১২ টি আড়াইশোর্ধ ইনিংসের ১০ টিই এসেছে গত দুই আসরে। তবে রান উৎসবের এমন অবস্থা অবশ্য মোটেও উপভোগ করছেন না গিল।

গিল যোগ করেন, 'এই নিয়মের ফলে ব্যাটিং লাইন-আপ অনেক লম্বা হয়ে যাচ্ছে, যা বোলারদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলছে। ফ্ল্যাট উইকেটে ২২০ রান তাড়া করার চেয়ে কঠিন উইকেটে ১৬০ বা ১৮০ রানের লড়াই দেখা আমার কাছে অনেক বেশি আনন্দের। চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনেই একজন খেলোয়াড়ের বুদ্ধিমত্তা আর কৌশল ফুটে ওঠে।'

২০২৩ সাল থেকে আইপিএলে চালু হওয়া এই নিয়ম প্রথমে ২০২২ সালের সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। এরপর এই নিয়ম চালু করা হয় আইপিএলেও। যদিও এই নিয়মের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় শঙ্কা রয়েছে।

আরো পড়ুন: