দেশের মাটিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলমান থাকলেও সেখানে খেলছেন না রিশাদ। নিজের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য বিপিএল ছেড়ে বিগ ব্যাশ খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ডানহাতি লেগ স্পিনারের কথায় পুরো মৌসুমের জন্য অনাপত্তিপত্রও দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অস্ট্রেলিয়াতে প্রথমবার বিগ ব্যাশ খেলতে গিয়েই বাজিমাত করছেন রিশাদ। প্রায় প্রতি ম্যাচেই বল হাতে অবদান রাখছেন হোবার্টের জয়ে।
কখনো দলের প্রয়োজনে উইকেট তুলে নিচ্ছেন আবার কখনো মিতব্যয়ী বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের আটকে রাখছেন। এখনো পর্যন্ত হোবার্টের হয়ে সবকটি ম্যাচেই খেলেছেন রিশাদ। ৮ ম্যাচ খেলা ডানহাতি লেগ স্পিনার ৭.৬৩ ইকোনমি রেটে নিয়েছেন ১১ উইকেট। সবার উপরে থাকা জেক এডওয়ার্ড ১৪ উইকেট নিয়েছেন। হোবার্টে রিশাদের চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল এলিসের (১২ উইকেট)।
রিশাদের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হোবার্টের অধিনায়ক। দুর্দান্ত বোলিংয়ে রিশাদকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। এলিস বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছি এবং উইকেট নিয়েছি। আমরা জানতাম ক্রিস লিন এবং ম্যাথু শর্ট আমাদের মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। আমি আবারও আমাদের স্পিনারদের কৃতিত্ব দিব।’
‘এ বছর তারা আমাদের জন্য দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে। তারা দুজনই বিশ্বমানের। আমরা হয়ত টুর্নামেন্টের শেষের দিকে রেহানকে পাচ্ছি না কিন্তু আমাদের রিশাদ আছে। সে খুবই ভালো মানের বোলার। আজকে এটা (ম্যান অব ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড) ধরে রাখাটা আমার কাছে একটু বোকামি লাগছে। কারণ আমার মনে হয় ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার মতো আরও ৪-৫ জনের সুযোগ ছিল।’
সবশেষ ম্যাচেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন রিশাদ। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসেই হ্যারি মানেনটিকে ফেরান বাংলাদেশের তারকা লেগ স্পিনার। পরবর্তীতে আউট করেছেন জেমি ওভারটন এবং লুড উডকে। লেগ স্পিনে আলো ছড়িয়ে ৪ ওভারে ২৬ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। হোবার্টের বেলেরিভ ওভালের এক পাশ ছোট হওয়ার পর হাসিমুখে রিশাদের বোলিং করে যাওয়ার প্রশংসা করেছেন এলিস।
হোবার্টের অধিনায়ক বলেন, ‘ভালো উইকেটে খেলার সময় এটা একটা ট্রেন্ড হয়ে উঠতে শুরু করেছে। ঐতিহ্যগতভাবে বেলেরিভ ওভার খুবই ভালো উইকেট। আমার মনে হয় সবশেষ কয়েক বছরে আমাদের স্পিনারদের গতির বৈচিত্র্য নিয়ে কিছুটা রহস্য তৈরি হয়েছে। এটা আমাদের অনেকদূরে নিয়ে গেছে।’
‘আমার মনে হয় আমি তাদের নিয়ে যথেষ্ট প্রশংসা করতে পারছি না। তারা সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছে এবং আমি যা চাই তাই করে। আজকে কিন্তু মাঠের একটা দিক তুলনামূলক ছোট ছিল। রিশাদকে যখনই ডেকেছি তখনই সে হাসিমুখে বল হাতে নিয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে এটা খুবই আনন্দের।’