বেন স্টোকসকে সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টেস্টে ৭ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের অনন্য ডাবল আছে মাত্র তিনজনের স্টোকস, স্যার গারফিল্ড সোবার্স ও জ্যাক ক্যালিস। তবে সর্বকালের সেরা নির্ধারণে শুধু বড় পরিসংখ্যান যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে ক্রিকবাজ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রান-উইকেট জমা করার পাশাপাশি একজন ক্রিকেটার তাঁর দলের সাফল্যে কতটা প্রভাব রেখেছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিশ্লেষণের জন্য প্রথমে টেস্টে অন্তত ২ হাজার রান ও ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া ৩৬ জনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। এরপর ব্যাটিং গড় ২০-এর নিচে কিংবা বোলিং গড় ৪৫-এর বেশি—এমন ছয়জনকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে ৩০ জনের। তাদের পারফরম্যান্স তুলনা করা হয়েছে বিভিন্ন মানদণ্ডে, যেখানে শুধু মোট রান বা উইকেট নয়, সতীর্থদের তুলনায় অবদান এবং ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্যও গুরুত্ব পেয়েছে।
মোট রান ও উইকেটের সম্মিলিত পরিসংখ্যানে সবার ওপরে জ্যাক ক্যালিস। টেস্টে ১৩ হাজারের বেশি রান ও ২৯২ উইকেটের মালিক এই দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার রান-উইকেটের ভারসাম্যে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। এই মানদণ্ডে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, মূলত তাঁর ৫৩৭ উইকেটের সুবাদে। এরপরের অবস্থানগুলোতে আছেন কপিল দেব, ইয়ান বোথাম, সোবার্স ও স্টোকস।
তবে দলের জয়ে অবদানের হিসাব আলাদা চিত্র তুলে ধরেছে। এই মানদণ্ডে সেরা পাঁচে রয়েছেন বিনু মানকড়, রিচার্ড হ্যাডলি, গারফিল্ড সোবার্স, সাকিব আল হাসান ও ইয়ান বোথাম। অর্থাৎ, টেস্টে দলের জয়ে ব্যাট ও বল হাতে অবদানের বিচারে ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডারদের কাতারে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
অন্যদিকে, ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় ব্যাটিং গড় ৪০-এর বেশি এবং বোলিং গড় ৩০-এর নিচে ধরে রাখার ক্ষেত্রে রবীন্দ্র জাদেজা ও ইমরান খান আলাদা করে নজর কেড়েছেন। জাদেজা টানা ৮২ টেস্টে এই মান বজায় রেখেছেন, আর ইমরান খানের ক্ষেত্রে এই ধারাবাহিকতা ছিল তার ক্যারিয়ারের ৯২ শতাংশের বেশি ম্যাচে। এই হিসাবের উদ্দেশ্য ছিল শুধু সেরা কয়েকটি পারফরম্যান্স নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে অলরাউন্ড নৈপুণ্য ধরে রাখার ক্ষমতা যাচাই করা। এই মানদণ্ডে সাকিবের অবস্থান সপ্তম।
ঘরের মাঠ ও দেশের বাইরে পারফরম্যান্সের তুলনায়ও উঠে এসেছে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাম। সোবার্স ও ক্যালিস দুই জায়গাতেই ব্যাটিং গড় ৫০-এর বেশি রেখেছেন। বোলিংয়ে ঘরের মাঠ ও বাইরে ধারাবাহিকতার জন্য আলাদা করে নজর কেড়েছেন হ্যাডলি। তবে এই মানদণ্ডের সামগ্রিক হিসাবে ইমরান খান সবার ওপরে। অর্থাৎ, পরিবেশ ও কন্ডিশন বদলালেও পারফরম্যান্স ধরে রাখার ক্ষমতা সেরা অলরাউন্ডার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।