রুয়েলের ৫ উইকেট, জয়ের সেঞ্চুরি, ৯৪ রানে অল আউট বরিশাল

জাতীয় ক্রিকেট লিগ
বরিশালের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন নিয়েছেন রুয়েল (বামে), চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদুল হাসান জয় (ডানে)
বরিশালের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন নিয়েছেন রুয়েল (বামে), চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদুল হাসান জয় (ডানে)
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রথম রাউন্ডের প্রথম দিনেই সেঞ্চুরির সুযোগ তৈরি করেছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন, কালাম সিদ্দিকী অলিন, হাবিবুর রহমান সোহান, সাব্বির হোসেনরা। তবে তাদের কেউই তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। এনসিএলের নতুন মৌসুমে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের মাহমুদুল হাসান জয়। একই পথে হাঁটছেন সাদিকুর রহমানও। এদিকে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন রুয়েল মিয়া। খুলনার বিপক্ষে বাঁহাতি পেসার নিয়েছেন ৫ উইকেট।

রুয়েলের ৫ উইকেট, ৯৪ রানে অল আউট বরিশাল

৫ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাটিংয়ে নামেন খুলনার আফিফ হোসেন ও সামিউন বশির রাতুল। সকালের শুরুতেই ১০০ বলে হাফ সেঞ্চুর করেন আফিফ। যদিও পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরই ফিরতে হয়েছে তাকে। রাতুল আউট হয়েছেন ২২ রানে। লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের মধ্যে শেখ পারভেজ ১৭, আব্দুল হালিম ২১ এবং সফর আলী অপরাজিত ২৯ রান করেন। প্রথম ইনিংসে খুলনা অল আউট হয়েছে ৪২৬ রানে। বরিশালের হয়ে পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন পেসার রুয়েল মিয়া।

খুলনার রান পাহাড়ের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরু থেকেই খেই হারাতে থাকে বরিশাল। খুলনার বোলারদের সামনে বরিশালের ব্যাটাররা যেন দাঁড়াতেই পারেননি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন ইফতি। এ ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন জাওয়াদ আবরার ও শহিদুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে বরিশাল অল আউট হয়েছে মাত্র ৯৪ রানে। খুলনার হয়ে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান রানা ও শেখ পারভেজ। দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন সফর ও হালিম।

প্রথম ইনিংসে ৩৩২ রানের লিড পায় খুলনা। তবে সুযোগ থাকায় বরিশালকে ফলোঅন করায় মোহাম্মদ মিঠুনের দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি বরিশালের। রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন আবরার। প্রথম ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ ইফতি। আউট হয়েছেন ১ রানে। তিন ওভারের মধ্যে ৫ রানে ২ উইকেট হারানো বরিশালের হাল ধরেন রাফসান আল মাহমুদ ও মোহাম্মদ সালমান। ২ উইকেটে ৪৩ রান তুলে দিন শেষ করেছে তারা। এখনো খুলনার চেয়ে ২৮৯ রানে পিছিয়ে বরিশাল।

মুরাদের ৪ উইকেট, জয়ের সেঞ্চুরি

চট্টগ্রামে ৬ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের সকালটা শুরু করে রাজশাহী। তবে প্রথম দিনের সঙ্গে ৭৪ রান যোগ করে ৩৬৪ রানে অল আউট হয়েছে সফরকারীরা। উইকেটে টিকে থাকলেও হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি শাখির হোসেন শুভ্র, সানজামুল হকের কেউ। শাখির ১০৮ বলে ৩৪ ও সানজামুল আউট হয়েছেন ১০২ বলে ৩৯ রান করে। এ ছাড়া নিহাদ উজ জামান ৫৯ বলে ২৭ রান করেছেন। চট্টগ্রামের হয়ে হাসান মুরাদ চারটি, এনামুল হক আশিক নিয়েছেন তিনটি উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রামের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। দুই ওপেনারের ব্যাটে দ্বিতীয় দিনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর এনসিএলের প্রথম রাউন্ডে ব্যাট হাতে ঝলক দেখালেন জয়। ১০২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন ডানহাতি ওপেনার। সাদিকুর রহমান পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৭০ বলে। তাদের দুজনের ব্যাটেই ছুটতে থাকে চট্টগ্রাম। দিনের তৃতীয় সেশনে দাপট দেখিয়ে বিনা উইকেটে ১৪০ রান তোলে তারা।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে জয় সপ্তম সেঞ্চুরি পেয়েছেন ১৬৬ বলে। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিন হাজারও পেরিয়ে গেছেন তিনি। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে অপরাজিত আছেন ১৭০ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলে। তাকে সঙ্গ দেওয়া সাদিকুরও আছেন সেঞ্চুরির পথেই। ১২ চারে ১১৮ বলে ৮৬ রান করেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে এখনো পর্যন্ত বিনা উইকেটে ১৯০ রান তুলেছে চট্টগ্রাম। স্বাগতিকরা এখনো চট্টগ্রামের চেয়ে পিছিয়ে ১৭৪ রানে।

আরো পড়ুন: