জীবনে উন্নতির তো শেষ নেই, ফিল্ডিং নিয়ে আশিকুর

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারি নোমান আলীর বুক বরাবর উঠল। ব্যাট পেতে দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। অনেকাংশেই পারলেন। তবে নাহিদের সেই ডেলিভারিতে ফিরতেও পারতেন তিনি। নোমানের ব্যাটে লেগে বল চলে যায় গালিতে। সেখানে ফিল্ডিং করছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একটু সামনের দিকে ঝুঁকে ড্রাইভ দিলেন।

বলটা অবশ্য হাতে নিতে পারলেন না মিরাজ। শেষ বিকেলের গুরুত্বপূর্ণ ওই মুহূর্তে ক্যাচ নিতে না পারায় আক্ষেপে পুড়ছিলেন তিনি। পাশেই অর্থাৎ প্রথম স্লিপে ফিল্ডিং করছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এমন সুযোগ লুফে নিতে না পারায় মিরাজের উপর চটলেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। ফিল্ডিং নিয়ে বাংলাদেশ কতটা সিরিয়াস সেটা যেন একটু টের পাওয়া গেল। কয়েক দিন আগের একটা কথা মনে করিয়ে দিই।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টির আগে শামীম হোসেন পাটোয়ারি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ফিল্ডিং নিয়ে তারা অতিরিক্ত কাজ করছেন। সেটার ফল যে বাংলাদেশ পেতে শুরু করেছে সেটা তো বলাই যায়। কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল দুর্দান্ত। পাকিস্তানের সঙ্গেও কম যায়নি। সফরকারীদের ২০ ব্যাটারের ১২ জনই আউট হয়েছেন ক্যাচ দিয়ে। অর্থাৎ ১২টা ক্যাচ অনায়াসে নিয়েছে বাংলাদেশ।

তামিম ইকবাল বোর্ড সভাপতি হওয়ার পর প্রতি সিরিজেই সেরা বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন। অর্থাৎ আপনি ম্যান অব ম্যাচ কিংবা সিরিজের সেরা ক্রিকেটার না হতে পারলেও সেরা বাংলাদেশির পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকবে। সেটা যে ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাম্প্রতিক সময়ে এমন চিত্র দেখা গেছে ফিল্ডিং নিয়েও।

সাম্প্রতিক বললে অবশ্য একটু ভুলই হবে। সাবেক প্রধান চান্ডিকা হাথুরুসিংহের সময়কাল থেকেই সেরা ফিল্ডারকে পুরস্কার দেওয়ার রীতি চালু করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তান সিরিজের প্রথম টেস্টে যেমন সেই পুরস্কার পেয়েছেন লিটন দাস ও শান্ত। আশিকুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, সবাই ভালো করার পর একটা আনন্দ, প্রেরণা কিংবা পুরস্কার খুঁজে। সেরা ফিল্ডারের পুরস্কারের রীতি ক্রিকেটারদের আরও ভালো ফিল্ডিং করতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘আপনারা দেখতে পেয়েছেন পুরস্কারটা—দুইটা ইনিংসে ফিল্ডিং করেছিলাম আমরা। দুইটা ইনিংসে যারা পয়েন্ট গ্রেড সিস্টেম—গ্রেড ১, গ্রেড ২, গ্রেড ৩-তে যারা ফিল্ডিং ভালো করেছে, ক্যাচ ভালো ধরেছে- এরকম দুইজনকে আমরা পুরস্কার দিয়েছি। শান্ত এবং লিটনকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল।’

‘এই পুরস্কারটা আসলে একটা—আমরা সব কাজের পেছনে একটা আনন্দ খুঁজি, সব কাজের পিছনে আমরা একটা প্রেরণা খুঁজি, একটা পুরস্কার খুঁজি। এটা আমার কাছে মনে হয় যে ভালো বার্তা সবার জন্য যেন সব কাজের শেষে আমরা স্বীকৃতি দেই। এটায় অনেক ভালো অনুভব করা যায়।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে স্লিপে বাংলাদেশের ফিল্ডিংটা একেবারে খারাপ হয়নি। প্রথম ইনিংসে মিরাজের বলে নোমানের দারুণ একটা ক্যাচ নিয়েছিলেন শান্ত। এর আগে ধরেছিলেন আজান আওয়াইসের ক্যাচও। দ্বিতীয় ইনিংসে সাদমান ইসলাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিয়েছেন সালমান আলী আঘার ক্যাচ। আশিকুর মনে করেন, সাদমান ১১০% দিয়ে সেই ক্যাচটা নিয়েছেন।

স্লিপ ক্যাচিংয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘স্লিপ ক্যাচিং অনেক ভালো। আমরা জানি যে লংগার ভার্সন ক্রিকেট, টেস্ট ক্রিকেট—এখানে মনোযোগ ধরে রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খেলোয়াড়রা এখান থেকে ফিরে এসেছে, এটার জন্য খেলোয়াড়দের পুরো কৃতিত্ব দিতে হবে। মাশাআল্লাহ, আমাদের স্লিপ ক্যাচিং অনেক ভালো হয়েছে পুরো টেস্টে।’

ঢাকা টেস্টে অবশ্য ক্যাচও ছেড়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের প্রথম ইনিংসের অষ্টম ওভারের ঘটনা। ইবাদত হোসেনের চতুর্থ বলে তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে ক্যাচ ছেড়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। লাফ দিয়ে এক হাতে ক্যাচ নেওয়ার চেষ্টা করলেও সেটা পারেননি। তাসকিন আহমেদের বলেও ক্যাচ ছেড়েছেন। পুরো টেস্টে বাংলাদেশ দুইটা ক্যাচ ছেড়েছে। ভালো ফিল্ডিং হলেও আরও উন্নতির সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ফিল্ডিং কোচ।

এ প্রসঙ্গে আশিকুর বলেন, ‘মানুষের জীবনে উন্নতির কোনো শেষ নেই। প্রতিদিনই আমরা শিখি, প্রতিদিনই আমরা উন্নতি করি। আমার কাছে মনে হয় আমাদের খেলোয়াড়দের যে নিবেদন ফিল্ডিংয়ের প্রতি, ওদের একটা ভালোবাসা, ওদের যে উৎসাহ, এটা শুধুমাত্র এক শতাংশ যদি আমরা যোগ করে এতেই হবে। আমাদের খেলোয়াড়রা অনেক ভালো, অনেক অ্যাথলেটিক এবং শারীরিকভাবে ফিট। আমি বলব উন্নতির তো শেষ নেই। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে।’