রাজ্জাককে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন জাহানারা

বাংলাদেশ ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জাহানারা আলমকে যৌন হয়রানির দায়ে মঞ্জুরুল ইসলামকে দেশের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মঞ্জুরুলকে শাস্তি দেওয়ায় বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও শুধু নিষিদ্ধ করাতে খুশি হতে পারেননি জাহানারা। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক জানিয়েছেন, আরও বেশি শাস্তি প্রত্যাশা করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি আব্দুর রাজ্জাককে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন জাহানারা।

জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে দলে আধিপত্য বিস্তার, সিন্ডিকেট তৈরি, ক্রিকেটারদের মারধর করা, জুনিয়র ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করাসহ নানা অভিযোগ করেছিলেন জাহানারা। তবে তারকা পেসারের এমন অভিযোগকে উড়িয়ে দেয় বিসিবি। তৎকালীন নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রাজ্জাকও বাইরের মানুষ হিসেবে জাহানারার অভিযোগকে আমলে নিতে আগ্রহ দেখাননি।

যদিও সেই সময় জানিয়েছিলেন, বিসিবি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। সেই ঘটনার কয়েক দিন পর মঞ্জুরুল ও তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন জাহানারা। সুনির্দিষ্ট চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ স্বাধীন তদন্ত কমিটি। প্রমাণ পাওয়ায় বাংলাদেশের সব ধরনের ক্রিকেটে মঞ্জুরুলকে নিষিদ্ধ করে বিসিবি। শাস্তির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাহানারা বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে তারা একটা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, মি. মঞ্জু শাস্তি দিয়েছে।

‘কিন্তু আমি খুশি হতে পারছি না। কারণ আমার সাথে যা যা হয়েছে, আমি যা যা ফেস করেছি, সেই তুলনায় এই শাস্তি খুব সামান্য মনে হয়েছে আমার কাছে। আমি আরও অনেক বড় শাস্তি আশা করেছিলাম। শুধুমাত্র আমি যদি ক্রিকেট অঙ্গনের কথাই চিন্তা করি, তাহলে আমার মতো হাজারো জাহানারা পৃথিবীর অসংখ্য দলে বিদ্যমান আছে। আমি জাহানারা মঞ্জুর হাত থেকে ছাড় পাইনি, ওই জাহানারাও এই মঞ্জুর হাত থেকে ছাড় পাবে বলে আমি মনে করি না।’

খুব বেশি দিন নারী বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন না রাজ্জাক। রুবাবা দৌলাকে প্রধান করার পর ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক বাঁহাতি স্পিনারকে। জাহানারা অভিযোগ তোলেন, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই তার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছেন। মঞ্জুরুলের শাস্তি বেশি হয়েছে, রাজ্জাক এমন মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার।

জাহানারা বলেন, ‘আমার সব থেকে খারাপ লেগেছে নারী উইংয়ের অভিভাবক তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভাই কোনো কিছু যাচাই-বাছাই না করে উনি মন্তব্য করে বসলেন আমি নাকি বাইরের লোক এবং আমি যা বলেছি সব ভিত্তিহীন। রাজ্জাক ভাইয়ের জানা উচিত ছিল যে আমি দল থেকে বাদও পড়িনি এবং আমি অবসরও নেইনি। আমি এখনো বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়। আমি মানসিক স্বাস্থ্য ইস্যুতে ছুটিতে আছি—নিজের প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে, নিজের প্রিয় ক্রিকেট বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে।’

‘আমার আরও বেশি কষ্ট লেগেছে যখন কিনা মি. মঞ্জু দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তাকে একটা শাস্তি দেওয়া হয়েছে তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্জাক ভাই—তখন তিনি ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, তখনও তিনি একজন অভিভাবক নারী উইংয়ের—তিনি আবারও মন্তব্য করেন যে তার ভাই মি. মঞ্জুর নাকি অনেক বড় শাস্তি দেওয়া হয়ে গেছে। মঞ্জু নাকি এত বড় শাস্তি ডিজার্ভ করে না।’

অনেক সময়ই নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও তারা প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পান না। কখনো সমাজের সামনে নিজেদের মুখ না দেখাতে পারার ভয় আবার কখনো জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়ার ভয় কাজ করে তাদের মাঝে। জাহানারা অবশ্য সাহস করে এসব অভিযোগ সামনে এনেছেন। রাজ্জাকের মন্তব্য শুনে আশাহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

জাহানারা বলেন, ‘তিনি (রাজ্জাক) আরও মন্তব্য করেন নারী ক্রিকেটাররা নাকি সমঝোতা করে ক্রিকেট খেলে বলে তিনি মনে করেন। আমার প্রশ্ন রাজ্জাক ভাই, আপনি একটা মায়ের সন্তান, আপনার স্ত্রী একজন নারী, আপনার অবশ্যই বোনরা আছে—তারাও নারী। আপনার মেয়ে আছে কি না আমি জানি না।’

‘আজকে যদি আপনার বোন, আপনার স্ত্রী বা আপনার মেয়েরা ক্রিকেট খেলতো এবং তাদের সাথে একই ঘটনা ঘটতো তাহলে কী আপনি এই নোংরা মন্তব্য করতেন? আমার খুবই খারাপ লেগেছে, আমার মানতে কষ্ট হয় যে আপনি (রাজ্জাক) বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, আপনি একজন সাবেক ক্রিকেটার ছিলেন এবং আপনি একজন নারীর সন্তান।’

আরো পড়ুন: