সভাপতি বুলবুলের ১২ হাজার টাকার বাসায় থাকা কতটা যুক্তিসঙ্গত, প্রশ্ন ইমরুলের

ছবি: ইমরুল কায়েসের ফেসবুক পেজ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন বুলবুল। লম্বা সময় দেশে না থাকায় ঢাকায় স্থায়ী কোনো বাড়ি নেই তাঁর। মাঝে যখনই বেড়াতে এসেছেন বেশিরভাগ সময়ই আত্মীয়দের বাসায় থাকতেন। তবে এবার সভাপতি হয়ে আসায় বেশ কয়েকমাস থাকতে হচ্ছে তাকে। যে কারণে মিরপুর-শের ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশে ১২ হাজার টাকায় দুই রুমের বাসা ভাড়া নিয়েছেন তিনি।
স্কুল থেকে নতুন সাকিব-তামিমদের খুঁজে বের করতে চান বুলবুল
২৮ আগস্ট ২৫
হাজার কোটি টাকার বিসিবি সভাপতি হয়েও কেন ১২ হাজার টাকা বাসায় থাকছেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন তথ্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা কিংবা প্রশংসা সবই হয়েছে। যদিও বুলবুলের এমন বাসায় থাকার বিষয়টি মানতে পারছেন না ইমরুল কায়েস। ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করা একজনের এমন বাসায় থাকার বিষয়টি একেবারেই যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে না বাংলাদেশের বাঁহাতি এই ওপেনারের।
নিজের ফেসবুক পোষ্টে ইমরুল লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, গত কয়েকদিন ধরে একটা বিষয় হয়তো আপনারা অনেকেই দেখেছেন—যে বিসিবি সভাপতি বর্তমানে মাত্র ১২ হাজার টাকার ভাড়ার একটি বাসায় থাকছেন। এই ব্যাপারটা আমার কাছে কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে হয়নি। একজন মানুষ, যিনি নিজের স্থায়ী ঠিকানা ছেড়ে, এক দেশ থেকে আরেক দেশে এসে, শুধুমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন, তাঁকে যদি এমন একটি বাসায় থাকতে হয়—তাহলে সেটা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।’

বাংলাদেশে আসার পর উত্তরায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন বুলবুল। পরবর্তীতে কয়েকদিন হোটেল সোনারগাঁওয়েও ছিলেন বিসিবি সভাপতি। তবে বিসিবিতে বেশি সময় দিতেই মিরপুরে বাসা ভাড়া নিয়েছেন তিনি। পরিবার সাথে না থাকায় একার জন্য দুই রুমের বাসাকেই বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। ইমরুলের দাবি, বিসিবি তাকে শুরুতে ভালো জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করে দিলেও সমালোচনার জেরে সেটা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন বুলবুল।
তামিম-সাকিবদের নিয়ে লিজেন্ডস লিগে খেলতে চান ইমরুল
১২ আগস্ট ২৫
ইমরুল লিখেছেন, ‘আমার জানা মতে, বিসিবি শুরুতে তাঁকে ভালো মানের একটি থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এবং কিছু দুষ্টচক্র সেই বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি শুরু করে, যা তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত করে। আর সেই সম্মানের খাতিরেই তিনি আজ এত সাধারণভাবে থাকছেন।’
বুলবুলের ১২ হাজার টাকার বাসায় থাকার ঘটনায় বিসিবির কোচিং স্টাফের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচের বিষয়টিও সামনে এনেছেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩৯ টেস্ট, ৭৮ ওয়ানডে এবং ১৪ টি-টোয়েন্টিতে ৪ হাজারের বেশি রান করা বাঁহাতি ওপেনার চাওয়া, ব্যক্তি বুলবুলকে মূল্যায়ন না করলেও অন্তত মেধাকে মূল্যায়ন করা উচিত। সেই সঙ্গে এও জানতে চেয়েছেন বোর্ডের সবকিছু আগের মতোই চলবে কিনা।
৩৮ বছর বয়সি এই ব্যাটার লিখেছেন, ‘আমরা দেখে থাকি বিসিবি কত টাকা খরচ করে বিদেশি স্টাফ এবং কোচদের পেছনে, যার হিসাব কোটি টাকায় গড়ায়। অথচ, অন্যদিকে একজন সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান বোর্ড সভাপতিকে মাত্র ১২ হাজার টাকার একটি হোটেলে রাখা হচ্ছে। আমরা না হয় ব্যক্তি বুলবুলকে মূল্যায়ন না-ই করলাম, কিন্তু তাঁর মেধাকে তো অন্তত মূল্যায়ন করা উচিত, তাই না? নাকি আগের মতো যেভাবে সব কিছু চলেছে, সেভাবেই চলবে?’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আসলে আমরা কবে শিখব একজন ভালো মানুষ কিংবা ভালো কিছুর সঠিক মূল্যায়ন করতে? কবে আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশের উন্নয়নে যারা কাজ করছে, তাদের পাশে দাঁড়াব? এমন কিছু সংখ্যালঘু মানুষ সব সময়ই থাকে—যারা শুধু দেশের ক্রিকেট নয়, বরং গোটা দেশেরই ক্ষতি করে। যেমনি করে বুলবুল ভাই নিজেই বলেছেন, কিছুদিন পর তিনি চলে যাবেন। দুঃখের বিষয়, আমরা অনেক সময় সঠিক মানুষকে সঠিক সম্মান দিতে পারি না।’