মিনহাস ‘প্রোপার’ অলরাউন্ডার, পাকিস্তান দলে সে অসাধারণ: আফ্রিদি

ত্রিদেশীয় সিরিজ
আরাফাত মিনহাস ও শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফাইল ফটো
আরাফাত মিনহাস ও শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
অভিষেক ওয়ানডেতেই পাঁচ উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন আরাফাত মিনহাস। এবার নিজের পঞ্চম ম্যাচে ব্যাটে-বলে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখালেন পাকিস্তানের এই তরুণ ক্রিকেটার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৫৯ রান করার পর বল হাতে নিয়েছেন ছয় উইকেট। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান।

মঙ্গলবার প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাঁচ উইকেটে ১৩৩ রান তুলে চাপে পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে হাসান নাওয়াজের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন মিনহাস। ৫৮ বলে ৫৯ রান করে আউট হওয়ার আগে দলের সংগ্রহ তিনশ পার করার পথ তৈরি করেন তিনি। রান তাড়ায় ইংল্যান্ডও শুরুতে ভালো অবস্থানে ছিল। এক উইকেটে ১২০ রান তোলা দলটিকে পরে একাই ধসিয়ে দেন মিনহাস।

টম ব্যান্টনের উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপর্যয়ের শুরু করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এরপর একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ৪০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তিনি। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের হয়ে একই ম্যাচে ফিফটি ও অন্তত পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আগে ছিল শাহিদ আফ্রিদি ও আব্দুল রাজ্জাকের। তবে ফিফটির সঙ্গে ছয় উইকেট নেওয়ার নজির ছিল শুধু আফ্রিদির। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন মিনহাস। ওয়ানডে ইতিহাসে বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে একই ম্যাচে ফিফটি ও ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েন তিনি।

পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি মিনহাসের সামর্থ্য নিয়ে বলেন, 'সে স্রেফ একজন বোলিং অলরাউন্ডার বা ব্যাটিং অলরাউন্ডার নয়; সে 'প্রোপার' অলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ে যেভাবে সে ইনিংস শুরু করেছে এবং এরপর বোলিংয়েও ভালো করছে, তা আমাদের জন্য, পাকিস্তান দলের জন্য অসাধারণ ছিল। আশা করি, সে আরও অনেক ম্যাচে ভালো খেলবে।'

মিনহাসের এই পারফরম্যান্স অবশ্য হঠাৎ করে আসেনি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা, সব জায়গাতেই ব্যাট ও বল হাতে নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। গত মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ৩২ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন এই স্পিনার। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম অর্ধশতক করার পাশাপাশি নিজের আগের সেরা বোলিংকেও ছাড়িয়ে গেলেন।

নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে মিনহাস বলেন, 'পরিকল্পনা খুব সহজ রেখেছিলাম। পিচটা একটু ধীরগতির ছিল। ভালো জায়গায় বল করতে পেরেছি এবং কিছুটা সাহায্যও পাচ্ছিলাম, যা আমার জন্য সুবিধাজনক হয়েছে।'

ব্যাট হাতেও দলের কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিতে হয়েছে মিনহাসকে। সাত নম্বরে নামার সময় পাকিস্তানের রান ছিল পাঁচ উইকেটে ১৩৩। হাসান নাওয়াজের সঙ্গে তাঁর জুটিই দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। নাওয়াজ ৭৯ রান করে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন মিনহাস।

নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমি যখন ব্যাট করতে নামি, তখন জুটি গড়ার প্রয়োজন ছিল। হাসান এবং আমি আলোচনা করছিলাম যে, এই জুটিকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব রান যোগ করা, কারণ তা দলকে সুবিধা দেবে।'

আরো পড়ুন: