আইসিসি বোর্ডের স্বাধীন পরিচালক ড. রোজ রিভাজ এবং আইসিসি প্রধান নির্বাহীদের কমিটির সদস্য সারা কিনকে বিশেষ টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিলে কর্মসূচিটির তদারকি করবেন। তাদের লক্ষ্য হবে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, প্রতিনিধিত্ব এবং প্রতিযোগিতামূলক মান আরও উন্নত করা।
ড. রিভাজ বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে আইসিসির বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্য হতে পেরে আমি সম্মানিত। আমাদের দায়িত্ব হলো এমন একটি সুস্পষ্ট ও টেকসই রোডম্যাপ তৈরি করা, যা নিয়মিত কোচিং, অর্থবহ প্রতিযোগিতা এবং উচ্চমানের উন্নয়ন কাঠামোর মাধ্যমে আফগান নারী শরণার্থী ক্রিকেটারদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কর্মসূচি ক্রিকেটের মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে আইসিসির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমি টাস্কফোর্সের সদস্য, সদস্য দেশ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে এটি উদ্দেশ্য, সততা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে মুখিয়ে আছি।’
আফগান নারী শরণার্থী ক্রিকেটার নাহিদা সাপন এই কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘এই কর্মসূচি ইতোমধ্যেই আমাদের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। এটি শুধু আমাদের ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে সাহায্য করেনি, বরং দল হিসেবে একসঙ্গে অনুশীলন ও খেলার সুযোগও করে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইসিসি ও টাস্কফোর্স আমাদের দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এটি জেনে আমরা আশ্বস্ত। অন্য দেশের ক্রিকেটারদের মতো আমাদেরও সমান অধিকার ও সুযোগ রয়েছে—এই স্বীকৃতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’
আরেক ক্রিকেটার ফিরোজা আফগান বলেন, ‘গত এক বছরে দল হিসেবে একত্রিত হয়ে ভারত ও ইংল্যান্ড সফর করার সুযোগ আমাদের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। নিজ নিজ দেশে দক্ষ কোচদের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ আমাদের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আমাদের সামনে একটি পরিষ্কার উদ্দেশ্য তৈরি করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে প্রতিটি সুযোগকে আমরা কাজে লাগাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার মেল জোন্সও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই অসাধারণ নারীদের প্রতি ধারাবাহিক সমর্থন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বে পৌঁছানোর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তাদের ভবিষ্যতের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি শক্তিশালী একটি বার্তা দেয় যে প্রতিভা ও দৃঢ় সংকল্পের যথাযথ সুযোগ পাওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ক্রিকেটাররা বিশ্বজুড়ে নারী ও মেয়েদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাদের বিশেষ বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেখতে পেরে ভালো লাগছে। গত এক বছরে তাদের অগ্রগতি অসাধারণ ছিল। ২০৩০ সালের মধ্যে এই দল কী অর্জন করে, তা দেখার অপেক্ষায় আছি।’
এই কর্মসূচির আওতায় আফগান নারী শরণার্থী ক্রিকেটাররা নিজ নিজ দেশে ক্রিকেট কোচ, শক্তি ও ফিটনেস প্রশিক্ষক এবং ফিজিওথেরাপিস্টের সহায়তা পেতে থাকবেন। পাশাপাশি ধাপে ধাপে তাদের ম্যাচ খেলার সুযোগও বাড়ানো হবে।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও কানাডাভিত্তিক এই ক্রিকেটাররা স্থানীয় ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থেকে নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। এছাড়া গত এক বছরে ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের মতো ভবিষ্যতেও দল হিসেবে একসঙ্গে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এসব আয়োজনও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে ২০৩০ সালের আইসিসি বাছাইপর্বের জন্য তাদের প্রস্তুতি আরও ভালো হয়।