গুঞ্জন আছে সরফরাজকে টেস্ট দলের প্রধান কোচ বানিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসবে পাকিস্তান। এমন খবরের মাঝেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন সরফরাজ। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক নিজেই। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতই কোচিং পেশায় যুক্ত হবেন পাকিস্তানকে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানো সরফরাজ।
এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘পাকিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের। ২০০৬ সালে যুব বিশ্বকাপ জেতা থেকে ২০১৭ সালে আইসিসির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতা, প্রতিটা মুহূর্তই আমার জন্য বিশেষ।’
সব ফরম্যাট মিলে পাকিস্তানকে ১০০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন সরফরাজ। ৫০ ওয়ানডের সঙ্গে ৩৭ টি-টোয়েন্টি এবং ১৩ টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটারের অধীনে টি-টোয়েন্টিতে এক নম্বর দল হয়েছিল পাকিস্তান। এ ছাড়া টানা ১১ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছিল পাকিস্তান। তবে সরফরাজের অধিনায়কত্বের সবচেয়ে সেরা সময় ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ফাইনালে ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে ৮ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান।
দেশটির প্রথম অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানকে যুব ও সিনিয়র পর্যায়ে ট্রফি জেতান সরফরাজ। ডানহাতি উইকেটকিপার যখন অধিনায়ক ছিলেন তখন বাবর আজম, শাহীন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলী, ইমাম উল হক, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান ও শাদাব খানের মতো ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রেখেছিলেন। যারা কিনা সবাই পরবর্তীতে তারকা বনে গেছেন। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে দেশটির ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।
অধিনায়কত্ব নিয়ে সরফরাজ বলেন, ‘সব ফরম্যাটে পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব করা ছিল আমার জন্য স্বপ্নের মতো। আমি সবসময় ফিয়ারলেস ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেছি এবং একটা দল গড়ার চেষ্টা করেছি। আমার অধিনায়কত্বের সময় বাবর আজম, শাহীন আফ্রিদি, হাসান আলী এবং বাকিদের ম্যাচ উইনার হিসেবে গড়ে উঠতে দেখেছি, এটা আমার গর্ব করার মতো অর্জনগুলোর একটি।’
সবশেষ ২০২৩ সালে পাকিস্তানের জার্সিতে খেলেছেন সরফরাজ। এর আগে জাতীয় দলের হয়ে ৫৪ টেস্টে ৩৭.৪১ গড়, ২১ হাফ সেঞ্চুরি ও চার সেঞ্চুরিতে ৩ হাজার ৩১ রান করেছেন। ১১৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১১ হাফ সেঞ্চুরি ও ২ সেঞ্চুরিতে ৩৩.৫৫ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৩১৫ রান। এ ছাড়া ৬১ টি-টোয়েন্টিতে ১২৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে ৮১৮ রান করেছেন।