৩৪৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরতেই মৃত্যুঞ্জয়ের বোলিং তোপের সামনে পড়ে রুপগঞ্জ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মোহাব্বত হোসেন রোমানকে উইকেটের পেছনে এনামুল হক বিজয়ের ক্যাচে পরিণত করেন এই পেসার। পরের ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই পেসার মুশফিক হাসানের বলে বোল্ড হন কালাম সিদ্দিকী। এরপর একে একে আব্দুল মজিদ ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও মাহমুদুল হাসানকে ফিরিয়ে রুপগঞ্জের ইনিংসের মেরুদন্ড ভেঙে দেন মৃত্যুঞ্জয়।
রুপগঞ্জের রান যখন পাঁচ উইকেটে ৪৯ তখন বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয় খেলা। রবিবার (১০ই মে) আর খেলা শুরু সম্ভব না হলে রিজার্ভ ডেতে গড়ায় বাকি খেলা। রিজার্ভ ডেতেও খুব বেশি লড়াই গড়তে পারেনি রুপগঞ্জ। ব্রাদার্সের দলীয় ৮৭ রানে নুহায়েল সানদীদকে ফিরিয়ে নিজের লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট তুলে নেন মৃত্যুঞ্জয়।
ব্রাদার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করা সজীব মিয়াকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতায় নাম তোলেন তাওহীদ হৃদয়ও। এরপর নবম ও দশম উইকেটে মোট ৫৮ রান তুললেও ১৪৫ রানেই অলআউট হয় রুপগঞ্জ। শেষদিকে হুমায়ূন আহমেদ (২৮) ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি মোহামেডানের বোলারদের সামনে। মোহামেডানের হয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন তিনটি এবং মুশফিক ও হৃদয় একটি উইকেট নেন।
এর আগে ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) মাঠে টস জিতে মোহামেডানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় রুপগঞ্জ। উদ্বোধনী জুটিতে দলকে ৩৫ রান এনে দেন দুই ওপেনার বিজয় ও নাইম। নবম ওভারে মাহমুদুল হাসানের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ২৬ রানে আউট হন বিজয়। এরপর তিন নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে ৭৮ রানের জুটি গড়ে নাইম।
দলীয় ১১৩ রানে সজীব মিয়ার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ইমন। ৫৬ বলে দুই ছক্কা ও চারটি চারে ৪৬ রান করেন তিনি। এরপর অধিনায়ক হৃদয়কে সাথে নিয়ে ৬৩ রানের আরেকটি দারুণ জুটি গড়েন নাইম। ঝড়ো গতিতে খেলতে থাকা হৃদয়কে ফেরান ফাহাদ হোসেন। সানদীদের হাতে ক্যাচ দিয় ফেরার আগে ২১ বলে এক ছক্কা ও পাঁচ চারে ৩৫ রান করেন মোহামেডান অধিনায়ক।
অন্যপ্রান্তে লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে নিজের দশম সেঞ্চুরি তুলে নেন নাইম। মাঝে আফিফ হোসেব ধ্রুবও আট রান করে ফিরে গেলেও নিজের সেঞ্চুরিকে আরো বড় ইনিংসে পরিণত করতে থাকেন এই ওপেনার। ছয় নম্বরে নামা রাব্বির সাথে ১২৪ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে দলের সংগ্রহকে ৩০০ পাড় করেন তিনি। ম্যাচের ৪৮ তম ওভারে ফাহাদের বলে সজীব মিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন নাইম। খেলেন ১৩৬ বলে ১২টি ছক্কা ও পাঁচটি চারে ১৪৫ রানের দারুণ এক ইনিংস।
৪৪ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রাব্বি। ৩৪৫ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় মোহামেডান। রুপগঞ্জের হয়ে ফাহাদ ও অধিনায়ক মাহমুদুল দুইটি এবং সজীব ও হুমায়ুন আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।