দেশে ফিরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রফিক জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে জেতার ব্যাপারে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি তাগিদ ছিল। তবে পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে আক্ষেপও রয়েছে তার। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৮ রান করেও হার এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ ছাড়ার খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। তার মতে, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের ফল আরও ভালো হতে পারত।
২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের সঙ্গে এবারের জয় তুলনা করতে গিয়ে রফিক বলেন, 'আমাদের খেলোয়াড়দের মনোভাবটা এমন ছিল যে, ভারতকে আমাদের হারাতেই হবে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, আর এটা কিংবদন্তিদের খেলা। দুটো দুই রকম প্রতিযোগিতা। কিন্তু তারপরও ভারতের সঙ্গে খেলাটা খুব কঠিন। সবচেয়ে বড় কথা, ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে জিতেছি, আবার এত দিন পরও জিতেছি।'
কোন জয়টি তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ- ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের জয়, নাকি এবারের জয়? এমন প্রশ্নে রফিক দুটিকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তার ভাষায়, 'দেখেন, দুটোই ভালো। ওটা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের জন্য অনেক দরকার ছিল, আবার এটাও কিংবদন্তিদের জন্য জেতার দরকার ছিল।'
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হতাশার বড় কারণ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটির কথা বলেছেন রফিক। ৯ অক্টোবর শারজায় প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২১৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। রনি তালুকদার ৯৬ এবং মাহমুদউল্লাহ ৪৩ রান করেন। কিন্তু চ্যাডউইক ওয়ালটনের অপরাজিত ৯০ রানের ইনিংসে পাঁচ উইকেটের জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রফিকের মতে, ওই ম্যাচে কয়েকটি ক্যাচ নিতে পারলে ফল অন্য রকম হতে পারত।
তিনি বলেন, 'ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমরা ২১৮ রান করেও জিততে পারিনি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। অনেক ক্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। ক্যাচগুলো ধরতে পারলে চার ম্যাচের মধ্যে অন্তত দুটো জিততে পারতাম।'
দলের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট নন রফিক। তার মতে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে দল গঠন করায় প্রত্যাশিত প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী বছর আবার টুর্নামেন্ট হলে আরও আগে থেকে পরিকল্পনা করে শক্তিশালী দল গড়ার আশা করছেন তিনি।
রফিক বলেন, 'খুব তাড়াহুড়ো করে এই দলটা বানানো হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী বছর যদি হয়, আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি নেব, আরও ভালো দল বানাব। আমরা মনে করি, সামনে আরও ভালোভাবে লড়াই করতে পারব।'