নাহিদের বাউন্সারে ৫ মিনিট ‘জোন আউট’ ছিলেন সেঞ্চুরিয়ান আজান

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
আজান আসওয়াইস (বামে) ও নাহিদ রানা (ডানে)
আজান আসওয়াইস (বামে) ও নাহিদ রানা (ডানে)
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইমাম উল হকের ওপেনিং সঙ্গী হিসেবে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট নেমেছিলেন আজান আওয়াইস। স্বপ্ন পূরণের ম্যাচ হওয়ায় শুরুতে খানিকটা সময় নিচ্ছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের সপ্তম ওভারে নাহিদ রানার হাতে বল তুলে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই বাউন্সার মারেন নাহিদ।

বাংলাদেশের তারকা পেসারের ১৪০.৯ কিলোমিটার গতির বাউন্সার বুঝে উঠতে পারেননি আজান। নাহিদের গতিময় ডেলিভারি আঘাত হাতে ২১ বছর বয়সী পাকিস্তানি ব্যাটারের হেলমেট। তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তান দলের ফিজিও মাঠে প্রবেশ করে তরুণ ওপেনারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক না হওয়ায় কনকাশন সাবের প্রয়োজন হয়নি। পরবর্তীতে অনায়াসে খেলেছেন তিনি।

নাহিদের সেই বাউন্সার নিয়ে আজান বলেন, ‘আমি নার্ভাস ছিলাম না তবে বল যখন হেলমেটে লেগেছে তখন আমি প্রায় ৫ মিনিটের জন্য অন্যমনস্ক হয়ে গেছিলাম। তখন আমি চিন্তা করেছি এখন দেখানোর সময় তুমি (আজান আসওয়াইস) কে। আমি সেটাই করেছি।’

২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় আজানের। অল্প সময়ের মধ্যেই সাদা পোশাকের ক্রিকেটে নিজের জাত চিনিয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। অভিষেকের পর থেকে এখনো পর্যন্ত ৩৩ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যেখানে ৪৮.৬০ গড়ে ২ হাজার ৬৭৩ রান করেছেন আজান। ৯ হাফ সেঞ্চুরির বিপরীতে ১০টি সেঞ্চুরি আছে তার। এমনকি ডাবল সেঞ্চুরিও করেছেন ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

এমন পারফরম্যান্সের পরই পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা মেলে আজানের। বাংলাদেশ সফরে আসার আগে করাচিতে কয়েক দিনের ক্যাম্প করেছেন সরফরাজ আহমেদের অধীনে। আজান জানান, ক্যাম্পের সময়ই বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আজান বলেন, ‘গত দেড়-দুই বছরে আমি ৩৩টা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছি এবং খুব ভালো পারফর্ম করেছি। আমার স্বপ্ন ছিল টেস্ট খেলা। আমি যখন ক্যাম্পে ছিলাম তখন কোচরা আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। তখনই আমি বুঝতে পেরেছি আমার স্বপ্ন ‍পূরণ হতে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি।’

পাকিস্তানের জার্সিতে অভিষেকেই বাজিমাত করেছেন আজান। পাকিস্তানের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ১৫৩ বলে সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি ওপেনার শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ১০৩ রানের ইনিংস খেলে। শুরুতে খানিকটা নার্ভাস থাকলেও দলের জন্য অবদান রাখতে পারায় খুশি তিনি।

নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে আজান বলেন, ‘আমার জন্য দারুণ একটা অনুভূতি। আমি জানি এটা আমার অভিষেক ম্যাচ। আলহামদুলিল্লাহ, দেশের জন্য আমি পারফর্ম করতে পেরেছি। বিশেষ করে আমি যখন ব্যাটিং করতে যাচ্ছিলাম তখন আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, দলের জন্য আমি ভালো করতে পেরেছি।’

ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে আজানের বাবার বড় অবদান আছে। সাপোর্ট করার পাশাপাশি কোচিংও করিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তাকে নিয়ে কাজ করেছেন কোচ মনসুর আজাদ। গত যুব বিশ্বকাপের সময় পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন আজান। ক্যারিয়ারের নানান বাঁকে যারা তার টেকনিকের উন্নতিতে কাজ করেছেন তাদের ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি।

আজানের ভাষ্যমতে, ‘আমার বাবা আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে এবং কোচিং করিয়েছে। এরপর আমি একজন কোচ পাই মনসুর আমজাদ। ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন কোচ মিলে। বিশ্বকাপে যেমন ইউসুফ ভাই ছিলেন। যারা কিনা আমার টেকনিক ভালো করে দিয়েছেন। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

আরো পড়ুন: