‘আমরা দুই-একটা ম্যাচ দেখেই খেলোয়াড়দের সাফল্য বিচার করি’

ছবি: ক্রিকফ্রেঞ্জি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০১৬ ও ২০১৭ সালে খুলনা টাইটান্সের হয়ে খেলেছিলেন আরিফুল হক। টানা দুই মৌসুমেই দুইশ'র বেশি রান করেছিলেন তিনি। বেশ কয়েকটি চল্লিশ পেরোনো ইনিংস খেলায় পরের বছর জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকও হয়ে যায় আরিফুল। ঘরোয়াতে নিয়মিত রান করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে ব্যর্থতা সঙ্গী করে ছিটকে গেছেন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই। এমন ঘটনা শুধু আরিফুলের সঙ্গেই ঘটেনি।
মনোবিদ স্কটের বিকল্প খুঁজছে বিসিবি
৯ ঘন্টা আগে
রনি তালুকদার, আবু হায়দার রনি, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, ইয়াসির আলী রাব্বিরাও আছেন সেই তালিকায়। যাদের কয়েকটি ইনিংসে দেখেই সবার চাওয়ার ভিত্তিতে নির্বাচকরাও জাতীয় দলে ডেকে নেন। তবে তাদের কেউই ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন জাতীয় দলে ঘটাতে পারেননি। আবার অনেকে আছেন ঘরোয়াতে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, বছরের পর বছর রানও করেও বাংলাদেশ দলে এসেছেন। যার সবশেষ উদাহরণ এনামুল হক বিজয়।
বিপিএলের সবশেষ আসরে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে দুই হাফ সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরিতে ৩৯২ রান করেছিলেন। কদিন পরেই শুরু হওয়া ডিপিএলে তো রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন। গাজী ক্রিকেটার্সের হয়ে ১৪ ম্যাচে ৭৯.৪৫ গড়ে ৮৭৪ রানে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। তবে টানা কয়েক ম্যাচে সুযোগ পেলেও ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। ঘরোয়াতে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে জাতীয় দলে এলেও সেটা কাজে দেয় না তাঁর প্রমাণই হচ্ছেন বিজয়। সেটা প্রমাণ করে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট কতটা পিছিয়ে।

লাল বলের ক্রিকেটেও খেলতে চান সৌম্য
৩ আগস্ট ২৫
সোহেল মনে করেন, ঘরোয়াতে প্রতিযোগিতা বাড়লেই কেবল তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করবে। বিসিবির এই কোচ বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে জাতীয় দলে সুযোগ পেতে চায়, তখন তার গড় ভালো হওয়া প্রয়োজন। তাকে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে হয়। তবে আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত... আমরা সাধারণত এক-দুটি ম্যাচ দেখেই খেলোয়াড়দের সাফল্য বিচার করি। খেয়াল করে দেখবেন আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা কম। আমাদের যখন ধারাবাহিকতা বাড়বে এবং ঘরোয়াতে যদি প্রতিযোগিতা বাড়ে তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তারা...(ভালো করবে)।’
ঘরোয়াতে একটা কিংবা দুইটা একশ রানের ইনিংস যে বলার মতো কিছুই না ভারতকে দিয়ে সেটার উদাহরণ দিয়েছেন সোহেল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটার জন্য আমাদের সংস্কৃতি থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে আমরা কিভাবে একজন খেলোয়াড়কে মূল্যায়ন করি? আপনি যদি ভারতে দেখেন সেখান ঘরোয়া ক্রিকেট খুবই প্রতিযোগিতামূলক—তাদের ওইখানে একটা একশ কিংবা দুইশ রানের ইনিংস কোনো ব্যাপার না। আমাদের দেখা যায় একটা রান (সেঞ্চুরি) করলাম আমরা খেলোয়াড়রাও মানসিকভাবে সন্তুষ্ট হয়ে যাই, কোচ কিংবা আপনারাও। ঘরোয়া ক্রিকেটে কতটা ধারাবাহিকভাবে রান করছে সেটা আমাদের দেখতে হবে।’
কয়েকদিন আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিডসে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন ঋষভ পান্ত। দুই সেঞ্চুরির পরের টেস্টে পেয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরিও। লর্ডসেও পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস আছে পান্তের। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অবশ্য এমন কিছু দেখা যায় না। যেমন সবশেষ শ্রীলঙ্কা সফরে গল টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে পরের টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যর্থ ছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন টেস্ট অধিনায়ক। সোহেল জানান, বাংলাদেশের ব্যাটারদের এখান থেকে বের করার চেষ্টা করছেন।
বিসিবি এই কোচ বলেন, ‘বড় রান করা, ব্যাক টু ব্যাক রান করা এগুলো কিন্তু অভ্যাসের ব্যাপার। এটা এমন না যে এক টেস্টে আমি দুইটা একশ মেরেছি বলে পরের ইনিংসে আমি রান করতে পারব না। এগুলো আমরা খেয়াল করিছি এবং সাথে সাথে এই বিষয়ে কথাও হচ্ছিল যে একটা ছেলে যখন দুই ইনিংসে একশ মেরেছে তখন পরের টেস্টেও তার রান করা উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের এরকম উদাহরণ নেই। কিন্তু ভারতে এসব উদাহরণ আছে। আমরা ওইখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের তাদেরকে ওইভাবে অনুশীলন করার চিন্তা করছি।’