‘কোচ-অধিনায়ককে সাইজ করে কীভাবে ভালো পারফরম্যান্স আশা করেন?’

এশিয়ান গেমস
সারোয়ার ইমরান, ফাইল ছবি
সারোয়ার ইমরান, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
এশিয়ান গেমসে গত আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এবার সেই পাকিস্তানের কাছেই ৩১ রানে হেরে পদকশূন্য থাকতে হলো নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। ১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১১৪ রানে। ব্যর্থতার পর দল নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোচ ও অধিনায়ককে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রভাবের কথাও সামনে আনলেন প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান।

এশিয়া কাপ থেকেই দলের সমস্যার শুরু বলে মনে করেন সারোয়ার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘনিষ্ঠ ম্যাচে হারের পর নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পড়তে হয় দলকে। এরপর ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দলের বিপক্ষেও প্রত্যাশিত রান করতে না পারার প্রভাব এখনো দল বয়ে বেড়াচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

সারোয়ার বলেন, ‘আমাদের সমস্যার শুরুটা হয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। হারার পর থেকে আমাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খবর-টবর হয়েছে। এমনকি ইন্দোনেশিয়া-আরব আমিরাতের মতো দলের সঙ্গে আমরা ১২০-৩০ করতে পারিনি। এটা এখনো ক্যারি করছি আমরা এশিয়ান গেমসে।’

এশিয়া কাপের ব্যর্থতার পর জ্যোতির অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। একই সময়ে সারোয়ার ইমরানের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি নবায়ন হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। কোচের মতে, টুর্নামেন্ট চলার সময় এমন পরিস্থিতি দলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এটা হয়তো টিমের ওপর, প্লেয়ারদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আমার মনে হয়, এটা একটা কারণ হতে পারে। আমরা কিন্তু পারছি না, কোনোভাবেই ওই লেভেলে যেতে পারছি না। যে কোনো টিম ছয় মারছে সহজেই, আমাদের টিম কিন্তু ছয় মারতেই পারছে না। যে আগে মারতো সেও এখন আগের জায়গাতে নেই।’

এরপরই টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোচ ও অধিনায়ককে নিয়ে সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তুলেছেন সারোয়ার। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালীন এটা হতে পারে না। আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনদের আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি ভালো পারফরম্যান্স আশা করেন?’ দুই বছরের চুক্তিতে থাকা সারোয়ারের মেয়াদ চলতি অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে জ্যোতির অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণার পর এশিয়ান গেমসে সেটিই তার শেষ টুর্নামেন্ট হয়ে দাঁড়াল।'

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের বড় সমস্যাগুলোর একটি হিসেবে ছক্কা মারার সক্ষমতার ঘাটতিও তুলে ধরেছেন সারোয়ার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে চার-ছক্কার মাধ্যমে দ্রুত রান তোলাই গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটিং সেই জায়গায় পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন তিনি। নারী ক্রিকেটের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও বলেছেন এই কোচ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নারী ক্রিকেট একটি জায়গায় আটকে রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় নারী স্কুল ক্রিকেট চলছে, শত শত খেলোয়াড় খেলছে। আমাদের কিন্তু ও রকম স্ট্রাকচার নেই। নতুন খেলোয়াড় নেই, আমরা ৩০ জনের বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না যে ডাকব।’

২০১০ ও ২০১৪ এশিয়ান গেমসে রৌপ্য জেতার পর গত আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। এবার সেই পাকিস্তানের কাছেই হারতে হলো ৩১ রানে। ফলে পদক ছাড়াই এশিয়ান গেমস শেষ হলো জ্যোতিদের। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি টুর্নামেন্ট চলাকালীন কোচ ও অধিনায়ককে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে।

আরো পড়ুন: