ভারতের সঙ্গে লড়াই জমাতে পারল না বাংলাদেশ

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
আইসিসি
আইসিসি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
মারুফা আক্তারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন শেফালি ভার্মা। ডানহাতি ওপেনারের ব্যাট ছুঁয়ে বল উইকেটের পেছনে গেলেও সেটা লুফে নিতে পারেননি নিগার সুলতানা জ্যোতি। জীবন পেয়ে বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে ঝড় তুললেন শেফালি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পেলেন হাফ সেঞ্চুরিও। পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে ভারতের জয়ের নায়কও বনে গেলেন শেফালি। সেই ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। শেষের বেলায় ভারতের কয়েকটি উইকেট নেওয়া গেলেও জয়ের সুযোগ তৈরি করা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা। এখনো পর্যন্ত চার ম্যাচের দুইটিতে জয় পেয়েছেন জ্যোতিরা। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ সাউথ আফ্রিকা। এদিকে বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো ভারত।

ম্যানচেস্টারে রান তাড়ায় বাংলাদেশের বোলারদের উপর তাণ্ডব চালাতে থাকেন শেফালি। মারুফার পর সানজিদা আক্তার মেঘলার উপরও চড়াও হন ডানহাতি এই ওপেনার। যদিও প্রথম ওভারেই ফিরতে পারতেন তিনি। মারুফার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেও সেটা লুফে নিতে পারেননি জ্যোতি। জীবন পেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন শেফালি। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি স্মৃতি মান্ধানা।

মারুফার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে রাবেয়া আক্তারের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ৬ বলে ৮ রান করে ফিরতে হয় ভারতীয় ওপেনারকে। স্মৃতি ফিরলেও শেফালির ঝড়ো ব্যাটিং থামানো যায়নি। শেফালির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে এক উইকেটে ৬৩ রান তোলে ভারত। একটু পর রাবেয়ার বলে চার মেরে ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন শেফালি। যদিও পঞ্চাশের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি।

নাহিদা আক্তারের বলে স্টাম্পিং হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। ৮ চারও এক ছক্কায় ৩৪ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে। দলের রান একশ হওয়ার আগে ফিরেছেন স্বস্তিকা ভাটিয়াও। নাহিদার বলে কভারের উপর দিয়ে খেলতে গিয়ে রাবেয়ার হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। বাঁহাতি ব্যাটার আউট হয়েছেন ২৩ রানে। লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে ফিরতে হয় রিচা ঘোষকে। ১০ রান করা ভারতীয় ব্যাটারকে ফেরান রাবেয়া।

শুরুতেই ফিরতে পারতেন জেমিমাহ রদ্রিগেজ। তবে সহজ সুযোগ পেয়েও তাকে রান আউট করতে পারেননি নাহিদা। জীবন পেয়ে আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে ১৫ বলে ২৬ রান করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। রিতু মনি যখন জেমিমাহকে ফেরালেন ততক্ষণে ভারত জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেছে। শেষ পর্যন্ত দীপ্তি শর্মা ও হারমানপ্রীত কৌর মিলে ভারতের জয় নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশের হয়ে দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন রিতু ও নাহিদা।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দিলারা আক্তারের উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। রেনুকা সিংয়ের শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে শ্রী চারানির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন দিলারা। ৮ বলে ৪ রান করে ফিরেছেন ডানহাতি এই ওপেনার। পাওয়ার প্লেতে আরও কয়েকটি উইকেট হারাতে পারতো বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে চারটি ক্যাচ উঠলেও সেগুলো লুফে নিতে পারেনি ভারত।

পাওয়ার প্লের বাকিটা সময় অনায়াসে কাটিয়েছেন জুয়াইরিয়া ও সোবহানা। তাদের দুজনের ব্যাটিংয়ে ১ উইকেটে ৪০ রান তোলে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে শেষে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন তারা দুজন। তবে জুয়াইরিয়াকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নন্দিনী শর্মা। ডানহাতি পেসারের বলে সোজা ব্যাটে খেলতে গিয়ে তারই হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ৫ চারে ৩১ বলে ৩৩ রান করে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশের ওপেনারকে।

বাংলাদেশের রান বাড়ানোর চেষ্টা করলেও একটু পরই ফিরতে হয় সোবহানাকে। রাধা যাদবের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় ২৬ বলে ২২ রান করা সোবহানাকে। এরপর বাংলাদেশের হাল ধরেন জ্যোতি। ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুও পেয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

যদিও যখন রান তোলা প্রয়োজন তখনই ডাউন দ্য উইকেটে এসে বড় শট খেলার চেষ্টায় আউট হয়েছেন তিনি। ২৭ বলে ৩২ রান করেছেন জ্যোতি। শেষের দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তা ১২ বলে ১০, রিতু ৪ বলে ৮ এবং স্বর্ণা আক্তার ১০ বলে ১৩ রান করেছেন। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৩৬ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ভারতের মেয়েদের হয়ে রাধা তিনটি ও চারানি দুইটি উইকেট নিয়েছেন।

আরো পড়ুন: