বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড সিরিজ • সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম

IRE
286/10 & 86/5 (29.0 ov)
BAN
587/8 d

দিনের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরলেন জয়

তৃতীয় দিনের সকালটা অসাধারণভাবে শুরু করেছে আয়ারল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারেই মাহমুদুল হাসান জয়কে সাজঘরে ফিরিয়েছেন তারা। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের করা ওভারের তৃতীয় বলে উইকেটরক্ষক লরকান টাকারকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন জয়। তার অফ স্টাম্পের বাইরে তাক করা শর্ট লেংথের লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিটি ব্যাটের কানায় লাগে জয়ের। পা বাড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। পেছনে ক্যাচ লুফে নিতে ভুল করেননি টাকার।


ফেরার আগে ২৮৬ বলে ১৭১ রানের ইনিংস খেলেন জয়। ইনিংসটি ১৪টি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো ছিল। তার বিদায়ে ২৭২ বলে করা ১৭৩ রানের জুটিটি ভাঙে।

জয়ের পেছন পেছন সাজঘরে মুমিনুল, হলো না সেঞ্চুরি

জয়ের পেছন পেছন সাজঘরে ফিরে যান মুমিনুল হকও। হলো না তার সেঞ্চুরি। ম্যাকব্রাইনের পরের ওভারের প্রথম বলে অ্যান্ডি বালবির্নিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মুমিনুল। ম্যাকব্রাইনের আরেকটি লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মুমিনুল।


মুমিনুলের ইনিংসটি সাজানো ছিল পাঁচটি চার আর দুটি ছক্কায়। ১৩২ বলে ৮২ রান করেন তিনি। ৩৪৬ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৮৯.৪ ওভারে সাড়ে তিনশর গণ্ডি পার করে বাংলাদেশ।

শান্ত-মুশফিক জুটির পঞ্চাশ, বাংলাদেশের চারশ

জয়-মুমিনুলের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। দুজনেই দেখেশুনে খেলে দলের রান বাড়াতে থাকেন। শান্ত কিছুটা ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালালেও বরাবরের মতই টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে গেছেন মুশফিক।


বরাবর ১০০তম ওভারে জুটির হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে শান্ত-মুশফিক। ১০০.৪ ওভারে মুশফিকের চারে বাংলাদেশ চারশ রানের গণ্ডি স্পর্শ করে।


৫৩ বলে শান্তর হাফ সেঞ্চুরি

৫৩ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। টেস্টে এটি তার ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি। এই ফরম্যাটে তার সেঞ্চুরি আছে সাতটি।

ধীরে সুস্থে খেলতে খেলতে আউট মুশফিক

১০৬তম ওভারে মুশফিকুর রহিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ধীরে সুস্থে খেলছিলেন ৯৯তম টেস্ট খেলতে নামা এই ব্যাটার। মারার বলেও ডিফেন্স করছিলেন তিনি। অপরপ্রান্তে শান্ত ওয়ানডে মেজাজে খেলায় দলের রান বাড়তে থাকে।


অবশেষে ম্যাথু হামপ্রেইসের বলে ফিরে যান তিনি। তার টার্ন করা ডেলিভারি ভুল লাইনে ডিফেন্স করেছিলেন মুশফিক। গালি অঞ্চলের কাছাকাছি ক্যাচ উঠে গেলে তা লুফে নেন অ্যান্ডি বালবির্নি। ফিরতে হয়ে মুশফিককে। ৫২ বলে তিনটি চারে ২৩ রান করেন এই ব্যাটার। মুশফিক ফেরায় শান্তর সঙ্গে তার ১০৩ বলে ৭৯ রানের জুটিটি ভাঙে।

প্রথম সেশনে বাংলাদেশের নায়ক শান্ত, আয়ারল্যান্ডের ম্যাকার্থী

শেষ হয়েছে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন। এই সেশন ভাগাভাগি করেছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। আরও সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে শান্ত এবং ম্যাকার্থী ছিলেন দুই দলের উল্লেখ করার মতো পারফর্মার। দিনের শুরুতে চটজলদি জয় এবং মুমিনুলকে ফেরান ম্যাকার্থী। জয় ডাবল সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল সেঞ্চুরি পাননি।


অপরদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছেন শান্ত। মুশফিকের সঙ্গে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। সবমিলিয়ে প্রথম সেশনে খেলা হয়েছে ২৬ ওভার। বাংলাদেশ তিন উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান তুলেছে। ১১১ ওভারে চার উইকেটে ৪৪৭ রান করেছে বাংলাদেশ।

শান্ত-লিটনের ব্যাটে রান বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ, জুটির পঞ্চাশ

১১৪.৪ ওভারে ৫৫ বলে জুটির পঞ্চাশ রান পূরণ করেন শান্ত ও লিটন। মুশফিক ধীরে সুস্থে খেলে ফিরে গেলেও উইকেটে এসে দ্রুত রান তুলছেন লিটন। শান্তও হাফ সেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।


বাংলাদেশের ৫০০, সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে শান্ত

১১৭.৩ ওভারে দলীয় পাঁচশ রান স্পর্শ করে বাংলাদেশ।

শান্তর মতো ৫৩ বলে লিটনের হাফ সেঞ্চুরি

দলীয় পাঁচশ রানের একটু পরই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। টেস্টে এটি তার ১৯তম হাফ সেঞ্চুরি। ৫১তম বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। অপরদিকে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় শান্ত। আছেন ৮৮ রানে।

আগ্রাসী খেলতে থাকা লিটন ফিরলেন

আগ্রাসী খেলতে থাকা লিটন ফিরে যান ৬৬ বলে ৬০ রান করে। হামপ্রেইসের টসড আপ ডেলিভারিতে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে হ্যারি টেক্টরের মুঠোয় ধরা পড়েন লিটন। বলটি 'নো ম্যানস ল্যান্ডে' পরতো, যদিও দৌড়ে দিয়ে লাফিয়ে দারুণ একটি ক্যাচ নেন টেক্টর।


লিটনের বিদায়ে ভাঙল ১০৭ বলে ৯৮ রানের জুটি। ৫২৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

অধিনায়ক শান্তর আরো একটি সেঞ্চুরি

অসাধারণ খেলতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। ১১২ বলে আসে তার এই সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের লিড আড়াইশ ছাড়িয়েছে।


অধিনায়ক হিসেবে এটি শান্তর চতুর্থ সেঞ্চুরি, চলতি বছর তৃতীয়। এই ইনিংস খেলার পথে অধিনায়ক হিসেবে এক হাজার রান পূরণ করেছেন শান্ত।

সেঞ্চুরি করেই ফিরলেন শান্ত

সেঞ্চুরি করেই ফিরে গেলেন শান্ত। অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের গুড লেংথে করা ডেলিভারি দারুণভাবে স্কিড করে। সেটি ফ্লিক করতে গিয়ে লাইন মিস করেন শান্ত। বল তার প্যাডে লাগে, আম্পায়ার আউট দেন।


রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি বাংলাদেশের অধিনায়ক। লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হওয়ার আগে ১১৪ বলে ১০০ রান করেন তিনি। ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪টি চারে। ৫৪৫ রানে শান্তর উইকেট হারায় বাংলাদেশ।


১২৯.৪ ওভারে ৫৫০ রান স্পর্শ করে বাংলাদেশ।

হামপ্রেইসের বলে ফিরলেন মিরাজ

হামপ্রেইসের চতুর্থ শিকার হয়ে ফিরেছেন মিরাজ। তার লেংথ ডেলিভারিতে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হন মিরাজ। ক্যাচটি নেন হামপ্রেইস নিজেই। ৩৩ বলে ১৭ করেন মিরাজ। ৫৬১ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।



দ্বিতীয় সেশনেও সমানে সমান লড়াই

দ্বিতীয় সেশনে খেলা হয়েছে ২৭ ওভার। এ সময়ে বাংলাদেশ রান নিয়েছে ১২৮। উইকেট পড়েছে তিনটি। ১৩৮ ওভারে সাত উইকেটে ৫৭৫ রান করে চা-বিরতিতে গেল বাংলাদেশ, লিড ২৮৯ রানের।


ইনিংস ঘোষণা করল বাংলাদেশ

আট উইকেটে ৫৮৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করল বাংলাদেশ। হাসান মুরাদ ২৬ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান। হামপ্রেইসের পাঁচ নম্বর শিকার তিনি।


হাসান মাহমুদ ২৮ বলে ১৩ এবং নাহিদ রানা ছয় বলে চার রানে অপরাজিত থাকেন।

কারমাইকেলকে বোল্ড করলেন নাহিদ

প্রথম ইনিংসে ১২৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ক্যাড কারমাইকেল। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে জ্বলে উঠতে পারলেন না তিনি। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে নাহিদ রানার গুড লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন কারমাইকেল। ৮ বলে ৫ রান করেছেন তিনি।

শান্তর থ্রো'তে রান আউট হয়ে ফিরলেন স্টার্লিং

তাইজুলের বলে লিটন স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হারান, সেই বলে স্টার্লিংকে রান আউট করে বাংলাদেশ। স্লিপে থাকা শান্ত বল ছুঁড়ে দিলে উইকেট ভাঙেন লিটন। স্টার্লিংয়ের ব্যাট লাইনের ওপর থাকায় টিভি আম্পায়ার আউট ঘোষণা করেন।


৬১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। স্টার্লিং করেন ৫৯ বলে ৪৩ রান। ইনিংসে ছিল সাতটি চার।

ধৈর্য নিয়ে খেলতে থাকা টেক্টরকে ফেরালেন তাইজুল

ধৈর্য নিয়ে খেলতে থাকা টেক্টরকে ফেরালেন তাইজুল। হ্যারি টেক্টরকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। ফেরার আগে রিভিউ নষ্ট করেন টেক্টর। ৬৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। টেক্টর ফিরে যান ১৮ রান করে।

ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, দরকার ৫ উইকেট

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে জেতার অপেক্ষায় বাংলাদেশ দল। ম্যাচ জিততে শেষ দুই দিনে টাইগারদের দরকার ছয় উইকেট। মাহমুদুল হাসান জয় এবং মুমিনুল হকরা ডাবল সেঞ্চুরি এবং সেঞ্চুরি মিস করলেও ম্যাজিকাল ফিগারটি ঠিকই স্পর্শ করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সঙ্গে লিটন দাসের ওয়ানডে মেজাজে খেলা হাফ সেঞ্চুরিতে আট উইকেটে ৫৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে পাঁচ উইকেটে ৮৬ রান করেছে আয়ারল্যান্ড। ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনো ২১৫ রান দরকার তাদের।