ইংল্যান্ড লায়ন্সের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলেন ফ্লিনটফ

ইংল্যান্ড ক্রিকেট
অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, ফাইল ফটো
অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর ইংল্যান্ড লায়ন্সের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার এবার কোচিং ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি থান্ডারের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড লায়ন্সের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফ্লিনটফ। তাঁর অধীনে ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচদেরও উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের পর নিজের সময়ের কথা স্মরণ করে সন্তুষ্টিই জানিয়েছেন তিনি।

দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফ্লিনটফ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি লায়ন্সের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের সেরা তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি শুধু আনন্দই পাইনি, তাদের উন্নতি দেখেও গর্বিত হয়েছি।’

লায়ন্সের কোচিং স্টাফদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফ্লিনটফ। বিশেষ করে এড বার্নি ও ইংল্যান্ডের পুরুষ ক্রিকেটের পারফরম্যান্স পরিচালক রব কির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কোচ ও স্টাফদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রতিদিন তারা যে নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, তা অসাধারণ। বিশেষ করে এড বার্নির সঙ্গে কাজ করতে আমি খুব উপভোগ করেছি। আর ইংল্যান্ড ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমার ওপর আস্থা রেখে দেওয়ার জন্য রব কিকেও ধন্যবাদ। বছরের শেষ দিকে থান্ডারের সঙ্গে কাজ শুরু করতে আমি মুখিয়ে আছি। কোচিং আমাকে কোথায় নিয়ে যায়, সেটি দেখার জন্যও অপেক্ষা করছি।’

ফ্লিনটফের বিদায়ের ঘোষণা এসেছে সিডনি থান্ডারের সঙ্গে তাঁর চুক্তির প্রায় দুই মাস পর। বিগ ব্যাশ লিগের আসন্ন মৌসুমে থান্ডারের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে এটিই হবে তাঁর প্রথম পূর্ণকালীন কোচিং দায়িত্ব।

ইংল্যান্ড লায়ন্সে ফ্লিনটফের কাজের প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পুরুষ দলের পারফরম্যান্স পরিচালক এড বার্নি। তাঁর মতে, ফ্লিনটফ লায়ন্সের পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন এবং তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বার্নি বলেন, ‘ফ্রেড লায়ন্সের পরিবেশ বদলে দিতে সাহায্য করেছেন। এমন একটি কার্যক্রম তৈরি করেছেন, যা তরুণ ক্রিকেটারদের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে যেতে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে তিনি খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়েছেন।’

ফ্লিনটফের অধীনে লায়ন্সের কোচরাও নিজেদের আরও বিকশিত করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান বার্নি। তিনি বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে কাজ করে কোচরাও উন্নতি করেছে। কেউ কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিল, আবার কারও কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা ছিল। ফ্রেড সব সময় দলের আশপাশের সবার দক্ষতাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগিয়েছেন। তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য আমরা শুভকামনা জানাই। ভবিষ্যতে তাঁকে আবার ইংল্যান্ড ক্রিকেটে দেখতে চাই।’

ফ্লিনটফের বিদায়ের পর আপাতত ইংল্যান্ড লায়ন্সের দায়িত্ব সামলাবেন মাইক ইয়ার্ডি। আগামী ১২ আগস্ট বেকেনহ্যামে শুরু হতে যাওয়া চার দিনের ম্যাচে প্রফেশনাল কাউন্টি ক্লাব সিলেক্ট একাদশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে লায়ন্সকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

আরো পড়ুন: