গত ৫ এপ্রিল স্থানীয় দুই দলের ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন ডোলা অজিত বাবু ও তার বন্ধু বুদুমুরি চিরঞ্জীবী। খেলা স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু একটি রান আউটের সিদ্ধান্ত ঘিরে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন আম্পায়াররা। যদিও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, খেলা শুরু হওয়ার কিছু পরেই কান্তা কিশোর নামে এক দর্শক খেলোয়াড় ও আম্পায়ারদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষায় চিৎকার করতে শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সমস্যা মেটাতে ওই দর্শক নিজেই দুই আম্পায়ারকে তাঁর কাছে ডাকেন।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, 'পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অজিত ও চিরঞ্জীবী তাঁর কাছে গেলে সেখানে আরও কয়েকজন জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ই ছিলেন। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।'
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রান আউটের সিদ্ধান্ত ঘিরে আবারও ঝগড়া শুরু হয়। সেই সময় কান্তা আচমকাই পকেট থেকে ছুরি বের করে অজিতের উপর হামলা চালান। তাকে আটকাতে গিয়ে চিরঞ্জীবী ও এক দর্শকও আহত হন।
গুরুতর জখম অবস্থায় অজিতকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ভয় এবং আতঙ্কে মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যান চিরঞ্জীবী।
অজিতের বাবা ডোলা আপ্পালা রাজু খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ২৬ বছর বয়সী অভিযুক্ত কান্তা কিশোর পলাতক, তাকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।