খরুচে বোলিংয়ে উইকেটশূন্য রিশাদ, পিন্ডিজের হার

পিএসএল
পিএসএল
পিএসএল
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ড্যারিল মিচেল ও স্যামি বিলিংসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজিটা পেয়েছিল পিন্ডিজ। তবে ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়ে জ্বলে উঠতে পারেনি তারা। ডেভিড ওয়ার্নারের সাবধানী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আজম খানের ঝড়ের সামনে খুব বেশি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেননি মোহাম্মদ আমির-রিশাদ হোসেনরা। ওয়ার্নারের হাফ সেঞ্চুরির সঙ্গে আজমের মারকাটারি ব্যাটিংয়ে পিন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে করাচি কিংস। টানা দ্বিতীয় হারের দিনে বল হাতে ভালো করতে পারেননি রিশাদ। প্রথম ২ ওভারে ১২ রান খরচা করা বাংলাদেশি লেগ স্পিনার শেষ দুই ওভারে দিয়েছেন ২৬ রান। সব মিলিয়ে ৪ ‍ওভারে ৩৮ রান দিলেও উইকেটের দেখা পাননি রিশাদ।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু করেছিলেন মুহাম্মদ ওয়াসিম ও ডেভিড ওয়ার্নার। তবে তাদের দুজনের জুটি বড় হতে দেননি নাসিম শাহ। ডানহাতি পেসারের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ১১ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলা ওয়াসিম। দ্বিতীয় উইকেটে ওয়ার্নারকে সঙ্গে নিয়ে করাচিতে টেনেছেন সালমান আলী আঘা।

দেখেশুনে ব্যাটিং করতে থাকা পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে ফেরান মিচেল। ডানহাতি মিডিয়াম পেসারের বলে আউট হয়েছেন ২৪ বলে ২৯ রান করা সালমান। তৃতীয় উইকেটে দারুণ ব্যাটিংয়ে করাচিকে ম্যাচে রাখেন ওয়ার্নার ও আজম । তারা দুজনে মিলে ৪১ বলে ৭৬ রানের জুটি গড়েন। সাবধানী ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ওয়ার্নার। যদিও হাফ সেঞ্চুরির পরই ফিরতে হয়েছে তাকে।

মিচেলের স্লোয়ার ডেলিভারিতে ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে রিশাদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। ৩৬ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেছেন করাচির অধিনায়ক। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন আজম। করাচিকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে ডানহাতি ব্যাটার আউট হয়েছেন ৩৪ বলে ৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। মিচেলের বলে ছক্কা মেরে করাচির জয় নিশ্চিত করেন আব্বাস আফ্রিদি। পিন্ডিজের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন মিচেল।

এর আগে টসে জিতে রাওয়ালপিন্ডিকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় করাচি। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দলটি। দলীয় ৫৫ রানের মধ্যে তারা হারায় উপরের সারির ৩ ব্যাটারকে। এর মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে আউট করে শুরুতেই ধাক্কা দেন হাসান আলী। ২১ রান করা এই ওপেনার হাসানের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে আজম খানকে ক্যাচ দেন। বাকি দুই উইকেট নেন খুশদিল শাহ। এই স্পিনারের বল সুইপ করতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হন ৮ রান করা ইয়াসির খান।

এরপর কামরান গুলাম পুল করতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১০ রান। সেখান থেকেই রাওয়ালপিন্ডির ইনিংস টেনেছেন ড্যারিল মিচেল ও স্যাম বিলিংস। দুজনে মিলে শতরানের জুটি গড়ে রাওয়ালপিন্ডিজের বড় ইনিংস নিশ্চিত করেন। জুটি গড়ার পথে অ্যাডাম জাম্পাকে ডিপ দিয়ে চার মেরে মাত্র ৩৩ বলে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান মিচেল। অন্যদিকে ১৭তম ওভারে আব্বাস আফ্রিদির ওপর চড়াও হয়েছিলেন বিলিংস। সেই ওভারেই ডিপ মিড উইকেট দিয়ে চার মেরে ২৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বিলিংস।

১২০ রানের এই জুটি ভেঙেছে বিলিংসের বিদায়ে। হাসান আলীর বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে ৫৮ রানের ইনিংস। পরের ওভারে মীর হামজার শিকার হন মিচেল। তিনি ডাউন দ্য উইকেটে এসে বড় খেলতে খেলতে গিয়ে ডিপে ক্যাচ দেন মোহাম্মদ ওয়াসিমকে। আর তাতেই শেষ হয় তার ৪১ বলে ৬৫ রানের ইনিংস। হাসান শেষ ওভারে ফিরিয়েছেন কোল ম্যাকনিকে। রিশাদ শেষদিকে নেমে ১ বলে কোনো রান না করেই অপরাজিত থাকেন। আব্দুল্লাহ ফজল খেলেন ৭ বলে ১৮ রানের ক্যামিও। আর তাতেই লড়াইয়ের পুঁজি নিশ্চিত হয়ে যায় রাওয়ালপিন্ডির।

আরো পড়ুন: