সোহানের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে জিতল দুর্বার

অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ
জুটির পথে নুরুল হাসান সোহান ও জাকের আলী, বিসিবি
জুটির পথে নুরুল হাসান সোহান ও জাকের আলী, বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আগের ম্যাচেই দুরন্তকে হারিয়ে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে দারুণ শুরু পেয়েছিল ধুমকেতু। এবার দুর্বারের বিপক্ষে ১৫৭ রানের পুঁজি নিয়েও জয় পায়নি লিটন দাসের দল। শুরুর দিকে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খেয়েছিল দুর্বার। তবে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন নুরুল হাসান সোহান।

বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দুর্বার। তারা ৪৬ রানের মধ্যে হারায় ৪ উইকেট। চতুর্থ উইকেটে একটু হাল ধরার চেষ্টা করেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সোহান। জয় ১৩ রান করে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। এরপর সোহান আরও ৩২ রান যোগ করেন জাকের আলীকে নিয়ে।

জাকেরও বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি সোহানকে। জাকের ফেরেন ১১ রান করে। মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রান করে আউট হয়ে যান। ফলে আবারও বিপর্যয়ে পড়ে দুর্বার। সেখান থেকে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সোহান। তিনি একপ্রান্ত আগলে রেখে ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান।

সাইফউদ্দিনও তাকে যথেষ্ট সঙ্গ দিতে থাকেন। শেষ ৪ ওভারে জিততে ৩৬ রান প্রয়োজন ছিল দুর্বারের। তবে মুস্তাফিজুর রহমান ১৯ রান করা সাইফউদ্দিনকে ফিরিয়ে দিলে শঙ্কা জাগে দুর্বারের জয় নিয়ে। সোহান ছক্কা মেরে ৩৮ বলে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। শরিফুল ইসলামের করা ১৮তম ওভারে ৪ ছক্কায় সোহান নেন ২৬ রান। আর তাতেই ম্যাচ হাতের মুঠোয় চলে আসে দুর্বারের।

সোহান ৪৪ বলে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে শেষদিকে রান আউট হয়েছেন। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৬টি ছক্কা ও চারটি চারে। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে দুর্বারের জয় নিশ্চিত করেন হাসান মাহমুদ। ধুমকেতুর হয়ে একাই ৪ উইকেট নেন শেখ মেহেদী। একটি করে উইকেট পান নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও মুস্তাফিজ।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে দুর্বারের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং ধূমকেতুকে পাঠান ব্যাট করতে। পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যই দাঁড় করায় লিটন দাসের দল। ধূমকেতুর ইনিংসে শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। আগের ম্যাচে অর্ধশতক করা সাইফ হাসান আজ থামেন ২৮ রানে।

যদিও এক প্রান্তে ইনিংস গুছিয়ে খেলেন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ৩৭ বলে ৪৩ রান করে তিনি ছিলেন দলের সর্বোচ্চ স্কোরার। ইনিংসটি সাজান পাঁচটি চারের সাহায্যে। মাঝের ওভারে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও শেষদিকে স্কোর এগিয়ে নেন শেখ মেহেদী ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী।

শেখ মেহেদী ২৭ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন, আর শামীমের ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ১৭ রান। এই দুজনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়েই দেড় শ’ ছুঁতে পারে ধূমকেতু। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে লিটনের দল। দুর্বারের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ ও তানভীর ইসলাম। দুজনই নেন দুটি করে উইকেট। এ ছাড়া আলিস আল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট শিকার করেন।