সুপার ওভারে রংপুরকে হারালো রাজশাহী

বিপিএল
ডেভিড মালান ও লিটন দাস
ডেভিড মালান ও লিটন দাস
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দারুণ উত্তেজনা জমিয়ে দিয়েছিল রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। আগে ব্যাট করে ১৫৯ রান করে রাজশাহী। জবাবে খেলতে নেমে ভালো শুরু পেলেও রাজশাহীর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ টাই করে রংপুর। সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে রংপুর মোটে তুলতে পেরেছে ৬ রান। এর মধ্যে রিপন বোল্ড করেন কাইল মেয়ার্সকে। আর শেষ বলে রান আউট হন খুশদিল শাহ। ৭ রানের লক্ষ্য ৩ বলেই পেরিয়ে যায় রাজশাহী।

আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান করে রাজশাহী। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয়ের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ টাই করে রংপুর। শেষ ওভারে দলটির প্রয়োজন ছিল ৭ রান। প্রথম বলেই খুশদিল শাহ ফিরে গেলে বিপদে পড়ে দলটি।

পরের বলে চার মেরে দলকে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে নেন নুরুল হাসান সোহান। পরের বল হয় ডট। আর চতুর্থ বলে ২ রান নিলে শেষ ২ বলে ১ রান লাগে রংপুরের। তবে সোহান পঞ্চম বলে ৬ রান করে রিপন মন্ডলের বলে ইয়াসির আলী রাব্বিকে ক্যাচ দিলে ম্যাচ জমে যায়। শেষ বলে জিততে এক রান প্রয়োজন তখন রংপুরের। শেষ বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ রান আউট হলে ম্যাচ টাই হয়ে যায়।

মাঝারি লক্ষ্যে খেলতে নেমে রংপুর বেশ দেখেশুনে শুরু করেছিল। ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন দুই ওপেনার ডেভিড মালান ও লিটন দাস। তবে এই দুজনের জুটি জমতে দেননি তানজিম হাসান সাকিব। এই পেসারের বলে টপ এজ হয়ে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ১১ বলে ১৬ রান করা লিটন। নিজের প্রথম বলেই এই ম্যাচে উইকেট নেন তানজিম।

দ্বিতীয় উইকেটে রংপুরের ইনিংস টানেন অভিজ্ঞ মালান ও হৃদয়। মালানকে নিয়ে ৩৫ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান হৃদয়। ৩৯ বলে ৫৩ রান করা হৃদয় স্লগ সুইপ করেছিলেন একদম সীমানায় সেই ক্যাচ ঝাপিয়ে পড়ে দিয়েছেন তানজিদ। ফলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় রংপুর।

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি কাইল মেয়ার্সও। তিনি নাওয়াজের বলে মেহরবকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৯ রান করে। বাকি সময়টায় রংপুরকে আর কোনো চিন্তায় পড়তে হয়নি। ৫০ বলে ৬৩ রান করে অপরাজিত ইনিংস খেলে রংপুরকে জিতিয়ে ফেরেন মালান। শেষদিকে ৭ রান করে ফেরেন খুশদিল। তবে তাতেও জয় তুলে নিতে বেগ পেতে হয়নি রংপুরকে।

রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে শাহিবজাদা ফারহানের হাফ সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কার্যকর ব্যাটিংয়ে ১৫৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় রাজশাহী। এদিন টস জিতে রাজশাহীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় রংপুর। ব্যাটিংয়ে নেমে দলটি শুরুতেই হারায় ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে।

এই ওপেনার মাত্র ২ রান করে ফেরেন। দ্বিতীয় উইকেটে ফারহান ও শান্ত মিলে রাজশাহীর ইনিংস টানেন। দুজনে ৯৩ রানের জুটি গড়েন। অবশ্য শান্ত ৩০ বলে ৪১ রান করে আউট হলে আসা যাওয়ার মিছিলেন নামে রাজশাহীর ব্যাটাররা। ১০৫ থেকে ১৪৩ রানের মধ্যে দলটি ৩৮ রানের ব্যবধানে হারায় ৬ উইকেট।

শান্ত এদিন অদ্ভুতভাবে রান আজুট হয়েছেন ৪১ রান করে। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে ৪৬ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন ফারহান। চার নম্বরে নেমে ব্যর্থ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ১০ বলে ৯ রান করে হতাশ করে ফিরে যান। পাঁচে নামা মোহাম্মদ নাওয়াজ ১১ বলে ১০ রান করেন।

দলটির বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া রাজশাহী শেষ পর্যন্ত থামে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান করে। রংপুর রাইডার্সের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ফাহিম আশরাফ। তিনি একাই শিকার করেন ৩টি উইকেট। এছাড়া ঘূর্ণি জাদুতে আলিস আল ইসলাম ২ উইকেট এবং কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট নেন।

আরো পড়ুন: