প্লে-অফে যেতে কোন দলকে কী করতে হবে
ছবি: সবার আগে প্লে-অফে রংপুর রাইডার্স, ক্রিকফ্রেঞ্জি
এত কিছু ছাপিয়ে সিলেট ও চট্টগ্রাম ঘুরে আবারও ঢাকায় ফিরেছে বিপিএলে। ৭ ফেব্রুয়ারির ফাইনালসহ মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে শেষের ১৪টি ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের এখনও ১০টি ম্যাচ বাকি থাকলেও সেরা চার নিশ্চিত হয়েছে কেবল মাত্র একটি দলের। বাকি ছয় দলের মাঝে ফরচুন বরিশাল ও চিটাগং কিংস প্লে-অফ থেকে এক কদম দূরে। বাকিদের জন্য ঝুলে আছে কিছু সমীকরণ।
রাজশাহীকে সময় বেধে দিয়েছে বিসিবি
১০ ঘন্টা আগেদেখে নেয়া যাক সেরা চারে যেতে কোন দলকে কী করতে হবে—
রংপুর রাইডার্স—
বিপিএলের চলমান আসরে প্রথম আট ম্যাচের সবকটিতে জিতে প্রথম দল হিসেবে সেরা চার নিশ্চিত করেছে রংপুর। তবে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নদের জয়রথ থামিয়েছে দুর্বার রাজশাহী। ৯ ম্যাচে এখন তাদের জয় ৮টিতে। সেরা চার নিয়ে ভাবনা না থাকলেও শীর্ষ এক কিংবা দুইয়ের কথা ভাবতে পারে তারা। সেখানেও খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা না নুরুল হাসান সোহানের দলের। শেষ তিন ম্যাচে রংপুরের প্রতিপক্ষ রাজশাহী, চিটাগং এবং খুলনা টাইগার্স
ফরচুন বরিশাল—
৮ ম্যাচের ছয়টিতে জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে আছে বরিশাল। তামিম ইকবালরা আর একটি ম্যাচ জিতলেই সেরা চারে জায়গা করে নেবে। শেষ চার ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে সিলেট স্ট্রাইকার্স, খুলনা, ঢাকা ক্যাপিটালস ও চিটাগংকে পাচ্ছেন তামিম ইকবালরা। সেরা চারে যেতে খুব বেশি বেগ পেতে না হলেও বরিশাল নিশ্চিতভাবে চাইবে সেরা দুইয়ে থাকতে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলতে পারলে ফাইনালে যেতে দুটি যোগ পাবেন তারা।
চিটাগং কিংস—
সেরা চারে উঠতে চিটাগংকেও খুব বেশি বেগ পেতে হওয়ার কথা না। কোন ধরনের অঘটন না ঘটলে তৃতীয় দল হিসেবে তারাই যাবে প্লে অফে। ৯ ম্যাচের পাঁচটিতে জয় পাওয়া চিটাগং ১০ পয়েন্ট নিয়ে আছে টেবিলের তিন নম্বরে। একটি কিংবা দুটি ম্যাচ জিতলেই প্লে-অফ খেলা নিশ্চিত মোহাম্মদ মিঠুনদের। বরিশালের মতো তারাও প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলার স্বপ্ন দেখতে পারে। সেটার জন্য নিজেদের শেষ তিন ম্যাচে রংপুর, সিলেট, বরিশালকে হারাতে হবে তাদের।
৬ দিনের বিরতিতেই ছন্দ হারিয়েছে রংপুর, দাবি আর্থারের
১১ ঘন্টা আগেখুলনা টাইগার্স—
শেষ ম্যাচে সিলেটকে হারিয়ে রান তাড়ার জুজু কাটিয়েছে খুলনা। মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে পাওয়া জয়ে সেরা চারে জায়গা করে নেয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়েও গেছে তারা। ৯ ম্যাচের চারটিতে জিতে ৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে খুলনা। শেষ তিন ম্যাচে বরিশাল, রংপুর এবং ঢাকাতে হারাতে পারলে তাদের সেরা চার খেলা নিশ্চিত।
দুটি ম্যাচ জিতলেও প্লে-অফে ওঠার সুযোগ থাকবে ইমরুল কায়েস, নাইম শেখ, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনদের। সেক্ষেত্রে রাজশাহীর চেয়ে রান রেটে এগিয়ে থাকতে হবে খুলনাকে। এমনকি একটি ম্যাচ জিতেও সেরা চারে যাওয়া সম্ভব মিরাজদের। সেই সময় অবশ্য রাজশাহী যাতে শেষ দুই ম্যাচে হারে এমন প্রার্থনা করতে হবে খুলনাকে।
দুর্বার রাজশাহী—
পারিশ্রমিক বিতর্কের সঙ্গে বিপিএলের মাঝ পথে অধিনায়ক পরিবর্তন করায় বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না রাজশাহীর। কাগজে-কলমে শক্তিশালী দল গড়তে না পারলেও সেরা চারে যাওয়ার দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই আছেন তাসকিন আহমেদ-এনামুল হক বিজয়। ১০ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচে থাকা রাজশাহীকে শেষ দুুই ম্যাচে খেলতে হবে রংপুর ও সিলেটের বিপক্ষে।
দুটি ম্যাচে জিততে পারলে সেরা চারে খেলার প্রবল সম্ভাবনা থাকবে তাদের। যদিও অনেক কিছু নির্ভর করবে খুলনার ফলাফলের উপর। রাজশাহী দুটি ম্যাচ জিতলে খুলনাকে হারতে হবে দুটি ম্যাচে। আর যদি রাজশাহী একটিতে জয় পায় তাহলে খুলনাকে হারতে হবে সবকটি ম্যাচেই। খুলনা একটি ম্যাচ জিতলেও এক ম্যাচ জিতে সেরা চারে যাওয়ার সুযোগ থাকবে রাজশাহীর।
খুলনা ও রাজশাহীর পয়েন্ট সমান ১০ হলে বিবেচনায় আসবে নেট রান রেট। বর্তমানে চারে থাকা খুলনার নেট রান রেট (-০.১৪৮) আর রাজশাহীর (-১.৪০০)। নেট রান রেটে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় তখন রাজশাহীর চেয়ে খুলনাই এগিয়ে থাকবে সেরা চারে যাওয়ার ক্ষেত্রে।
ঢাকা ক্যাপিটালস—
বিপিএলের শেষ ভাগে এসে জয়ে ফেরা ঢাকার জন্য সেরা চারে যাওয়ার সমীকরণটা বেশ কঠিনই। ১০ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান ছয় নম্বরে। শেষ দুই ম্যাচে তাদের খেলতে হবে বরিশাল ও খুলনার বিপক্ষে। দুটি ম্যাচে জিততে পারলে তাদের পয়েন্ট হবে তখন ১০। এমন অবস্থায়ও সেরা চারে যাওয়া সহজ হবে না তাদের জন্য।
১০ পয়েন্ট নিয়ে তখনই কেবল ঢাকা সেরা চারে যাবে যদি রাজশাহী ও খুলনা তাদের বাকি সবকটি ম্যাচে হেরে যায়। এক ম্যাচ জিতেও সেরা চারে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে ঢাকার। সেক্ষেত্রে রাজশাহী ও খুলনাকে কোন ম্যাচ জয় পাওয়া যাবে না। ঢাকার নেট রান রেট বর্তমানে (-০.১৫৬)। বিপরীতে খুলনা (-০.১৪৮) এবং রাজশাহী (-১.৪০০)।
সিলেট স্ট্রাইকার্স—
কাগজে-কলমে সিলেটের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবিক অর্থে সেটা অনেক কঠিন। ৯ ম্যাচের দুটিতে জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে আরিফুল হক, জাকের আলী, জাকির হাসানরা। শেষ তিন ম্যাচে বরিশাল, রাজশাহী এবং চিটাগংয়ের বিপক্ষে জিততে পারলে তাদের পয়েন্ট হবে ১০। এমন অবস্থায় ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা সবগুলো ম্যাচ হারলেই কেবল যাওয়া সম্ভব। ঢাকা ও খুলনার মাঝে খেলা থাকায় তাদের সবগুলো ম্যাচ হারার সুযোগ নেই। ফলে সিলেটের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।