বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স গ্রাউন্ডে রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের প্রথম বৈধ ডেলিভারিতেই ফেরেন আদিল বিন সিদ্দিক। সৈয়দ আজিজের লেংথ ডেলিভারিতে লেগ বিফোর হয়ে ফেরেন ডানহাতি এই ওপেনার। পরের ওভারের প্রথম বলে আউট হয়েছেন কালাম সিদ্দিকী অ্যালিন। আরিফ উল্লাহর অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের বলে ড্রাইভ করেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
কভারে থাকা কুমার দারুণ ক্যাচ নেওয়ায় ১ রানেই ফিরতে হয় অ্যালিনকে। দুই ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর ইকবাল হোসেন ইমন ও রিজান হোসেন মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। যদিও তাদের দুজনের জুটি খুব বেশি বড় হয়নি। ৫ চারে ২৬ বলে ২৬ রান করে প্রশান্ত মধুকরের বলে বোল্ড হয়েছেন ইকবাল। একই ওভারে আউট হয়েছেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। প্রথম ম্যাচে ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা বাঁহাতি ব্যাটার এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
পঞ্চাশ পার হওয়ার পর আউট হয়েছেন রিজানও। ১৮ রান করা তরুণ অলরাউন্ডারকে ফেরান বিজয় উন্নি। ৫৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশের যুবারা। স্বাগতিকদের সেখান থেকে টেনে তোলেন দেবাশীষ ও পিয়ান। তাদের দুজনের সাবধানী ব্যাটিংয়ে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন দেবাশীষ। যদিও পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
বিজয়ের বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে দেবাশীষ ফিরেছেন ৪১ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। পাঁচটি চারের সঙ্গে চারটি ছক্কাও মেরেছেন তিনি। একটু পর মাহফুজুর রহমান রাব্বিও আউট হয়েছেন। তবে ৭২ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে পিয়ান। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭৬ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে। প্রথম একদিনের ম্যাচেও পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেছিলেন পিয়ান। মালয়েশিয়ার হয়ে দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন প্রশান্ত ও বিজয়।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সফরকারীদের দুর্দান্ত শুরু এনে দেন আসলাম খান বিন মালিক ও সাইফুল্লাহ মালিক। দুজনে মিলে পাওয়ার প্লে অনায়াসে পার করেছেন। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন আসলাম। তাকে ভালোভাবেই সঙ্গ দিয়েছেন সাইফুল্লাহ। যদিও পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি। ৪৯ বলে ২৫ রান করে আউট হয়েছেন পারভেজ জীবনের বলে। প্রথম উইকেট পতনের পরই মালয়েশিয়ার ধস নামে।
আসলাম একপ্রান্ত আগলে রাখলেও বাকিরা সবাই ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। তবে সাবধানী ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করেন তিনি। সেঞ্চুরিয়ান আসলামকেও ফেরান পারভেজ জীবন। এ ছাড়া মুহাম্মদ আমির, আহমদ জুবাইদি ও আজিজের উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি এই স্পিনার। ১০৭ বলে ১০০ রান করেছেন আসলাম। বাকিদের মধ্যে ১৭ রান এসেছে আজাব খানের ব্যাট থেকে। ৫ উইকেট নেওয়া পারভেজের পাশাপাশি দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন রাহিন আহমেদ ও স্বাধীন ইসলাম।