২-১টি হারে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কিছু নেই: আশরাফুল

বাংলাদেশ ক্রিকেট
মোহাম্মদ আশরাফুল, ক্রিকফ্রেঞ্জি
মোহাম্মদ আশরাফুল, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। মূলত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

রোডেশিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস এবং ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে। এরপর সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে বাংলাদেশ হেরেছে যথাক্রমে ২৫ এবং ১৩ রানে। তৃতীয় ওয়ানডেতে সাত উইকেটে জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়ে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজ হার দিয়ে শুরু করে টাইগাররা। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ৩২ রানে। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৪ রানে জিতে যায় তাওহীদ হৃদয়ের দল। শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে চার উইকেটে হারায় তারা।

ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজ হারের কারণ জানাতে গিয়ে আশরাফুল বলেন, 'জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে অতিরিক্ত একটা যে বাউন্স, ওই বাউন্সটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগে গিয়েছে। প্রথম টেস্ট ম্যাচটায় আমরা আসলে ভালো করতে পারিনি। পরে আমাদের তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে আমরা মানিয়ে নিতে পেরেছি।'

বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ আরো বলেন, 'আপনি যদি দেখেন আমাদের ওয়ানডে সিরিজটা আমরা খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলাম কারণ এখানে পয়েন্টের একটা ব্যাপার ছিল। মুস্তাফিজসহ সবাই ছিল, কিন্তু ইনজুরির কারণে মুস্তাফিজ দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে আর খেলতে পারেনি। এ ছাড়া আবহাওয়া ও কন্ডিশন একটা বড় বিষয় (হারের কারণ)।'

জিম্বাবুয়ে পুর্ণাঙ্গ সিরিজ খেললেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। যার কারণে কন্ডিশনে সময় মতো মানাতে পারেনি টাইগাররা, দাবি আশরাফুলের। তিনি বলেন, 'এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলো বেশি হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে আগের মতো প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া যায় না। আগে একটা তিন দিনের বা এক দিনের প্র্যাকটিস ম্যাচ থাকতো, যা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতো।'

'এখন সরাসরি মূল ম্যাচে নেমে পড়তে হয়। আমাদের টেস্ট আর ওয়ানডে টিমের প্লেয়াররা আগে গেলেও সেই প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাটা ছিল না। ওটা হলে হয়তো মূল ম্যাচের ফলাফল আমাদের পক্ষেই থাকতো।'

জিম্বাবুয়ে সফরের কয়েকটি হার টাইগারদের মনোবলে চিড় ধরাবে না বলেই বিশ্বাস আশরাফুলের। এই সফরের অভিজ্ঞতা পরবর্তীতেতে অস্ট্রেলিয়া সফরে এবং ২০২৭ বিশ্বকাপে কাজে লাগবে বলেই প্রত্যাশা তার।

আশরাফুল বলেন, 'জিম্বাবুয়ে সফর আমাদের ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য কাজে দেবে। এ ছাড়া এই সফরটা অবশ্যই আমাদের অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও সাহায্য করবে। এখানকার অতিরিক্ত বাউন্স এবং ভিন্ন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতাটা জরুরি ছিল। জিম্বাবুয়েতে ভিন্ন কন্ডিশনে এক-দুটা ম্যাচ আপনি হারতেই পারেন। গত সাত মাস ধরে তারা যে ভালো ক্রিকেট খেলছে, সেই তুলনায় দুই-একটি হারের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। বরং এটি একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা উচিত।'

'অস্ট্রেলিয়া সফর অবশ্যই কঠিন হবে। তবে একটা ইতিবাচক দিক হলো আমরা প্রায় ১০-১২ দিন আগে যাচ্ছি। সেখানে একটি তিন দিনের প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে আমাদের। আমি আশা করবো সবাই যদি সুস্থ থাকে, তবে আমরা টেস্ট দুটি ম্যাচে ভালো করার চেষ্টা করব।'

আরো পড়ুন: