লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় দলটি। ব্লেসিং মুজারাবানির লাফিয়ে ওঠা বল সামলাতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগান সৌম্য সরকার। স্লিপে ধরা পড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ১০ বলে পাঁচ রান করেন সৌম্য।
সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন ও তানজিদ হাসানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল বাংলাদেশ। তবে সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি।
বল হাতে প্রথম ওভারেই সাফল্য পান ক্রেইগ আরভিন। ১৬ বলে ৯ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান শান্ত। নবম ওভারে দলীয় ৩৮ রানে তার উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দেখতে দেখতে হাফ সেঞ্চুরি করেন তানজিদ। জিম্বাবুয়ের বোলাররা অনেকক্ষণ চেষ্টা করলেও উইকেট পাচ্ছিলেন না। ওপেনার ব্রায়ান বেনেটের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা। ৭০ বলে ৫৭ রান করা তানজিদ স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে তার বলে বোল্ড হয়ে উইকেট ছুঁড়ে দেন। ভাঙে ৮৪ রানের জুটি।
তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন। তবে এই জুটিকে বেশিদূর এগোতে দেননি ব্লেসিং মুজারাবানি। তিনি মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন ৯ বলে ৭ রান করে। এরপর দ্রুত আউট হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেনও। তাকে আউট করেছেন রিচার্ড এনগারাভা। এই পেসারের বলে মিড অনে মুজারাবানির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৭ রান করা মোসাদ্দেক।
এর একটু পর রিচার্ড এনগারাভার শর্ট বল ফাইন লেগের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে বদলি ফিল্ডার রায়ান বার্লের হাতে ধরা পড়েন নুরুল হাসান সোহান।৪১ বলে ছয় চারে ৩৮ রান করে ফেরেন সোহান। তার বিদায়ে ২৬ বলে গড়া ৩১ রানের জুটির সমাপ্তি ঘটে। মিরাজ ৩৩ বলে ২৭ রান করলেও সেটি জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
এর আগে হারারেতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত পঞ্চাশ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান সংগ্রহ করেছে জিম্বাবুয়ে। একসময় দুইশ রানও কঠিন মনে হলেও শেষ পর্যন্ত বেন কারানের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ গড়ে স্বাগতিকরা। কারান অপরাজিত থাকেন ১১১ রানে। আগের ম্যাচে দেড়শ রানের আগেই জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দিয়েও জিততে না পারা বাংলাদেশের সামনে এবার আরও কঠিন লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে।
নতুন বলে দারুণ শুরু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তিনি ফেরান ব্রায়ান বেনেটকে। এরপর তৃতীয় ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়াকেও সাজঘরে পাঠান এই গতিতারকা। নবম ওভারে আক্রমণে এসে নাহিদ রানা বোল্ড করেন ক্রেইগ আরভিনকে। ওয়েসলি মাধেভেরেও বেশি দূর যেতে পারেননি। ১৫ রান করে ফিরলে ৬৬ রানেই চতুর্থ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
বিপর্যয়ের সময় দলের হাল ধরেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। দুজনে মিলে জিম্বাবুয়ের ইনিংস গড়ে তোলেন। তবে ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি রাজা। ৩৩ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হন তিনি। এরপর ক্লাইভ মাদান্দে দ্রুত ফিরলেও জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি থামেনি।
সপ্তম উইকেটে ব্র্যাড ইভান্সকে নিয়ে দুর্দান্ত জুটি গড়েন কারান। ১২২ বলে নিজের শতক পূর্ণ করেন তিনি। অন্য প্রান্তে ইভান্স খেলেন ৩৬ বলে অর্ধশতকের ঝড়ো ইনিংস। শেষ পর্যন্ত কারান অপরাজিত থাকেন ১১১ রানে, আর ইভান্স অপরাজিত ৫৮ রান করে জিম্বাবুয়েকে ২৪৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন।