আমি চাই না ইমন-তানজিদরা বদলে যাক: সুজন

ছবি: পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম ও খালেদ মাহমুদ সুজন, ক্রিকফ্রেঞ্জি

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের হাত ধরে সবশেষ কয়েক বছরে আমূল পরিবর্তন এসেছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। নিকোলাস পুরান, আন্দ্রে রাসেলরা সেটাই বড় প্রমাণ। তবে পাওয়ার ক্রিকেটের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্যটা অনেক। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এগিয়ে গেলেও সেটার সঙ্গে একেবারেই তাল মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ।
গত বিপিএলের বিদেশিরা আমাদের ‘এ’ দলের ক্রিকেটারের মানেরও না: সুজন
২৪ আগস্ট ২৫
বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট এলে ঘাটতিটা আরো স্পষ্ট হয়। সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতেই জুলিয়ান উডের দ্বারস্থ হয়েছে বিসিবি। বাংলাদেশে এসেই স্থানীয় কোচদের ক্লাস নিয়েছেন তিনি। বিকেএসপিতে কাজ করেছেন নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গেও। এবার ছেলেদের নিয়ে কাজ করছেন সিলেটে। ক্রিকেটারদের পাওয়ার হিটিংয়ে উন্নতি করার চেষ্টা করছেন উড।
যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মতো শারীরিক গঠন না থাকায় বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে পাওয়ার নেই। যদিও সুজনের দাবি, চলতি বছরে ভালো ক্রিকেটই খেলেছেন তামিম-ইমনরা। পাওয়ার হিটিং নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কিংবা টেকনিক বদলাতে গিয়ে যেন উল্টো সমস্যায় না পড়ে সেটার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচ আয়োজনে এগিয়ে ডারউইন
২ ঘন্টা আগে
ক্রিকফ্রেঞ্জির সঙ্গে আলাপকালে সুজন বলেন, ‘কোচ আনা কোনো অন্যায় নয়— বরং আনলে ভালো। এখন আমরা সময়ের স্বল্পতায় স্বল্প মেয়াদের জন্য এনেছি, সেটাতেও আমি কোনো ব্যঙ্গ করি না। সেটিও ঠিক আছে। তবে আমাদের ছেলেরা তো পাওয়ার হিটিংয়ের দিক থেকে বেশ দক্ষ। আপনি যদি বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশই পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছে— সেটা সঠিক। কিন্তু আমাদের আরও চিন্তা করতে হবে, পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে খেলা চালিয়ে যেতে হয়।’
‘টি–টোয়েন্টির জন্য পাওয়ার হিটিং কোচ আনা ভালো উদ্যোগ, যদিও ২১ দিনে কতটা ফল আসবে সেটা নির্ভর করবে খেলোয়াড়দের উপর। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, যেন এই সময়ে যারা আগে থেকেই ছক্কা মারতে পারে, তারা টেকনিক বদলাতে গিয়ে উল্টো সমস্যায় না পড়ে। কারণ ক্রিকেটে টেকনিক্যাল পরিবর্তন করা সহজ নয়— অল্প ভুলেই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যেতে পারে।’
টি-টোয়েন্টির ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সবসময় বিদেশি ব্যাটিং কোচদের উপর নির্ভর করেছে বাংলাদেশ। তবে বেশিরভাগ সময় পাওয়ার হিটিংয়ে মনোযোগ দিতে গিয়ে টেস্টের প্রতি মনোযোগ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। সুজন মনে করেন, বিসিবি কখনো টেকনিক্যাল ব্যাটিং কোচ আনেনি। চার-ছক্কা মারার পাশাপাশি একজন টেকনিক্যাল ব্যাটিং কোচও প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
সুজন বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচে নতুন বলের বিপক্ষে আমরা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, সেটা কি আমরা একবার ভেবেছি? আমরা সবাই বলি, টেস্ট ক্রিকেটই সবচেয়ে বড় ক্রিকেট। আর এই জায়গাতেই বাংলাদেশের ভালো করা উচিত। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা কোনো টেকনিক্যাল ব্যাটিং কোচ আনিনি। আনলেও সেটা শুধু টি–টোয়েন্টির কথা ভেবে। সেখানে অবশ্যই যুক্তি আছে, কারণ টি–টোয়েন্টি খেলার জন্য পাওয়ার হিটিং জরুরি। তবুও আমাদের আরও ভাবা উচিত যে একজন টেকনিক্যাল ব্যাটিং কোচও থাকা দরকার, যিনি বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটারদের নতুন বল খেলার কৌশল শেখাবেন, লম্বা ইনিংস গড়তে সাহায্য করবেন। এই জায়গায় আমরা এখনও পিছিয়ে আছি— এটা স্বীকার করতেই হবে।’