promotional_ad

রেকর্ডময় আঠারোর অপেক্ষায় টাইগার তারকারা

promotional_ad

প্রায় কাছাকাছি সময়ে টাইগারদের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদার্পণ করেন সাকিব-তামিম-মুশফিক। এরপর কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে দেশে বিদেশে খেলে যাচ্ছেন ক্রিকেট। নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করেছেন। প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে একসাথে দেশের হয়ে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়ি ঘুরিয়ে দেশের ক্রিকেটের বেশিরভাগ রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছেন তারা। এই তিনজন ক্রিকেটারই দেশের ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেরই যে রেকর্ডের রাজা সেটি বলতে কোন দ্বিধা নাই। 


এমনকি ২০১৮ সালের শুরুতেও বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়ার অপেক্ষায় আছেন দেশের এই রেকর্ড বরপুত্ররা। এবছর রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে আছেন মাশরাফি বিন মর্তুজাও। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের এই সিনিয়র ক্রিকেটাররা ছাড়াও আর কোন ক্রিকেটার নতুন রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রিকফ্রেঞ্জির পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হল। 


নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার বছরঃ


এবছর ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। এখন পর্যন্ত ১৭৪ ওয়ানডেতে দেশের সেরা ব্যাটসম্যান সংগ্রহ করেছেন ৫৭৬৬ রান। মাত্র ২৩৪ রান দূরে আছেন ৬ হাজার রানের মাইলফলক থেকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবছর ৫-৬ টি ওয়ানডে খেলেই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬ হাজার রান করার গৌরব অর্জন করবেন তামিম।


এছাড়াও তামিমের সামনে সুযোগ থাকছে প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ১০ সেঞ্চুরির মালিক হওয়ার। এখন পর্যন্ত একদিনের ক্রিকেটে ৯টি  সেঞ্চুরি করে সবার উপরে আছেন তামিম। ৭টি সেঞ্চুরি নিয়ে পরের অবস্থানে আছেন সাকিব আল হাসান। ৫০৮০ রান নিয়ে তামিমের পরের অবস্থানে থাকা সাকিব ৬ হাজার রান থেকে এখনো ৯২০ রান দূরে থাকায় তার জন্য কাজটা একটু কঠিন।


তবে সুযোগ থাকছে মুশফিকের সামনে দেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের গৌরব অর্জন করার। ১৭৯ ওয়ানডেতে ৪৫৭৬ রান নিয়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এই উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান। এবছর সুযোগ থাকছে টাইগার টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসের সামনেও। সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে দেশের হয়ে ২ হাজার রানের মাইলফলক থেকে মাত্র ২ রান দূরে আছেন এই বাঁহাতি।


৭০ ম্যাচে ১৯৯৮ রান করা ইমরুল যে এক ম্যাচ খেলেই এই মাইলফলক ছুঁতে পারবেন তা বেশ অনুমেয়। সুযোগ থাকছে সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকারের সামনেও। ৯৮৫ রান নিয়ে সাব্বির ও ৯৬৭ রান নিয়ে এক হাজার রানের দরজায় কড়া নাড়ছেন সৌম্য। 


সাকিব নাকি মাশরাফি? 


ওয়ানডে বোলিং রেকর্ডের সবচেয়ে বড় মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন একদিনের ক্রিকেটে টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের হয়ে ২৩২ উইকেট নিয়ে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক থেকে মাত্র ১৮ উইকেট দূরে আছেন এই বোলার। তবে বয়স ও ইনজুরির ভারে কুপোকাত হলেও উদ্যমী মাশরাফির যে এই রেকর্ড নিজের করে নিবেন দেশের ক্রিকেট ভক্তরা তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।



promotional_ad

দেশের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় মাশরাফির পরের অবস্থানে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২২৬ উইকেট নিয়ে দেশের ২৫০ উইকেট শিকারের দৌড়ে ভালোভাবেই আছেন সাকিব। তবে এবছর এই ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে হলে সাকিবকে শিকার ক??তে হবে আরো ২৪ উইকেট। এখন দেখার বিষয় হল কে আগে ২৫০ উইকেট পূর্ণ করেন, সাকিব না মাশরাফি? সেটি সময়ই বলে দিবে। 


এদিকে ২০১৮ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে দারুণ এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজুর রহমান। ইতিমধ্যেই ওয়ানডে ক্রিকেটে মাত্র ২২ ম্যাচে মুস্তাফিজ শিকার করেছেন ৪৪ উইকেট। আর যদি দুই ওয়ানডেতে ৬ উইকেট শিকার করতে পারেন এই বোলার তাহলে শেন ওয়ার্নদের পেছনে ফেলে মাত্র ২৪ ম্যাচেই দ্রুততম ৫০ উইকেট শিকারের গৌরব অর্জন করবেন এই বাঁহাতি পেসার।


যদিও ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে দ্রুততম ৫০ উইকেট শিকারে তালিকার এক নম্বর হওয়া মুস্তাফিজের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে নাম লেখাতে পারবেন একদিনের ক্রিকেটে ২৪ ম্যাচে দ্রুততম ৫০ উইকেট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা ডেনিস লিলি ও হাসান আলীর পাশে। এছাড়া ৮০ ওয়ানডেতে ৯৮ উইকেট নেওয়া রুবেল হোসেন পঞ্চম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে এক'শ উইকেট থেকে মাত্র ২ উইকেট আছেন।


তবে এবছর এক-দুই ম্যাচ খেললেই যে পঞ্চম বাংলাদেশী হিসেবে একশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করবেন এই বোলার তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আরেক টাইগার  বোলার তাসকিনের সামনেও সুযোগ থাকছে এবছর ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়ার। ৩২ ম্যাচে ৪৫ উইকেট নিয়ে তাসকিন এই গৌরবের দ্বারপ্রান্তেই আছেন।


সাদা পোশাকে রানের ঘোড় দৌড়ঃ 


এবছর সাকিব, তামিম ও মুশফিক তিনজনের সামনেই সুযোগ থাকছে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৪ হাজার রানের গৌরব অর্জন করার। দেশের হয়ে টেস্টে ৪ হাজার রান করার দৌড়ে সবার সামনে আছেন তামিম ইকবাল। ৫২ টেস্টে ৩৮৮৬ রান নিয়ে ৪ হাজার থেকে মাত্র ১২৪ রান দূরে আছেন এই ব্যাটসম্যান। সামনে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ৪ হাজার রান করার সুযোগ পাবেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। 


৫১ টেস্টে ৩৫৯৪ রান নিয়ে সাকিবও খুব একটা দূরে নেই এই মাইলফলক থেকে। ৪ হাজার রান থেকে সাকিব মাত্র ৪০৬ রান পেছনে আছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবছরই এই মাইলফলক ছুঁতে পারেন এই অলরাউন্ডার। ৩৫১৬ রান নিয়ে মুশফিকেরও ৪ হাজার রান করার সুযোগ থাকছে।


এবছর টেস্ট ক্রিকেটে ৪৮৪ রান করলেই ৪ হাজার রানের গৌরবের ক্লাবে প্রবেশ করতে পারবেন এই ব্যাটসম্যান। 


এছাড়া ৩৫ টেস্টে ১৯৩১ রান করা মাহমুদুল্লাহ আর মাত্র ৬৯ রান করলেই টেস্ট ক্রিকেটে ষষ্ঠ বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে ২ হাজার রানের গৌরবের মাইলফলক অর্জন করবেন। একই সুযোগ থাকছে টেস্টে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মমিনুলের সামনেও। ২৫ টেস্টে ১৮৪০ রান করা মমিনুল লঙ্গার ভার্সনের ক্রিকেটে আর মাত্র ১৬০ রান করলেই দেশের হয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবেন।   



আরেকটি প্রথমের পথে সাকিবঃ


এবছর প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার সামনে আছেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ৫১ টেস্টে ১৮৮ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিও সাকিব। তবে আর মাত্র ১২ উইকেট শিকার করতে পারলে দেশের হয়ে অর্জন করবেন ২০০ উইকেটের গৌরব। তবে সাকিব আর সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিক ছাড়া লঙ্গার ভার্সনের ক্রিকেট অঙ্গনে আর কোন দেশীয় বোলার একশ উইকেট শিকারের গৌরব অর্জন করতে পারেননি। 


এছাড়া বেশ কয়েকজন বোলার ৫০ উইকেটের গণ্ডি পার করলেও এবছর ৫০ উইকেটের মাইলফলক পেরোনোর সুযোগ থাকছে তরুন স্পিনার মেহেদি মিরাজের সামনে। ১০ টেস্টে ১৯ ইনিংসে ৪৩ উইকেট নিয়ে ৫০ উইকেটের মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে আছেন এই অফ-স্পিনার। 


হাজারের ক্লাবে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায়ঃ 


ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণেও বেশ কয়েকটি মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে আছেন টাইগার ক্রিকেটাররা। এবছর মাহমুদুল্লাহ, সাব্বির ও মুশফিকের সামনে সুযোগ থাকছে দেশের হয়ে টি-টুয়েন্টিতে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে হাজার রান পূর্ণ করার সুযোগ। এর আগে সাকিব-তামিম ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে এক হাজার রান পূর্ণ করেছেন। তবে মাহমুদুল্লাহ (৬০ ম্যাচে ৮৩৭), সাব্বির (৩৩ ম্যাচে ৭৪৫) ও মুশফিক (৬১ ম্যাচে ৭৪১) রান নিয়ে হাজার রানের দরজায় কড়া নাড়ছেন। এই ব্যাটসম্যান ত্রয় টি-টুয়েন্টি দলে নিয়মিত সুযোগ পেলে হয়ত এবছরই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন। 


সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবছরই হয়ত দেশের ক্রিকেটাররা এই রেকর্ডগুলো নিজেদের করে দেশের ক্রিকেটে আরো বেশী অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। ব্যক্তিগত সফলতার পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটকে আরো উন্নতির চূড়ায় নিয়ে যাবেন তারা এই কামনাই করছেন দেশের ক্রিকেট ভক্তরা।  



আরো খবর

সম্পাদক এবং প্রকাশক: মোঃ কামাল হোসেন

বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতে এক অপার আস্থার নাম ক্রিকফ্রেঞ্জি। সুদীর্ঘ ১০ বছর ধরে ক্রিকেট বিষয়ক সকল সংবাদ পরম দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রকাশ করে আসছে ক্রিকফ্রেঞ্জি। প্রথমে শুধুমাত্র সংবাদ দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে ক্রিকফ্রেঞ্জি একটি পরিপূর্ণ অনলাইন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।

মেইল: cricfrenzy@gmail.com
ফোন: +880 1305-271894
ঠিকানা: ২য় তলা , হাউজ ১৮, রোড-২
মোহাম্মাদিয়া হাউজিং সোসাইটি,
মোহাম্মাদপুর, ঢাকা
নিয়োগ ও বিজ্ঞপ্তি
বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ
নিয়ম ও শর্তাবলী
নীতিমালা
© ২০১৪-২০২৪ ক্রিকফ্রেঞ্জি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
footer ball