গত মৌসুমে সিএসএর আর্থিক অবস্থায় বড় প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ততা কমে যাওয়া। বিশেষ করে পুরুষ দলের আন্তর্জাতিক সিরিজ ছিল খুবই কম। ঘরের মাঠে পুরো মৌসুমে প্রোটিয়ারা খেলেছে মাত্র তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাশিত আয় হয়নি।
এদিকে ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্টেডিয়াম উন্নয়নেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা। ৩০ কোটি র্যান্ডের বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৬ কোটি টাকা, খরচ হয়েছে স্টেডিয়াম সংস্কার ও উন্নয়নে। সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ১২টি ভেন্যুর মধ্যে আটটি থাকবে সাউথ আফ্রিকায়। অবশ্য প্রোটিয়া ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এর প্রভাব পড়বে না বিশ্বকাপ আয়োজনে।
সিএসএর সভাপতি রিহান রিচার্ডস বলেন, ‘আমরা যেখানে আছি, তাতে আমি খুবই স্বস্তিতে আছি। ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে অনেক প্রশ্ন করা হয়েছে। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবেই একটি আলাদা কোম্পানি তৈরি করেছি, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং বিশ্বকাপের বিষয়গুলো সিএসএর মূল কাঠামোকে জটিল করে না তোলে। প্রতিষ্ঠানটি খুব ভালোভাবেই কাজ করছে। ২০২৭ বিশ্বকাপ বড় সাফল্য হবে, এ বিষয়ে আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী।’
সিএসএর সর্বশেষ চার বছরের আর্থিক চক্রে মোট আয় হয়েছে ৪৮৪ কোটি র্যান্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। এই সময়ে সংস্থাটির নিট লাভ হয়েছে ৪৯২ কোটি ৯০ লাখ র্যান্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরটি ছিল সিএসএর জন্য কঠিন।
ওই বছরে আয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮৫ কোটি ৬০ লাখ র্যান্ডে নেমে আসে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৪৬ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত ৪৪০ কোটি ৬০ লাখ র্যান্ড বা প্রায় ৩৩২ কোটি টাকার লোকসান গুনেছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা।