অন্তর্বর্তীকালীন এই কমিটিকে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির সাবেক সংসদ সদস্য এরান বিক্রমারত্নে। তিন সাবেক ক্রিকেটার বাদে কমিটির বাকি সকলেই কর্পোরেট, রাজনীতি ও আইন অঙ্গনের সাথে জড়িত। কমিটির চেয়ারম্যান এরান শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দল ‘সমাগি জনা বালাওয়েগায়া’র একজন রাজনীতিবিদ।
বোর্ডের দায়িত্ব নেবার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এরান বলেন, 'আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমি নয় সদস্যের একটি কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছি, যাদের সততা ও দক্ষতা অনবদ্য। আমরা আমাদের জাতীয় দলগুলোকে শক্তিশালী করে তুলতে প্রয়োজনীয় কাঠামো, বিশ্বমানের সুবিধা এবং আর্থিক মডেল প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেব। আমাদের লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের নিয়মিতভাবে বিশ্বমানের পারফরম্যান্স করার মত সুবিধা নিশ্চিত করা এবং শ্রীলঙ্কাকে আবার আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্তরে তুলে আনা।'
এর আগে দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) কর্তাদের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বোর্ডকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল দেশটির সরকার। সেই নির্দেশনা মেনে এসএলসির সভাপতির পদ থেকে দরে দাঁড়ান সভাপতি শাম্মি সিলভা। অন্যান্য পরিচালকরাও ইস্তফা দেন।
মাঠ ও মাঠের বাইরের নানান নেতিবাচক ইস্যুতে গত বছর তিনেক ধরেই আলোচনায় এসএলসি। তাই ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছিল। এর প্রতিক্রিয়াতেই বোর্ডের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিতে চেয়েছিল দেশটির সরকার। এ নিয়ে টানা চার মেয়াদে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন শাম্মি সিলভা, এরমধ্যে তিনবারই তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
তাই নানান সময় স্বেচ্ছ্বাচারিতার অভিযোগ এসেছে আগের কমিটির বিরুদ্ধে। এ ছাড়া দেশটির সবচেয়ে ধনী এই ক্রীড়া সংস্থা ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ছিল। এর আগে ২০২৩ সালে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছিল। মাস দুয়েক পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ঘিরে সংকট ক্রমেই আরও ঘনীভূত হয়েছে।