বৃষ্টির কারণে ১১ ওভারে নেমে আসা ম্যাচের প্রথম বলেই দীপক চাহারকে বাউন্ডারি মেরে ঝড়ের পূর্বাভাসই যেন দিচ্ছিলেন জয়সাওয়াল। প্রথম ওভারেই ২২ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিয়ে আসেন জয়সাওয়াল। ৩২ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে রাজস্থানের ম্যাচ জয়ের নায়কও এই ওপেনার।
ম্যাচ শেষে জয়সাওয়াল জানান, ম্যাচের দৈর্ঘ্য ছোট হয়ে আসায় আলাদা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। অপর প্রান্তে সূর্যবংশীকে বুমরাহকে সামলানোর দায়িত্ব দিয়ে চাহারকে আক্রমণ শুরু করেন তিনি।
জয়সাওয়াল বলেন, 'আমার মাথায় একটা পরিকল্পনা ছিল, কারণ পাওয়ার প্লে ছিল মাত্র তিন ওভার। তাই ভাবছিলাম কাকে আক্রমণ করা যায়। দীপক চাহার ভাই বল করছিল, তাই ভাবলাম তাকে টার্গেট করতে পারি। এরপর বুমরাহ ভাই বল করতে আসবে, তখন ভাবছিলাম বৈভব তাকে সামলাবে আর আমি অন্য কাউকে আক্রমণ করব।'
ভারতের টেস্ট দলের নিয়মিত ওপেনার হলেও সীমিত ওভারের ফরম্যাট দুটিতে এখনো দলে নিয়মিত নন জয়সাওয়াল। তবে ধীরে ধীরে এই ফরম্যাটগুলোতে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন এই ওপেনার। সীমিত ওভারে নিজেকে প্রস্তুত করতে ভিন্ন ধরণের শট অনুশীলন করছেন বলেও জানান তিনি।
জয়সাওয়াল আরো যোগ করেন, 'সব ফরম্যাটে খেলা সহজ নয়। আমি প্রতিবারই আমার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। আমি নিশ্চিত করি যেন বিভিন্ন ধরনের শট আয়ত্ত করতে পারি এবং কোন উইকেটে কী খেলতে হবে তা বুঝতে পারি। ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে সেটাই আমাকে সাহায্য করে।
জয়সাওয়াল সহ ভারতের সব তরুণ প্রতিভাদের ছাপিয়ে এখন ভারতসহ ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার শীর্ষে সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই নিজের ব্যাটিং দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করে রেখেছেন তিনি। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ইনিংস বড় করতে না পারলেও ১৪ বলে ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে রাজস্থানের জয়ের ভিত গড়ে দেন। সূর্যবংশীর সাথে ব্যাটিং করাটাও দারুণ উপভোগ করছেন জয়সওয়াল।
পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সূর্যবংশীর সাথে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সাওয়াল বলেন, 'সে যেভাবে খেলছে, তা অসাধারণ। তাকে দেখে আমিও অনুপ্রাণিত হই। আমরা আলোচনা করি কীভাবে এগোনো যায়, আর আমি তাকে সবসময় ইতিবাচক বার্তা দিই যেন সে স্বাধীনভাবে খেলতে পারে। সে দারুণ একজন খেলোয়াড়, খেলাটা খুব ভালো বোঝে এবং নিজে থেকেই অনেক কিছু করতে সক্ষম।'