লজ্জাজনক হার দিয়েই অ্যাশেজ শেষ করলো ইংল্যান্ড

ছবি:

বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে ২০১৩ অ্যাশেজের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবারের অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে নেমেছিলো ইংল্যান্ড।
অগণিত ইংলিশ সমর্থকও আশা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহ্যবাহী এই সিরিজটি জিতে ট্রফি উঁচু করে ধরবে জো রুটের দল। কিন্তু সমর্থকদের সেই আশা পূরণ করতে পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছে রুট বাহিনী।
অজিদের বিপক্ষে এবারের অ্যাশেজ সিরিজ তারা হেরেছে ৪-০ এর ব্যবধানে। রবিবার সিরিজের শেষ টেস্টে ইনিংস এবং ১২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে ষোল কলা পূর্ণ করেছে ইংল্যান্ড।
প্রথম তিন টেস্টে দাপটের সাথে ইংলিশদের হারিয়ে সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছিলো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। সুতরাং চতুর্থ টেস্টে অনেকটা নির্ভার হয়েই মাঠে নেমেছিলো অজিরা। কিন্তু এরপরেও তাদের হারাতে ব্যর্থ হয়েছে জো রুটের দল।
সেই ম্যাচে যদিও ড্র করতে সক্ষম হয়েছে তারা। ফলে ধবল ধোলাইয়ের হাত থেকে অন্তত রক্ষা পেয়েছে ইংলিশরা। তবে শেষ টেস্টে এসে আবারো পরাজয় বরণ করে নিতে হলো তাদের।
রবিবার সিডনি টেস্টের পঞ্চম দিন অস্ট্রেলিয়ার করা ৬৪৯ রানের জবাবে ৪ উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে খেলা শুরু করা ইংল্যান্ড অজিদের বোলিং তোপে অল আউট হয়ে গেছে মাত্র ১৮০ রানে। এর ফলে এক ইনিংস এবং ১২৩ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয়েছে স্টিভ স্মিথের অস্ট্রেলিয়া।

এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে জো রুট এবং ডেভিড মালানের জোড়া অর্ধ শতকে ভর করে ৩৪৬ রান তুলেছিলো সফরকারী ইংল্যান্ড। জবাবে উসমান খাওয়াজা, শন মার্শ এবং ম??চেল মার্শের শতকে ৭ উইকেটে ৬৪৯ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড়া করিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া।
পরবর্তীতে ৩০৩ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন ব্যাটিং করতে নেমেই অজি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ৫ রানের মাথায় অপেনার মার্ক স্টোনম্যানকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরত পাঠান পেসার মিচেল স্টার্ক।
এরপর ১৫ রানে অ্যালিস্টার কুক এবং ৪৩ রানে জেমস ভিন্স ফিরে গেলে চরম বিপদে পড়ে ইংলিশরা। কুককে (১০) এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়েছেন অজি স্পিনার নাথান লায়ন। আর ভিন্স (১৮) আউট হয়েছেন প্যাট কামিন্সের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে।
ভিন্স ফিরে গেলে বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি আগের ইনিংসে অর্ধশতক হাঁকানো ডেভিড মালানও। ৬৮ রানের মাথায় লায়নের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। এরপর অবশ্য জনি বেয়ারস্টো ও অধিনায়ক জো রুটের ব্যাটে আর উইকেট না হারিয়ে ৯৩ রানে দিন শেষ করে ইংল্যান্ড।
তবে পঞ্চম দিন ৬ উইকেট হাতে নিয়ে খেলতে নামার পর আবারো বিপদের মুখে পড়ে রুট বাহিনী। ৫৮ রান করে ইংলিশ অধিনায়ক রুট রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে গেলে রীতিমত তাসের ঘরে পরিণত হয় ইংলিশদের ব্যাটিং লাইন আপ। কামিন্স এবং লায়নের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৮০ রানেই গুঁটিয়ে যায় সফরকারীরা।
অজি বোলারদের সামনে এক জনি বেয়ারস্টো ছাড়া বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আর কেউই সেভাবে রান তুলতে পারেননি। কামিন্সের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৮ রান করতে সক্ষম হন তিনি। এছাড়াও শেষের দিকে টম কুরান অপরাজিত ২৩ রান করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের পক্ষে ১৭ ওভার বল করে ৩৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করেছেন পেসার প্যাট কামিন্স। অপরদিকে ৩৫ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন স্পিনার নাথান লায়ন।
এছাড়াও ১টি করে উইকেট পকেটে পুড়েছেন মিচেল স্টার্ক এবং জস হ্যাজেলউড। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট শিকার করায় ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন অজি পেসার প্যাট কামিন্স।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ- ক্যামেরন ব্যানক্রফট, ডেভিড ওয়ার্নার, উসমান খাওয়াজা, স্টিভ স্মিথ (অধিনায়ক), শন মার্শ, মিচেল মার্শ, টিম পেইন (উইকেটরক্ষক), মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজেলউড, নাথান লায়ন।
ইংল্যান্ড একাদশ- অ্যালিস্টার কুক, মার্ক স্টোনম্যান, জেমস ভিন্স, জো রুট (অধিনায়ক), ডেভিড মালান, জনি বেয়ারস্টো (উইকেটরক্ষক), মইন আলী, টম কুরান, স্টুয়ার্ট ব্রড, ম্যাসন ক্রেন, জেমস অ্যান্ডারসন।