promotional_ad

পাওয়ার পাল্লাটাই ভারী

promotional_ad

আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। তারপরই শেষ হয়ে যাবে এই বছরটা। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক ঘটনাবহুল বছর ছিলো ২০১৭। নানারকম উত্থান-পতন, প্রাপ্তি-হতাশা দেখা গেছে এই বছরে। 


বছরের এই শেষ দিনটাতে আসুন ফিরে দেখা যাক বাংলাদেশের ক্রিকেটের বছরটা কেমন গেলো...


কলম্বোতে সোনালী উৎসব


এই বছর বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট খেলতে গিয়েছিলো ভারতে। সেখানে অভিজ্ঞতাটা একেবারেই ভালো হয়নি। ভারতের বিপক্ষে হারের হতাশা কাটাতে অবশ্য খুব একটা সময় লাগেনি। বাংলাদেশ দারুন একটা সফর করলো শ্রীলঙ্কায়। এই প্রথম সেই দেশে সফরে টেস্ট জয় পেলো তারা। সবচেয়ে বড় কথা, এই সফরে বাংলাদেশ কোনো সিরিজ হারেনি। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি; তিনটি সিরিজই ড্র করে ফিরেছে তারা। তবে সবাইকে ছাপিয়ে মানিকখন্ড হয়ে আছে শততম টেস্টে কলম্বো জয়। 




তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের দূরন্ত ব্যাটিং এবং মুস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজের দারুন বোলিং বাংলাদেশকে এনে দেয় বিশাল উপলক্ষে বিশাল এক জয়। এই জয়ে বিদেশের মাটিতে প্রথম কোনো বড় শক্তিধর দলের বিপক্ষে জয়ও পাওয়া হয়। 


মাশরাফির টি-টোয়েন্টি অবসর


শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজটা একটা অধ্যায় উন্মোচন করে দিলো। এর আগে একটা ফিসফাস ছিলো যে, জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের সাথে কোচ হাথুরুসিংহের সম্পর্ক ভালো না। এই সিরিজে সেটা সামনে চলে এলো মাশরাফি বিন মুর্তজার হঠাৎ এক ঘোষনায়।




টি-টোয়েন্টি সিরিজের ঠিক আগে বাংলাদেশের এই সীমিত ওভারের অধিনায়ক বললেন, এই সিরিজের পর তিনি আর টি-টোয়েন্টি খেলবেন না। তরুনদের সুযোগ করে দিতে এই সিদ্ধান্ত বলে বললেন তিনি। কিন্তু ভেতরের সূত্রগুলো জানালো, মাশরাফির ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ম্যানেজমেন্ট থেকে। 


সাকিবের বছর


টেস্ট খেলছে এমন দলগুলোর মধ্যে কেবল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেট ছিলো না সাকিবের। কারণ, এই দলটার বিপক্ষে তিনি টেস্ট আগে খেলেননি। ঢাকায় প্রথম টেস্ট খেলতে নামলেন দুই ইনিংসেই নিলেন ৫টি করে উইকেট! সেই সাথে ব্যাট হাতে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা একটা ইনিংস। বুুঝিয়ে দিলেন, তিনি কেনো সেরা অলরাউন্ডার। 





promotional_ad

এই বছরটা ছিলো ব্যাটসম্যান সাকিবের আরও নিজেকে বিকশিত করার বছর। বলে তিনি সবসময়ই বাংলাদেশকে সার্ভিস দিয়ে আসছেন। আগের বছরের শেষ দিকটায় সেই সার্ভিসটা একটু কম পেয়েছে বাংলাদেশ। একটু যেনো ম্লান ছিলেন বোলার সাকিব। যদিও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জেতানো বোলিং করেছিলেন। তারপরও এই বছরটায় নিজের বোলিং স্বত্তাকে পাশে রেখে ব্যাটিংকে তুলে ধরার বছর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। বছরের শুরুতেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে নিজের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ ইনিংসটা খেলেন। এরপর কলম্বোতে শততম টেস্ট জয়ের পথে সেঞ্চুরি করেন। আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেই ইনিংস তো ইতিহাস হয়ে আছে। 




চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগে নাকি সাকিব আল হাসানকে হুমকি দেওয়া হয়েছিলো-ভালো করতে না পারলে বাদ দেওয়া হবে। হুমকির জবাব দিয়েছিলেন সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়ে। 


এবার সেমিফাইনাল


চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে স্বপ্ন দেখার কোনো কারণ বাংলাদেশের ছিলো না। খেলাটা হলো একেবারে বিরুদ্ধ কন্ডিশন ইংল্যান্ডে। গ্রুপে দল ছিলো ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এক দল স্বাগতিক এবং বাকী দুই দল সর্বশেষ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট। এই গ্রুপ থেকে কী ওৎরানো যায়। সেই কাজটা করে দেখালেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার।




পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে বৃষ্টিতে পাওয়া এক পয়েন্ট। সমীকরণটা দাড়ালো যে, সেমিফাইনালে যেতে হলে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেই হবে। এই সমীকরণই বাস্তব করে ফেললো বাংলাদেশ। সাকিব ও রিয়াদের অসাধারণ দুই সেঞ্চুরিতে সেমিফাইনালে গেলো তারা। 


অস্ট্রেলিয়া জয়


বাংলাদেশকে এক সময় একদিনে টেস্ট হারানোর পরিকল্পনা করতো অস্ট্রেলিয়া!


সেই অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ কি না, বলে কয়ে টেস্ট হারালো। হ্যা, ব্যাপারটা বলে কয়েই হলো। সিরিজ শুরুর আগে থেকেই একটা সুর উঠেছিলো যে, এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারাবে বাংলাদেশ।




আর এমন সময়েই সাকিব আরেকবার হয়ে উঠলেন অতিমানব। ব্যাটে-বলে অস্ট্রেলিয়াকে একেবারে কোনঠাসা করে ফেললেন তিনি। সাথে মেহেদী হাসান মিরাজ, তামিম ইকবাল ও তাইজুল ইসলামের পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এনে দিলো প্রথম টেস্ট জয়। 


শেষ হাথুরুসিংহে-পর্ব



বেশ কিছুদিন ধরেই চান্দিকা হাথুরুসিংহেকে নিজেদের কোচ হিসেবে চাচ্ছিলো তার দেশ শ্রীলঙ্কা। সেই চাওয়ার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময় হঠাৎ করেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশের এই শ্রীলঙ্কান কোচ। শুরুতে বিসিবি ভেবেছিলো, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু পরে তিনি নিজে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, শ্রীলঙ্কার চাকরি নিতেই বাংলাদেশের চাকরি ছেড়েছেন তিনি।




বাংলাদেশের কোচ হিসেবে অত্যন্ত সফল ছিলেন হাথুরুসিংহে। তার সময়ে বাংলাদেশ ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছে। তার সময়েই বাংলাদেশ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে টেস্টে হারিয়েছে। তার সময়েই বাংলাদেশ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছে। 


অধিনায়ক সাকিব


মুশফিকুর রহিমের অধিনায়কত্ব নিয়ে অনেকদিন ধরেই অসন্তোষ ছিলো বোর্ডের। তাকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তাও ছিলো। কিন্তু সময় বেছে নেওয়াটা অদ্ভুত ছিলো। বাংলাদেশ দল তখন নতুন কোচের খোজে আছে।




রোজ গুঞ্জন চলছে, কে হবেন পরের কোচ। এমন সময়ে হুট করে বোর্ড জানিয়ে দিলো, মুশফিক আর টেস্ট অধিনায়ক নন। নতুন করে সেই দায়িত্ব দেওয়া হলো সাকিব আল হাসানকে। সাকিব আগে থেকেই ছিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। এই দফা শুরু হলো তার দ্বিতীয় দফা টেস্ট অধিনায়কত্ব। আর এর সাথে শেষ হলো বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক মুশফিকের অধ্যায়। 


তরুনদের লড়াই


বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল এই বছরে দুই রকম বিপরীত মুখী অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছে। তারা ঘরের মাটিতে আফগানিস্তানের কাছে সিরিজ হেরেছে ৩-১ ব্যবধানে। এটা ছিলো সাইফ হাসানদের জন্য একটা বিরাট ধাক্কা।




অন্য দিকে এই বছরই এশিয়া কাপে দারুন পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ যুব দল। সেখানে ভারতকে গুড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে গেছে তারা। সেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষেও এগিয়ে ছিলো দলটি। কিন্তু বৃষ্টি আইনের ফেরে পড়ে হেরে ফিরতে হয় বাংলাদেশকে।



আরো খবর

সম্পাদক এবং প্রকাশক: মোঃ কামাল হোসেন

বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতে এক অপার আস্থার নাম ক্রিকফ্রেঞ্জি। সুদীর্ঘ ১০ বছর ধরে ক্রিকেট বিষয়ক সকল সংবাদ পরম দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রকাশ করে আসছে ক্রিকফ্রেঞ্জি। প্রথমে শুধুমাত্র সংবাদ দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে ক্রিকফ্রেঞ্জি একটি পরিপূর্ণ অনলাইন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।

মেইল: cricfrenzy@gmail.com
ফোন: +880 1305-271894
ঠিকানা: ২য় তলা , হাউজ ১৮, রোড-২
মোহাম্মাদিয়া হাউজিং সোসাইটি,
মোহাম্মাদপুর, ঢাকা
নিয়োগ ও বিজ্ঞপ্তি
বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ
নিয়ম ও শর্তাবলী
নীতিমালা
© ২০১৪-২০২৪ ক্রিকফ্রেঞ্জি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
footer ball