২০২৪ সালে দিমুথ করুনারত্নের অবসরের পর টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছিল ধনঞ্জয়াকে। এরপর ১৮টি টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার অধিনায়কত্বে সাতটি ম্যাচ জিতেছে শ্রীলঙ্কা, হেরেছে আটটিতে এবং ড্র করেছে তিনটি। তার নেতৃত্বে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে দলটি।
অধিনায়ক হিসেবে ধনঞ্জয়ার সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্সগুলোর একটি এসেছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই সিলেটে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন তিনি। তার জোড়া শতকে ভর করে বাংলাদেশকে ৩২৮ রানে হারায় শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক হিসেবে আরও দুটি সেঞ্চুরি করেছেন ধনঞ্জয়া এবং এই সময়ে ব্যাট হাতে তাঁর গড় ছিল ৩৬.৪৫।
অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণ জানিয়ে নির্বাচক কমিটির কাছে দেওয়া চিঠিতে ধনঞ্জয়া লিখেছেন, ‘আমার আন্তরিক মত হলো, নেতৃত্বের দায়িত্ব এখন পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার সময় এসেছে।’ তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
মেন্ডিস এর আগে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেননি। তবে দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে দলে তিনি বহুবার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বেশিরভাগ সময়ই স্বল্পমেয়াদি দায়িত্বে নেতৃত্ব দেওয়া মেন্ডিসকে চলতি বছরের মে মাসে স্থায়ীভাবে সাদা বলের ক্রিকেটের অধিনায়ক করা হয়।
ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত ২২ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার নেতৃত্ব দিয়েছেন মেন্ডিস। ২০২৩ সালের অক্টোবরেই প্রথমবার এই সংস্করণে অধিনায়কত্ব করেন তিনি। তার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা ১০টি ম্যাচ জিতেছে, ১০টিতে হেরেছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলি ডি সিলভা ধনঞ্জয়ার নেতৃত্বের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এসএলসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তার ক্যারিয়ারের বাকি সময়ের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে এবং টেস্ট দলের জন্য তিনি যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।’ ধনঞ্জয়ার উত্তরসূরি হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, তা এখনো ঘোষণা করেনি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।