জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর তুলনামূলক সাবধানী ব্যাটিং করেছে ভারত। ইশান জানিয়েছেন, উইকেটের আচরণ বুঝে বড় জুটি গড়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন তারা। সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত ৯০ রানের বড় জয় এনে দিয়েছে ভারতকে।
হারারেতে মাত্র ২৯ রানে দুই উইকেট হারানোর পর তিন নম্বরে নেমে ৪৪ বলে ৮১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ইশান। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে ৬৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। পরে তিলক ভার্মার অপরাজিত ২৯ বলে ৬০ রানের ইনিংসে ভর করে ভারত তোলে ৫ উইকেটে ২১৯ রান। জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৭.৫ ওভারে ১২৯ রানে অলআউট হলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
ম্যাচসেরা হওয়ার পর কিশান বলেন, ‘তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামলে প্রথম কাজ হলো বল দেখে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলা। একই সঙ্গে উইকেটও বুঝতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আলোচনা করছিলাম ২৫০ বা ২৩০ রানের দিকে যাব, নাকি এই উইকেটে ১৭০-১৮০ রানই যথেষ্ট হবে। শ্রেয়াস ব্যাট করতে আসার পর আমাদের লক্ষ্য ছিল একটা ভালো জুটি গড়ে ইনিংসকে গভীর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। আমার মনে হয়, আমরা পরিকল্পনাটা খুব ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।’
তিন নম্বর ব্যাটার হিসেবে নিজের দায়িত্ব ওপেনারদের থেকে আলাদা বলেও মনে করেন ইশান। বাইরের সমালোচনা বা অন্যদের খেলার ধরন নিয়ে তিনি ভাবেন না বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে ইশান বলেন, ‘বাইরে কী বলা হচ্ছে, সেদিকে আমি খুব একটা নজর দিই না। আমি জানি, আমাকে কীভাবে খেলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমান মুহূর্তে থাকা। কে কত জোরে মারছে বা কে বেশি রান করছে, সেসব নিয়ে ভাবি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই উইকেট পড়ে গেলে তিন নম্বর ব্যাটারের দায়িত্ব পরিস্থিতি বোঝা। তখন কি শুধু ঝুঁকি নেবেন, নাকি একটা জুটি গড়বেন সেটা বুঝতে হবে। উইকেট কেমন আচরণ করছে, সেটাও মাথায় রেখে ব্যাটিং করতে হয়।’
আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সফর মিলিয়ে টানা ব্যস্ত সূচির কথাও তুলে ধরেন ইশান। তার মতে, এমন সূচিতে শতভাগ দেওয়াটা কঠিন হলেও খেলোয়াড়দের সামনে বিকল্প থাকে না।
তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই কঠিন। আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ড, তারপর হঠাৎ জিম্বাবুয়ে এসে পরদিনই ম্যাচ খেলতে হয়েছে।’
ইশান যোগ করেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনি প্রতিটি ম্যাচে শতভাগ দিতে চান। তাই দ্রুত পুনরুদ্ধার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ঘুম, ভালো খাবার আর শরীরকে সতেজ রাখাই এখন মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে টানা ম্যাচ খেলতে হলে, বোলারদের জন্য বিষয়টা আরও কঠিন।’