ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ভারত শুরু করেছিলো ফেভারিট হিসেবেই। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে সুপার এইটেও উঠেছিলো দাপটের সাথে। কিন্তু সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১১ রানে অলআউট হয়ে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সেমিতে ওঠার রাস্তা কঠিন করে দলটি। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে ঠিকই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে তারা।
এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ভারতের আড়াইশোর্ধ রান করে শিরোপা জয় নিশ্চিত করাই বলে দেয় সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেই হার তাতিয়ে দিয়েছিলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতকে। দলের ভেতরে ঘুরে দাঁড়ানোর সেই জেদ ছিলো বলেই ভারতের এই সাফল্য, এমনটাই মনে করেন দুবে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দুবে বলেন, 'আমার মনে হয় আমাদের দলে প্রত্যেকেই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে। দলে এমন কেউ নেই যে তোমাকে ম্যাচ জেতাতে পারে না। প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় ভালো পারফর্ম করেছে। যখনই প্রয়োজন হয়েছে, কেউ না কেউ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।'
'দল হিসেবে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের পর আমরা আমাদের সেরা ছন্দে পৌঁছাই। তার আগে আমরা ভালোই খেলছিলাম, কিন্তু ওই ম্যাচের পর সবাই আরও বেশি মনোযোগী হয়েছি। তখন আমরা একেবারেই ভিন্ন একটি দলে পরিণত হয়েছিলাম, আর আমাদের সেরা পারফরম্যান্স এসেছে ফাইনালেই।'
ক্রিকেটার হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জেতাটা স্পেশাল দুবের জন্য। তিনি জানান ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার ছক আগেই করে রেখেছিলেন আর তাই নিজের পারফরম্যান্সটা ঠিকঠাক করতে পেরেছেন তিনি। বিশ্বকাপে মোট আটটি ইনিংসে ২৩৫ রান করেন দুবে। এই ৮ ইনিংসেই ফিনিশিংয়ে নেমে মারেন ১৫টি চার ও ১৭টি ছক্কা। সেমিফাইনাল-ফাইনালসহ প্রায় প্রতি ম্যাচেই লোয়ার মিডল অর্ডারে নেমে নিজেদের রানকে প্রতিপক্ষের ধরাছোয়ার বাইরে নিয়ে যান তিনি।
বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার খুশি দুবে, 'আমি সব সময় আত্মবিশ্বাসী ছিলাম এবং নিজেকেই সমর্থন দিয়েছি। এর জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। দল আমার কাছ থেকে কী চায়, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা ছিল। আমি নিজের কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা।'