ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুকুল জানান, অধিনায়ক ঋষভ পান্ত, কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং পুরো লক্ষ্ণৌ দল তার ওপর যে আস্থা রেখেছিল, তা এই ইনিংস খেলার পথে দারুণ সাহায্য করেছে। কয়েক বছর আগেও ব্যাটিংয়ে নেমে অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করার প্রবণতা ছিল মুকুলের। তবে এই ম্যাচে তা কাটিতে উঠতে পেরেছেন বলে মনে করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে মুকুল বলেন, ‘দুই বছর আগে আমি নিজেকে খুব তাড়াহুড়া করতাম, কিন্তু এখন আমি দীর্ঘ ইনিংস খেলা, ম্যাচকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এবং জেতানোর অনুশীলন করেছি। শেষ দুই ম্যাচেও আমি চার-পাঁচটি বল খেলেছি, আউট হইনি, কিন্তু মারতে পারিনি। পান্ত আমাকে বলেছিল, তুমি এত ভাবছ কেন, এটা করব, ওটা করব। এসব ভাবো না। তুমি যে প্রক্রিয়ায় কাজ করছ, সেটাই অনুসরণ করো। বেশি ভাবলে চাপ বাড়বে। যেমন বল দেখো, তেমনই খেলো। আমরা তোমার ওপর বিশ্বাস রাখি, এখন তুমি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো।’
এই আইপিএলের আগে লক্ষ্ণৌ দলের প্রধান কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেছিলেন, ‘যদি সে চায়, আগামী চার মাসের মধ্যে আমি তাকে ভারতের সবচেয়ে ভয়ংকর ৬ বা ৭ নম্বর ব্যাটার বানিয়ে তুলব।’
এই মন্তব্যের প্রসঙ্গে মুকুল বলেন, ‘এত বড় কোচ যদি আপনার সম্পর্কে এমন কিছু বলেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই কিছু দেখেছেন। তারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে, তাই সেটার প্রতিদান দেওয়াটা আমার দায়িত্ব ছিল। তিনি প্রতিদিন আলাদা করে আমার সঙ্গে ১০ থেকে ২০ মিনিট কাজ করতেন।’
কলকাতার ঘরের মাঠে ধ্বংসাত্মক ইনিংস খেলার পথে মুকুল সাতটি ছক্কা হাঁকান, যার একটি ছিল ধোনির মতো হেলিকপ্টার শট, পুরোটা কব্জির জোর আর নিখুঁত টাইমিংয়ে সোজা বাউন্ডারির বাইরে। তিনি জানিয়েছেন, এই শটটি তিনি ছোটবেলা থেকেই অনুশীলন করে আসছেন।
ধোনিকে ম্যাচ উৎসর্গ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময় ওই শটটা পছন্দ করতাম, যেভাবে ধোনি সেটি শেষ করত। ভালো বল হলেও ছক্কা মারা যায়, যদি সেটি করতে পারেন, বোলারকে তখন নতুন করে ভাবতে হয়। তাই আমি এটি অনুশীলন করি। আমি দেখতাম কীভাবে মহেন্দ্র সিং ধোনি ম্যাচ শেষ করে। আমি একই পজিশনে ব্যাট করি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। আমি ম্যাচ শেষ করেছি এবং তাকে উৎসর্গ করেছি।’
ছক্কা মারার সামর্থ্য নিয়ে মুকুল যোগ করেন, ‘আমার শরীরে কিছুটা স্বাভাবিক শক্তি আছে, তবে আমি অনুশীলনও করি। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ছক্কা মারার অনুশীলন করি। নিয়মিত করলে এটি উন্নত হয়। গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে বিশেষভাবে এ নিয়ে কাজ করেছি, তাই এখন এটি (অভ্যাস) গড়ে উঠেছে।’