মেলা বসেছে, ভবিষ্যৎ তারকাদের মেলা
ছবি:

ইংল্যান্ডের নাসির হোসেন-মাইক অ্যাথারটন, পাকিস্তানের ইনজামাম উল হক-মুশতাক আহমেদ, টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা কিংবা শ্রীলংকার লিজেন্ডারি ব্যাটসম্যান সানাথ জয়সুরিয়ার মত ক্রিকেটাররা ক্যারিয়ার শেষ করেছেন বিশ্ব ক্রিকেটের 'ওয়ান অব দ্যা গ্রেট' হিসেবে। বিশ্ব মঞ্চে এসব ক্রিকেটাররা জায়গা করে নেয়ার আগে নিজেদেরকে চিনিয়েছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলে।
জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়ার পেছনে এসব বড় বড় ক্রিকেটাররা একে অপরের সাথে লড়েছেন যুব বিশ্বকাপের মঞ্চে। ৩০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৮ সালে শুরু হওয়া প্রথম যুব বিশ্বকাপ থেকেই তারকা ক্রিকেটার পেয়ে আসছে টেস্ট খেলুড়ে দেশ গুলো। ক্রিকেটের এই পরিসর থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়ের সংখ্যাটা অজস্র। এদের কেউ হয়েছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কিংবা বোলার।
৩০ বছর পর যদি পেছনে ফিরে তাকাতে হয় তাহলে দেখা যায় আধুনিক ক্রিকেটকে এগিয়ে নেয়ার পেছনে যুব বিশ্বকাপের গণ্ডি পার করা ক্রিকেটাররা অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৮৭ সালে এই টুর্নামেন্টের পথযাত্রা শুরু। ৮৭'র বিশ্বকাপে অ্যালান বোর্ডারের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া প্রথমবারের মত শিরোপা ঘরে তোলে। তার এক বছর পরই যুব ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের জায়গা করে নেয়ার জন্য এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রস্তুত করে তোলার জন্য শুরু হয় ইয়ুথ ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ যা বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হিসেবে পরিচিত।
ঊনিশের গন্ডি পার না করা ক্রিকেটারদের এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর থেকেই ক্রিকেট বিশ্ব খুঁজে পেয়েছিল ইনজামাম উল হক-ব্রায়ান লারা বা সানাথ জয়সুরিয়াদের। ইনজি, লারা কিংবা জয়সুরিয়াদের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। ১৯৮৮ সালে প্রথম যুব বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে অস্ট্রেলিয়া। সেবার স্বাগতিকও ছিল এই অজিরাই। ইনজামাম-মুশতাকদের পাকিস্তানকে ফাইনালে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথম যুব বিশ্বকাপের ট্রফি জয় করে জিওফ পার্কারের অস্ট্রেলিয়া।
সেবার টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলারও ছিলেন ১৯ উইকেট নেয়া লেগি মুশতাক আহমেদ। পার্কারের সেই দলে ছিলেন স্টুয়ার্ট ল'র মত তরুন ক্রিকেটার। যিনি পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি বিশ্ব মঞ্চে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন। ৩০ বছর পর সেই ল' এখন কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেবা করে যাচ্ছেন। ১৯৮৮ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্যও ছিল একটি চমক।
সেই বিশ্বকাপের আসরে টাইগাররা অংশ না নিলেও সহযোগী দেশের হয়ে খেলেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক বনে যান। প্রথম আসর জমজমাট হলেও ছোটদের এই বিশ্বকাপ প্রথম আসরের পর দশ বছর মাঠে গড়ায় নি। ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১০ বছর পর বসে যুব বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় ইংল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ড যুবাদের ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে ওয়াইশ শাহ'র নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড। পরবর্তীতে এই ওয়াইশ শাহ খেলেছেন ইংলিশদের জাতীয় দলের হয়ে। সেই দলেই ছিলেন ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা অফ স্পিনার গ্রাহাম সোয়ান। রানার্স-আপ দল কিউইদের দলে ছিলেন জেমস ফ্র্যাঙ্কলিন, কাইল মিলস, মার্শাল ব্রাদার্স এবং লুই ভিনসেন্টের মতো ক্রিকেটাররা।
তবে ১৯৯৮ সালের যুব বিশ্বকাপ থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে ভারত। সেবছর ভারতের দলে ছিলেন বীরেন্দ্র শেহবাগ, হরভজন সিং, যুবরাজ সিং এবং মোহাম্মদ কাইফরা। এদের মধ্যে শেহবাগ, হরভজন এবং যুবরাজ ছিলেন ২০০৭ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ের দলের অন্যতম সদস্য।
যুবরাজ সিং ছিলেন ২০১১ বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট। একই বছর উঠে এসেছেন পাকিস্তানের আব্দুর রাজ্জাক, সাইদ আনোয়ার এবং শোয়েব মালিকদের মত ভবিষ্যৎ তারকারা। ৯৮'র যুব বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত সরাসরি অংশ নেয় বাংলাদেশ। নিজেদের অংশ নেয়া প্রথম আসর থেকেই টাইগাররা পেয়েছে আল শাহরিয়ার রোকন-মঞ্জুরুল ইসলামদের।
এর দুই বছর পর আবারো বসে যুব বিশ্বকাপের আসর। সেবার আয়োজক ছিল শ্রীলংকা, আর স্বাগতিক শ্রীলংকাকে হারিয়ে প্রথম বারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে মোহাম্মদ কাইফের ভারত। সেবারও ভারতের দলে ছিলেন যুবরাজ-কাইফরা। টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারও হয়েছিলেন যুবরাজ।
পরের আসরেও পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন শোয়েব মালিকরা। তবে সেবছরের বিশ্বকাপ থেকে বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেট পেয়েছে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ম্যাককালাম অংশ নেন যুবাদের বিশ্বকাপে।
২০০২ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল কিউইরা। কিউইদের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের মত যুব বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে অজিরা। শিরোপা না জিতলেও ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক গ্রায়াম স্মিথ। ছিলেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলাও।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী দলে ছিলেন শন মার্শ, জর্জ বেইলি এবং ক্যামেরন হোয়াইটের মত ক্রিকেটাররা... যারা পরবর্তীতে অজিদের জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। ক্যামেরন হোয়াইট ছিলেন সে বছরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান। একই প্ল্যাটফর্ম থেকে পাকিস্তান পেয়েছে উমর গুল-সালমান বাটদের। খালি হাতে ফেরে নি বাংলাদেশও। ২০০২ সালের যুব বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে আফতাব আহমেদ, মোহাম্মাদ আশরাফুল, নাফিস ইকবালদের মত ক্রিকেটারদের। এসব ক্রিকেটারদের হাত ধরেই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের তুলে ধরতে শুরু করে টাইগাররা।
এরপর ২০০৪ সালে বিশ্বকাপের পঞ্চম আসর বসে বাংলাদেশে। বিশ্বকাপের স্বাগতিক দল বাংলাদেশের দলের হয়ে খেলেছেন বর্তমান দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং টেস্টে বাংলাদেশের অন্যতম সফল স্পিনার এনামুল হক। সেবারের আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলারও ছিলেন এনামুল যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্বিতীয় সেরা বোলারে পরিণত হয়েছেন।
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত শিরোপা ঘরে তোলে খালিদ লতিফের পাকিস্তান। সেবার ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে শিরোপা জয় করেছিলো পাকিস্তানিরা। বিশ্বকাপ জয়ী দল থেকে পাকিস্তান জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন পেসার ওয়াহাব রিয়াজ-ফাওয়াদ আলমরা। ভারতের সুরেশ রায়না, শিখর ধাওয়ান, দীনেশ কার্ত্তিকরা সেবার খেলেছিলেন ভারতের জার্সিতে। সেবছর টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যানও ছিলেন বাঁহাতি ওপেনার শিখর ধাওয়ান, যিনি বর্তমানে ভারতের ওপেনার হিসেবে বেশ সফল।
২০০৪ সালের পর ২০০৬ সালে নাটকীয় ভাবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বতাধীন পাকিস্তান। পরপর দুই বার যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে একমাত্র পাকিস্তান। লো স্কোরিং থ্রিলারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে পাকিস্তানকে শিরোপা এনে দেয় সরফরাজের পাকিস্তান। সেই সরফরাজের অধীনে ২০১৭ সালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় লাভ করে পাকিস্তান। সেবার ভারতের বিশ্বকাপ দলে থাকা রবীন্দ্র জাদেজা-রোহিত শর্মারা এখন ভারতের ন্যাশনাল টিমের নিয়মিত চেহারা।
একই বছর সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ অতিবাহিত করে মুশফিকুর রহিমের বাংলাদেশ। সেবার প্রথম বারের মত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করে যুবা টাইগাররা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ছাড়াও সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের মত ভবিষ্যৎ তারকার খোঁজ পায় বাংলাদেশ, যারা পরবর্তীতে দেশের ক্রিকেটকে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াতে অবিশ্বাস্য ভূমিকা পালন করে চলছে। সেই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের মঈন আলী, নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো-টিম সাউদিরাও অংশ নিয়েছিলেন।
ভবিষ্যৎ তারকায় ভরা ২০০৬ যুব বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান ছিলেন ভারতের বর্তমান ওপেনার রোহিত শর্মা। আর বোলারদের মধ্যে পিজুশ চাওলা ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার, যিনি ভারতের হয়ে খেলেছেন। পরের বিশ্বকাপও বিশ্ব ক্রিকেটকে দুই হাত ভরে উপঢৌকন দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের বর্তমান অধিনায়ক ভিরাট কোহলি উঠে এসেছেন ২০০৮ সালের আসর থেকেই। কোহলির হাত ধরেই দ্বিতীয় বারের মত যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ভারত।
বৃষ্টি বিঘ্নিত ফাইনালে ওয়েন পারনেলের দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১২ রানে হারায় তারা। তবে বলা যেতে পারে ২০০৮ সালের আসর থেকে সব দলই বড় বড় ক্রিকেট তারকাকে খুঁজে পেয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েন পারলেন-রাইলি রুশো, ইংল্যান্ডের জেমস টেইলর, লিয়াম ডওসন, স্টিভেন ফিন, শ্রীলংকার দীনেশ চান্দিমাল, কুশল এবং থিসারা পেরেরা, উইন্ডিজদের ড্যারেন ব্রাভোরা উঠে এসেছেন এই বিশ্বকাপের আসর থেকেই।
তবে সবচেয়ে বেশী তারকা ক্রিকেটার পেয়েছে পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ড। বর্তমান পাকিস্তান দলে খেলা ইমাদ ওয়াসিম, আহমেদ শেহজাদ, জুনায়েদ খান, শান মাসুদ, উসামা মির এবং উমর আকমলরা এখান থেকেই জাতীয় দলের পথটা সহজ করে নিয়েছেন। আর কিউইরা পেয়েছে বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের দলপতি কেন উইলিয়ামসন, পেসার টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট এবং কোরি অ্যান্ডারসনদের।
বিশ্বকাপের এই আসর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন নাসির হোসেন,মোহাম্মদ মিথুন, রুবেল হোসেনদের মত ক্রিকেটাররা। ২০০৮ সালের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন কিউই পেসার টিম সাউদি যিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১০ সালে আবারো ফাইনালে ওঠে পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়া। সেবার হামাদ এবং বাবর আজমদের পাকিস্তানকে হারিয়ে তৃতীয় শিরোপা জেতে মিচেল মার্শের অস্ট্রেলিয়া। এই মিচেল মার্শই এখন অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে নিয়মিত ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন।
আর পাকিস্তানের বাবর আজম প্রতিনিয়ত জাতীয় দলের হয়ে খেলে গড়ে যাচ্ছেন একের পর এক রেকর্ড। একই আসরে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলা তিন ক্রিকেটার সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার এবং মমিনুল হক এখন বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার। ইংল্যান্ডের জেমস ভিনস, বেন স্টোকস এবং জস বাটলাররা এখন ইংলিশদের জার্সিতে বিশ্ব মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন, এরাও খেলেছিলেন ২০১০ এর যুব বিশ্বকাপে। বর্তমান উইন্ডিজ দলের অন্যতম সেরা ওপেনার এভিন লুইস উঠে এসেছেন এই যুব বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকেই।
২০১২ সালে আবারো বিশ্বকাপ জেতে উম্মুকত চাঁদের ভারত। তাঁর নেতৃত্বে অজিদের হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্ট নিজেদের করে নেয় ভারতীয়রা। তবে সে বছরের বিশ্বকাপ থেকে সবথেকে বেশী অর্জন করেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান ছিলেন আনামুল হক বিজয়। সেখান থেকেই বাংলাদেশ জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে যান বিজয়। তিনি ছাড়াও আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ রাহি, নাইম ইসলাম, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন এবং তাসকিন আহমেদরাও উঠে এসেছেন সেই আসর থেকে। বর্তমানে তারা এখন বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার।
এরপরের আসরটিতে প্রথম বারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তানকে ফাইনালে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা আদায় করে নেয় এইডেন মার্করাম-কাগিসো রাবাদার দল। এই দুজনই এখন প্রোটিয়া দলের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত। প্রোটিয়ারা যেমন রাবাদাকে পেয়েছে যুব বিশ্বকাপের আসর থেকে বাংলাদেশও পেয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের মতো পেস তারকাকে। সেবছর বাংলাদেশ যুবাদের নেতৃত্বে ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
সর্বশেষ বিশ্বকাপের ১১তম আসরটি বসে বাংলাদেশে। সেবার ঘরের মাঠেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রথম বারের মত সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে উইন্ডিজদের কাছে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয় মিরাজ-শান্তদের। বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া মেহেদি হাসান মিরাজ এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। আরেক তরুন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনও ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন জাতীয় দলের অন্যতম সদস্য।
এর আগের বছর ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিলো উইন্ডিজরা। সেটা ছিল তাদের প্রথম শিরোপা। ভারতের দলে ছিলেন সরফরাজ আহমেদ, ইশান কিশানদের মতো তরণরা। উইন্ডিজ দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখা ফাস্ট বোলার আলজারি জোসেফ ইতিমধ্যেই জাতীয় দলের জার্সি পেয়ে গেছেন। আসরের সেরা ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমায়ারও জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। দুই বছর আগে বাংলাদেশের মাটিতে সফর আয়োজনের পর এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে লড়াই হবে যুব বিশ্বকাপের ১২তম আসরের।
মোট ১৬ দলের লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছে পুরো বিশ্ব। আসন্ন আসরে অংশ নিতে ইতিমধ্যে নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করছে যুবা টাইগাররা। টাইগারদের মত অংশ গ্রহণকারী সব দলই এখন নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করছে বিশ্বকাপের মূল পর্বের লড়াইয়ের জন্য। উদ্বোধনী দিন স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উইন্ডিজরা। একই দিন নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে সাইফ হাস??নের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। নামিবিয়া ছাড়াও গ্রুপ পর্বে কানাডা এবং শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বে যুবা টাইগাররা।
যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে এবার নেতৃত্ব দিবেন তরুণ ক্রিকেটার সাইফ হাসান। সাইফ ছাড়াও বাংলাদেশ দলে এবার আছেন পিনাক ঘোষ, রবিউল হক, নাঈম হাসান, আফিফ হোসেন, শাকিল হোসেন রনি, হোসেন তৌহিদ হৃদয়, আমিনুল ইসলাম,মাহিদুল ইসলাম,হাসান মাহমুদ,মোহাম্মদ নাঈম,কাজী অনিক,মোহাম্মদ রকিব,টিপু সুলতানরা। বাকি অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে যাদের উপর নজর থাকবে তারা হলেন ভারতের পৃথিবী শাহা, নিউজিল্যান্ডের কাইলম বশিয়ার, অস্ট্রেলিয়ার জেসন সাংহা, ইংলিশদের হ্যারি ব্রুক এবং আফগানদের দুই স্পিনার জহির খান ও মুজিব জাদরানের উপর।
কে জানে, এখান থেকেই হয়তো ভবিষ্যতের কিংবদন্তী খুঁজে পাবে ক্রিকেট বিশ্ব!