পিটারসেনের দলে ফেরাটা শুধু ব্যাটিং পরামর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাচ্ছেন না ইংল্যান্ডের সাদা বলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। দল কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, খেলোয়াড়দের মানসিকতা কেমন, এমনকি কোচিং ব্যবস্থায় কোথায় উন্নতি দরকার সবকিছুতেই পিটারসেনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলতি সাদা বলের সিরিজ দিয়েই শুরু হয়েছে পিটারসেনের নতুন দায়িত্ব।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিটারসেনের প্রভাব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ম্যাককালাম। ম্যাককালাম বলেন, 'পিটারসেন দলের সঙ্গে যে শক্তি ও উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে, তা অসাধারণ। তাকে ড্রেসিংরুমের অংশ হিসেবে পাওয়া আমার জন্য বড় সুযোগ। সে অসাধারণ একজন ক্রিকেটার ছিল, খেলাটাকে অন্যভাবে দেখত এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো কিছুই বাদ রাখত না। দলের অনেক খেলোয়াড় ছোটবেলায় তাকে দেখে বড় হয়েছে এবং তাকে আদর্শ মানত।'
পিটারসেন ইংল্যান্ডের হয়ে ১০৪ টেস্ট, ১৩৬ ওয়ানডে ও ৩৭ টি-টোয়েন্টিসহ মোট ২৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। টেস্টে ২৩টি এবং ওয়ানডেতে ৯টি সেঞ্চুরি আছে তার। অ্যাশেজ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এই ব্যাটার ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। এরপর ধারাভাষ্য ও বিশ্লেষণে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন। চলতি মাসের শুরুতে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে তার নিয়োগের ঘোষণা আসে।
তবে পিটারসেনকে শুধু ব্যাটারদের পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব দিতে চান না ম্যাককালাম। বরং তার সরাসরি ও খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গিকে পুরো দলের উন্নতির কাজে ব্যবহার করতে চান ইংল্যান্ডের কোচ। অতীতে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন পিটারসেন। সেই সমালোচনার বিষয়টিকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন ম্যাককালাম।
এ প্রসঙ্গে বিবিসিকে ম্যাককালাম বলেন, 'পিটারসেন আমাকে চ্যালেঞ্জ করুক এটাই আমি চাই। সে শুধু ব্যাটিং নিয়ে কাজ করবে না, পুরো পরিবেশটা দেখবে, আমরা কীভাবে কাজ করছি সেটাও দেখবে। কোনো কিছু তার চোখে পড়লে সে যেন আমাকে প্রশ্ন করে। আগের সমালোচনাগুলো নিয়েও আমার কোনো সমস্যা নেই। কিছু সমালোচনা সঠিক হতে পারে, কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে। সবাইকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া স্বাস্থ্যকর।'
বিশ্বকাপের আগে পিটারসেনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে চায় ইংল্যান্ড। বিশেষ করে সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার ভিন্ন কন্ডিশনে ব্যাটারদের মানিয়ে নেওয়া এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুটও পিটারসেনের ফেরাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। রুটের মতে, তার উপস্থিতি দলে বাড়তি শক্তি ও উদ্দীপনা তৈরি করছে।
২০১৯ সালের পর ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স আর আগের মতো ধারাবাহিক নয়। ২০২৩ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর এবার তাই বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে দলটি। পিটারসেনের মতো আগ্রাসী মানসিকতার সাবেক তারকাকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা রূপে ফিরতে চায় ইংল্যান্ড। ম্যাককালামের বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতাই হতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার পথে তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাড়তি শক্তি।