সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ের অন্যতম শক্তির জায়গা তার মাথার ওপর দিয়ে ও শরীরের পাশ দিয়ে আসা বল সামলানোর দক্ষতা। এই জায়গাতেই তাকে পরীক্ষা করতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন লি। তার পরিকল্পনায় থাকত শরীরের কাছে দ্রুতগতির শর্ট বল, প্রয়োজনে একই ধরনের বল বারবার করাও।
লি বলেন, ‘কেউ যদি ভালোভাবে মাথার ওপর দিয়ে বা শরীরের পাশ দিয়ে আসা বল খেলতে পারে, আমি সেটা পছন্দ করতাম। কারণ তখন লড়াইটা জমে যায়। সূর্যবংশীর বিপক্ষে আগে তার ব্যাটিং বিশ্লেষণ করতাম। এরপর সুযোগ বুঝে হেলমেটের কাছাকাছি বল করতাম। সে হয়তো আমাকে ছক্কাও মারতে পারত। কিন্তু তাতে আমি নিরুৎসাহিত হতাম না।’
সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ের যে ইনিংসটি লির মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে, সেটি গত আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে করা ৯৭ রান। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিপক্ষে ভয়ডরহীন ব্যাটিং করেছিলেন ভারতের এই তরুণ ব্যাটার।
‘সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিপক্ষে ৯৭ রান করেছে। তারা প্রচণ্ড গতিতে বল করছিল। তবু নাকের সামনে আসা বলও সে মাথার ওপর দিয়ে খেলছিল। আর ও সঠিক ক্রিকেটীয় শট খেলছে। আবার কোথা থেকে যেন এমন শক্তি বের করে আনছে, সেটাও অসাধারণ।’
গত মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন সূর্যবংশী। ১৬ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৭৭৬ রান। পুরো আসরজুড়েই ছিল তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। এর পুরস্কারও পেয়েছেন দ্রুত। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুটা কঠিন হলেও জিম্বাবুয়ে সফরে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।
সূর্যবংশীর বয়স নিয়ে অবশ্য ক্রিকেট মহলে আলোচনা কম নয়। তবে লির কাছে বয়সের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর সামর্থ্য, ‘সে অবিশ্বাস্য। ভারতের বাইরে সবাই জানতে চায়, আসলেই ওর বয়স ১৫ কি না। এটাই যেন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। কিন্তু আমি ওর বয়স নিয়ে মাথা ঘামাই না। ১৫ হলে ভালো, ১৭ বা ১৮ হলেও কী সমস্যা!’