১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর এবারই প্রথম অলিম্পিকের আসরে ক্রিকেট থাকছে। আইওসির বিশ্বাস, বিশ্বের ২০০ কোটিরও বেশি ক্রিকেটভক্তের পাশাপাশি ভারতের বিশাল বাজার অলিম্পিকের জনপ্রিয়তা ও আয় দুইই বাড়াবে। বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতেও ক্রিকেটকে বড় হাতিয়ার হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
আইওসির ক্রীড়া পরিচালক পিয়েরে ডুক্রে বলেন, 'ক্রিকেট এমন সব বাজারে খুবই জনপ্রিয়, যেখানে অলিম্পিক এখনও তেমনভাবে পৌঁছাতে পারেনি।'
তিনি আরও বলেন, 'লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট এমন অনেক দর্শককে নিয়ে আসবে, যারা সাধারণত অলিম্পিক দেখে না। এটি দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আরও বেশি সুযোগ পাবে, আর অলিম্পিকও এমন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবে, যেখানে ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা।'
ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই ২০২৮ অলিম্পিকের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আইওসি জানিয়েছে, এই অঞ্চলের সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। প্যারিস অলিম্পিকের সম্প্রচার চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার।
আইওসির এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, 'ভারতীয় উপমহাদেশে ২০২৮ অলিম্পিকের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। বাজারে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, যার পেছনে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে।'
ক্রিকেটকে অলিম্পিকে ফেরানোর পথে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের জনপ্রিয়তা। দুই দশক আগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট প্রচলনের পর থেকেই এই ফরম্যাটকে অলিম্পিকে যুক্ত করার আলোচনা ছিল। পাঁচ দিনের টেস্ট বা দীর্ঘ সময়ের ওয়ানডে অলিম্পিকের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু প্রায় তিন ঘণ্টার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট অলিম্পিকের সময়সূচির সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। ২০১৪ সালে আয়োজক শহরকে অতিরিক্ত খেলা যুক্ত করার সুযোগ দেওয়ার পরই ২০২৮ অলিম্পিকে ক্রিকেট ফেরানোর পথ তৈরি হয়।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত বলেন, 'অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার দিক থেকে টি-টোয়েন্টি সবচেয়ে উপযোগী ফরম্যাট। এই সংস্করণই ক্রিকেটকে বিশ্বের আরও বেশি দেশের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এখন অনেক বেশি দেশ এই ফরম্যাটে খেলছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বৈশ্বিক করেছে। এটি সহজে উপভোগ করা যায় এবং অলিম্পিকের জন্য প্রয়োজনীয় সব বৈশিষ্ট্যই এই ফরম্যাটে রয়েছে।'
ক্রিকেটকে অলিম্পিকে ফিরিয়ে আনতে প্রায় দুই দশকের চেষ্টা করতে হয়েছে। ২০০৭ সালে আইওসির স্বীকৃতির প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২৮ অলিম্পিকে জায়গা নিশ্চিত হতে ২১ বছর সময় লেগেছে।
পিয়েরে ডুক্রে বলেন, 'বিভিন্ন সময় আইসিসি ও অলিম্পিক আন্দোলনের লক্ষ্য এক ছিল না। তবে ধীরে ধীরে দুই পক্ষের ভাবনা এক জায়গায় এসেছে। আর সেটিই শেষ পর্যন্ত ২০২৮ অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির পথ তৈরি করেছে।'
গত দুই দশকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের বাণিজ্যিক চেহারা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যমানের এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ২০২৬ মৌসুমে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে আইপিএলের দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ১২০ কোটি।
আইওসির ধারণা, ২০২৮ সালের পরও অলিম্পিকে ক্রিকেট থাকবে। ২০৩২ সালের অলিম্পিক হবে ক্রিকেটপ্রধান দেশ অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। আর ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের দৌড়ে রয়েছে ভারতের আহমেদাবাদ।
সঞ্জোগ গুপ্ত জানান, ক্রিকেটের প্রায় অর্ধেক দর্শকের বয়স ৩৫ বছরের নিচে এবং ৩৫ শতাংশের বয়স ২৭ বছরের কম। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে ক্রিকেট অলিম্পিকের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান বড় দলীয় খেলাগুলোর একটি। অলিম্পিক আন্দোলনের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ।'