হারারে স্পোর্টস ক্লাবে রান তাড়ায় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ঝড় তোলেন সূর্যবংশী। পেসার রিচার্ড এনগারাভাকে দুইটি ছক্কার সঙ্গে মারেন একটি চারও। যদিও পরের ওভারে উইকেট হারাতে হয় ভারতকে। ব্লেসিং মুজারাবানির ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে ব্র্যাড ইভান্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষেক শর্মা। বাঁহাতি ওপেনার ফিরলেও নিজের আক্রমণাত্বক ব্যাটিং থামাননি সূর্যবংশী। একের পর এক বাউন্ডারিতে দ্রুত রান তুলেছেন।
পাওয়ার প্লেতে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান তোলে ভারত। সফরকারীদের বেশিরভাগ রানই আসে সূর্যবংশীর ব্যাট থেকে। পাওয়ার প্লেতে ১৭ বল খেলে বাঁহাতি ওপেনার করেন ৪৮ রান। পরের ওভারের প্রথম বলেই ডাবল নিয়ে ১৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বয়সে হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন তার।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কীর্তিপুরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১৫ বছর ৩৪০ দিন বয়সে হাফ সেঞ্চুরি করা নেপালের কুশাল মাল্লার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সব দেশ মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এতদিন রেকর্ডটি ছিল জিব্রাল্টারের লুই ব্রুসের। ২০২১ সালে মাল্টার বিপক্ষে ১৬ বছর ৫৬ দিন বয়সে এমন রেকর্ড গড়েছিলেন। সেটিও ভেঙে দিয়েছেন সূর্যবংশী। পূর্ণ সদস্যের দেশের ক্রিকেটার রেকর্ডটি ছিল রহমানউল্লাহ গুরবাজের।
২০১৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭ বছর ২৯৬ দিন বয়সে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন আফগানিস্তানের এই ব্যাটার। সেটাও এখন ভারতীয় ওপেনারের দখলে। সাদা বলের ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল শচীন টেন্ডুলকারের। ১৯৮৯ সালে ফয়সালাবাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬ বছর ২১৩ দিন বয়সে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। কিংবদন্তি শচীনের রেকর্ডও নিজেদের দখলে নিয়েছেন সূর্যবংশী।
এতগুলো রেকর্ড গড়ে পরের বলেই অবশ্য আউট হয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। প্রথম আন্তর্জাতিক হাফ সেঞ্চুরিতে সূর্যবংশীকে থামতে হয়েছে ১৯ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলে। পরবর্তীতে ইশান ও আইয়ার মিলে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন। ২৪ বলে ৩৫ রান করে আউট হন ইশান। তবে ২৪ বলে ২৮ রান করে তিলক ভার্মাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক আইয়ার। পাশাপাশি টানা দুই সিরিজ হারের পর প্রথম জয় পেয়েছে ভারত।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে মাত্র ১২৫ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৪ বলে ৩৯ রান করেছেন ওয়েসলি মাধেভেরে। এ ছাড়া রায়ান বার্ল ২৬, তাদিওয়ানাশে মারুমানি ২৭ ও বেন কারান ১০ রান করেছেন। সফরকারী ভারতের হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন প্রিন্স ও মায়াঙ্ক। একটি করে উইকেট পেয়েছেন শিভাম দুবে ও রবি বিষ্ণই। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মায়াঙ্ক।