টানা ১২ বছর ভারতের জার্সিতে দলের অন্যতম ভরসা হয়ে ছিলেন শামি। ২০১৯ ও ২০২৩, টানা দুই বিশ্বকাপে ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েন এই পেসার। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের এই সদস্য ২০২৫-২৬ মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬৭ উইকেট শিকার করেন। তবুও অজিত আগারকারের নির্বাচক কমিটির মন গলাতে পারেননি শামি।
সম্প্রতি আইপিএলের প্রথম দুই ম্যাচেও দারুণ বোলিং করায় আবারো আলোচনায় আছেন শামি। সবশেষ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৯ রান খরচায় দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন শামি। ৩৫ বছর বয়সে এসেও শামির নিজেকে ছাড়িয়ে যাবার এই চেষ্টায় মুগ্ধ সৌরভ।
সৌরভ বলেন, 'শামির উচিত বুমরাহর সাথে বল করা, অন্য কোথাও নয়। সে এতটাই ভালো। আমরা সবাই দেখেছি সেদিন হায়দরাবাদের বিপক্ষে তার সেই স্পেল- চার ওভারে মাত্র ৯ রান, যেখানে সে টি-টোয়েন্টির দুই সেরা ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মাকে আউট করেছে। সেটা ছিল সত্যিই অসাধারণ।'
আইপিএলের পাশাপাশি এখনো ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য টুর্নামেন্টে খেলা চালিয়ে যাওয়ায় শামির মধ্যে জাতীয় দলের স্পৃহা দেখছেন সৌরভ। তিনি বলেন, 'সে যে রঞ্জি ট্রফিতে খেলা চালিয়ে যাচ্ছে, এতে আমি খুবই খুশি। একজন ফাস্ট বোলারের জন্য এটা কঠিন, কিন্তু নতুন বলে মোহাম্মদ শামিকে দৌড়ে এসে বল করতে দেখা- এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না।'
আইপিএলের আগে সবশেষ রঞ্জি ট্রফিতেও বল হাতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন শামি। মাত্র ১৬.৭২ গড়ে ৩৭ উইকেট শিকার করেন সেই টুর্নামেন্টে। সব মিলিয়ে এমন দারুণ ফর্মের শামিকে জাতীয় দলে দেখতে চান সৌরভ।
সৌরভ আরো যোগ করেন, 'আমি এখনও বিশ্বাস করি, তার ভারতের হয়ে খেলা উচিত। আশা করি, সে আবার সুযোগ পাবে, কারণ সে এতটাই ভালো। যখন বলটা সোজা সিমে বের হয়, সেটা দেখা সত্যিই উপভোগ্য।'
'সে ফিট এবং নিখুঁতভাবে বোলিং করছে । টানা কয়েক মাস বল করার পর স্বাভাবিকভাবেই একজন বোলার সেরা ফিটনেসে পৌঁছে যায়। কোনো অনুশীলনই ম্যাচের বিকল্প হতে পারে না। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই এবং তাকে আবার ভারতের জার্সিতে দেখতে চাই।'