চেন্নাইয়ের ড্রেসিংরুমের শান্ত পরিবেশও জহিরের কাজের ধরনকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে। ম্যাচের পর দীর্ঘ ব্রিফিং বা অতিরিক্ত বিশ্লেষণের বদলে সংক্ষিপ্তভাবেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার সংস্কৃতি রয়েছে চেন্নাইয়ে। জহিরও কঠোর কোচ হিসেবে পরিচিত নন। ধোনির শান্ত স্বভাবের সঙ্গে তার কাজের ধরন মিললে নতুন কোচিং জুটি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে চেন্নাইয়ের প্রধান নির্বাহী কাসি বিশ্বনাথন বলেন, 'এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না। ক্রিকেট কমিটিই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি এমএসের পরামর্শ ছিল। তিনি রুতুরাজের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর দুজন রূপা গুরুনাথের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।'
২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতের হয়ে তিন সংস্করণে ১৬৪ ম্যাচে একসঙ্গে খেলেছেন ধোনি ও জহির। এবার সাবেক সতীর্থকে কোচ হিসেবে বেছে নেওয়ায় দুজনের পুরোনো বোঝাপড়া চেন্নাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফ্লেমিংয়ের মতো বিদেশি কোচের বদলে এবার ভারতীয় কাউকেই বেছে নিল চেন্নাই, আর সেই সিদ্ধান্তে ধোনির পছন্দই বড় ভূমিকা রেখেছে।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ক্রিকেট পরিচালনা ও মেন্টরিংয়ে কাজ করেছেন জহির। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্রিকেট উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০২৫ আইপিএলে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের মেন্টর হিসেবেও কাজ করেছেন। এবারই আইপিএলে প্রথমবার সরাসরি প্রধান কোচের দায়িত্ব পেলেন তিনি।
২০১৭ সালে ভারতের বোলিং কোচ হওয়ার দৌড়েও ছিলেন জহির। ক্রিকেট পরামর্শক কমিটি তার নাম সুপারিশ করলেও শেষ পর্যন্ত ভরত অরুণকে বেছে নেন রবি শাস্ত্রী। তরুণ ক্রিকেটারদের, বিশেষ করে পেসারদের মেন্টর হিসেবে জহিরের অভিজ্ঞতাই এবার চেন্নাইয়ে কাজে লাগাতে চাইবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ফ্লেমিংয়ের দীর্ঘ অধ্যায়ের পর ধোনি-রুতুরাজ-জহিরের সমন্বয়ে চেন্নাইয়ের নতুন যাত্রা এখন শুরু।