মিলারের রান না নেয়াকে ‘পাগলাটে’ বলছেন অশ্বিন

আইপিএল
রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ডেভিড মিলার, ফাইল ফটো
রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ডেভিড মিলার, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
শেষ দুই বলে দুই রানের সমীকরণে ডেভিড মিলার চাইলেই সিংগেল নিয়ে ম্যাচটা টাই করতে পারতেন। কিন্তু অপর প্রান্তে থাকা কুলদীপ যাদবের ওপর ভরসা করতে পারলেন না দিল্লি ক্যাপিটালসের এই ব্যাটার। শেষ বলেও মিলার ব্যাটে বল লাগাতে না পারায় দিল্লি ম্যাচ হারে এক রানে। সেই বলে মিলারের সিংগেল নেবার সুযোগ নষ্ট করা নিয়ে রীতিমতো হতভম্ব সবাই। সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন তো মিলারের এমন কান্ডকে 'পাগলাটে' বলে আখ্যা দিলেন।

২১১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লোকেশ রাহুলের ৪১ বলে ৯২ রানের ইনিংসে চড়ে জয়ের পথেই ছিলো দিল্লি। রাহুল আউট হবার পর দিল্লির আশা পুরোটাই ছিলো মিলারকে ঘিরে। দলকে জয়ের কাছাকাছিও নিয়ে গিয়েছিলেন এই ব্যাটার। শেষ ওভারে ১০৩ মিটারের বিশাল ছক্কায় তিনি তখন ১৮ বলে ৪১ রানে অপরাজিত। শেষ দুই বলে দুই রানের লক্ষ্যকে তখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা মনে হচ্ছিলো।

‎ইনিংসের শেষ ওভারের পঞ্চম বলটিতে এক অদ্ভুত কান্ড করে বসেন মিলার। অনায়াসে সিংগেল নেবার সুযোগ থাকলেও কুলদীপকে ফিরিয়ে দেন তিনি। শেষ বলে স্ট্রাইক ধরে রাখতে চাইলেন। কিন্তু শেষ বলটিতেও ব্যাট ছোঁয়াতে পারলেন না। বাই রান নেবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি কুলদীপ রান আউট হওয়ায়। হাতের মুঠোয় থাকা এমন ম্যাচ এক রানে হারায় মাঠেই রীতিমতো ভেঙে পড়েন মিলার।

‎মিলারের এমন কান্ডের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছেন না অশ্বিনও। সেই সিংগেল নিতে পারলে শেষ বলে এক রানের প্রয়োজনীয়তা থাকায় কুলদীপের ওপর মিলারের ভরসা করা উচিত ছিলো বলেও মনে করেন অশ্বিন।

‎নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, 'আমি ভাবছি কুলদীপ আর ডেভিড মিলারের সাথে ঠিক কী ঘটেছিল। আমি যদি কুলদীপ হতাম, তাহলে তাকে অন্য প্রান্তে পাঠানোর চেষ্টা করতাম। আমি বুঝতে পারছি না। এটা আমার বোঝার বাইরে। এটা একেবারেই পাগলাটে এক কান্ড।'

‎অশ্বিন আরো যোগ করেন, 'কারণ যদি ৪ বা ৬ রান দরকার হতো, তাহলে ঠিক ছিল। কিন্তু এখানে দরকার মাত্র ২ রান। আর সম্ভাবনাটা কী? তুমি ১ রান নিতে পারো। কুলদীপ অন্তত ব্যাট করার সুযোগ পেত। আর যদি না-ও পায়, তখন দৌড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা যেত। এমনকি কুলদীপ আউট হলেও, ২১০ রানের ম্যাচে যদি তুমি সুপার ওভারে যেতে পারো, সেটাও ভালোই অর্জন। আমি সত্যিই এটা মাথায় নিতে পারছি না।'

‎‎নিজের সাবেক দল দিল্লির এমন হার মেনে নিতে পারছেন সাবেক এই স্পিনার। মিলারের এমন কান্ডের কোনো কারণ খুঁজে না পেলেও মিলারের কষ্টটা অনুভব করতে পারছেন তিনি। তবে, হাতের মুঠোয় থাকা দুই পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ তিনি।

‎অশ্বিন বলেন, 'ভুল তো যে কারো সাথেই হতে পারে। সবাই ভুল করতে পারে- এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি নিশ্চিত, এই মুহূর্তে মিলার ভীষণ ভেঙে পড়েছে। কিন্তু তাদের চিন্তাভাবনাটা আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না। কী ভাবছিল তারা? আমি জানি না। দিল্লির দলটা এত শক্তিশালী, আমরা এটা নিয়ে আগেও কথা বলেছি। তবুও আমি তোমাদের বলেছিলাম, দিল্লি এমন কিছু একটা করে বসতে পারে যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়। যদি তুমি এভাবে হারো, তাহলে তুমি আসলে দুইটা কাজ করছো।'

'প্রথমত, তুমি তোমার দলের আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দিয়েছো। আর দ্বিতীয়ত, যদি আজ গুজরাট টাইটান্সের মতো একটি দল হারত, তারা টুর্নামেন্টে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায় সেটা ভাবতে শুরু করত। একটা "ক্যাচ টুয়েন্টি টু" (দুই দিকেই ফাঁদ) পরিস্থিতি তৈরি হতো। কিন্তু তুমি তাদেরকে আবার টুর্নামেন্টে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছো। তুমি তাদের একটা লাইফলাইন দিয়ে দিয়েছো, অথচ তুমি নিজে এখনো ৪ পয়েন্টেই আটকে আছো।'

আরো পড়ুন: