২০০৮ সালে প্রথমবার মাঠে গড়ায় আইপিএল। মাঠের ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা, টাকার ঝনঝনানি, তারকা ক্রিকেটারের ছড়াছড়িতে সবার শীর্ষে ভারতের টুর্নামেন্টটি। তাদের দেখাদেখি বিশ্ব ক্রিকেটে এসেছে বিপিএল, সিপিএল, এসএ টোয়েন্টি, পিএসএল, আইএল টি-টোয়েন্টি, দ্য হান্ড্রেডের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো।
সবশেষ কয়েক বছরে টি-টোয়েন্টি লিগের জনপ্রিয়তা ক্রমশই বেড়েছে। পিএসএল সেখানে একদমই পিছিয়ে নেই। ২০১৬ সালে পাঁচটি দল নিযে শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের লিগটি। চলতি মৌসুমে অংশ নিচ্ছে ৮টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। সম্প্রচার স্বত্ব, মার্কেট ভ্যালু, ফ্র্যাঞ্চাইজির ফি ও তারকা ক্রিকেটারের সংখ্যাও বেড়েছে।
কদিন আগে ক্রিকভিজের সহায়তায় বিশ্বের কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ সবচেয়ে বেশি জমজমাট সেটার একটা তালিকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোন লিগ সবচেয়ে বেশি বিনোদন দেয় সেই তালিকায় দুইয়ে পিএসএল। ৫ পয়েন্টের মধ্যে তারা পেয়েছে ৩.৯০। শীর্ষে থাকা আইপিএলের স্কোর ৪.৫৩। ইনিংসের শেষ বলে ম্যাচ শেষ হয়েছে এমন মানদণ্ডেও পিছিয়ে নেই পিএসএল।
পাকিস্তানের টুর্নামেন্টের ১১.৪০ শতাংশ ম্যাচ শেষ বলে শেষ হয়েছে। তাদের উপরে আছে কেবল আইপিএল ও দ্য হান্ড্রেড। ম্যাচপ্রতি গড়ে ৪৪টি বাউন্ডারি হয় পিএসএলে। একই সমান বাউন্ডারি হয় আইপিএলেও। অর্থাৎ এখানেও ভারতের লিগকে ভালোভাবেই টক্কর দিচ্ছে পিএসএল। বিনিয়োগে অবশ্য আইপিএল অনেক এগিয়ে। নাকভির বিশ্বাস, দ্রুতই এক নম্বর লিগ হবে পিএসএল।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান পিএসএল নিয়ে বলেন, ‘বিনিয়োগ করার জন্য পিএসএল এখন সবচেয়ে সেরা বাজার। পিএসএল দ্রুতই বিশ্বের এক নম্বর লিগ হবে, সেই সময়টা খুব বেশি দূরে নয়।’
নাকভি পিএসএলকে বিনিয়োগের সেরা বাজার বললেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। কয়েক বছরে মার্কেট ভ্যালু বাড়লেও আইপিএলের ধারেকাছে যেতে পারেনি তারা। কদিন আগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬০ কোটি রুপিতে। রাজস্থান রয়্যালস কিনতে খরচ হয়েছে ১৫ হাজার ২৯০ কোটি রুপি। অথচ পিএসএলে ১৭৫ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে বিক্রি হয়েছে হায়দরাবাদ। আর শিয়ালকোট (বর্তমান মুলতান সুলতান্স) কিনতে হয়েছে ১৮৫ কোটি রুপিতে।