১৭৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। সুলতানা খাতুনের বলে লেগ বিফোর হয়ে ফিরে যান জর্জিয়া ভোল। ৬ বলে ১১ রান করেন তিনি। এরপর অভিষিক্ত দিশা বিশ্বাস নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে উইকেট তুলে নেন। বেথ মুনির মিডল স্টাম্প উপড়ে ফেলেন এই পেসার। ১৪ বলে ২১ রান করেন মুনি।
এরপর পেরিকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ বোলারদের ওপর ঝড় চালাতে থাকেন সাদারল্যান্ড। পেরি ৬৪ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে সাদারল্যান্ড ৫২ বলে ১২ চারে ৭৪ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ১৬৪ বল আগেই ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় অজিদের। নিজেদের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো টাইগ্রেসরা।
এর আগে ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ রান তুললেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মেগান শুটের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ১ রানেই ফিরে যান মুর্শিদা। অন্যপ্রান্তে রানের জন্য ধুকতে থাকা শারমিন সুলতানাকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানিয়ে ফেরান শুট। শুটের বলে গ্লান্স করতে গিয়ে ফাইন লেগ অঞ্চলে অ্যালেনা কিংয়ের হাতে তালুবন্দি হন ২১ বলে ৬ রান করা শারমিন।
বড় দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে শারমিন ও অধিনায়ক জ্যোতির। কিন্তু ১৪ বলে ৩ রান করে শুটের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে জ্যোতি ফিরে গেলে ১৮ রানেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সোবহানা মোস্তারিকে সাথে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ করেন শারমিন।
দলীয় ৪৫ রানে বিপদ আরো বাড়ে বাংলাদেশের। শুটের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন মোস্তারি। এর আগে করেন ২৪ বলে ৯ রান। এরপর স্বর্ণাকে সাথে নিয়ে ৫৪ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামাল দেন শারমিন। ক্যারিয়ারের ১১ তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন এই ব্যাটার। কিন্তু ফিফটি করার পরপরই অ্যালিসা পেরির বলে পয়েন্টে নিকোলা ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। এর আগে ৯৩ বলে ৮ চারে ৫০ রান করেন শারমিন।
শারমিন আউট হবার পর এক প্রান্তে আগলে ছিলেন স্বর্ণা। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিও তুলে নেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। কিন্তু স্বর্ণাকে অপর প্রান্তে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত ১২১ বলে ৪ টি চারে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের শিকার হন এই ব্যাটার। ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অজিদের হয়ে শুট চারটি, অ্যাশলে গার্ডনার ও সাদারল্যান্ড দুইটি করে এবং পেরি ও কিং একটি করে উইকেট নেন।