সিরিজ জুড়েই নূন্যতম কোনো লড়াইয়ের মানসিকতা দেখাতে পারেনি পাকিস্তান। এ নিয়ে সমালোচনা করেছেন নাসের হুসাইন, মাইকেল ভন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের মতো খেলোয়াড়রা। পাকিস্তান দলকে ছেড়ে কথা বলেননি দীনেশ কার্তিকও। ইংল্যান্ড সিরিজে বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হিসেবে যুক্ত ছিলেন কার্তিক।
তাদের পারফরম্যান্স সামনে থেকেই দেখেছেন তিনি। পাকিস্তান দলকে তিনি অর্ডিনারি আখ্যা দিয়েছেন। প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তান দল ৯০ ওভারও ব্যাটিং করতে পারেনি চার ইনিংস মিলিয়ে। এ নিয়ে সমালোচনা করেছেন কার্তিক। টেস্ট ক্রিকেটে এমন ব্যাটিং মেনে নেয়া যায় না বলে জানিয়েছেন সাবেক এই ভারতীয় ক্রিকেটার।
কার্তিক পাকিস্তান দলের সমালোচনা করে বলেন, ‘ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ কাভার করতে গিয়ে একটা জিনিসই বারবার মনে হয়েছে—এই পাকিস্তান দল তো খুবই অর্ডিনারি! প্রথম দুটি টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়ে তারা সাকুল্যে ৯০ ওভারও ব্যাটিং করতে পারেনি! পিচে বোলারদের জন্য কিছুটা সুবিধা ছিল সত্যি, কিন্তু এমন কোনো ভূত ছিল না যে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯০ ওভারও উইকেটে টিকে থাকা যাবে না। টেস্ট ক্রিকেটের পর্যায়ে এই ব্যাটিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
এরপর তিনি আরও যোগ করেন, ‘নাসের হুসেইন একদম ঠিক কথা বলেছেন, এভাবে খেলে তারা আদতে টেস্ট ক্রিকেটেরই ক্ষতি করছে। পরপর দুই ম্যাচ হেরে তারা স্কোয়াডে সাত-সাতটি বদল আনল, ছাঁটাই করা হলো হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ আর বোলিং কোচ উমর গুলকে। শেষ ম্যাচে এসে তারা কেবল কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল।’
অবশ্য শেষ টেস্টে অভিষেক হওয়া রাজাউল্লাহর প্রশংসা করেছেন তিনি। পাকিস্তানের এই ব্যাটার ১০ নম্বরে নেমে ৯ ছক্কায় ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, তাও মাত্র ৬৩ বলে। বল হাতেও দারুণ করেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেন এই পেসার। দ্বিতীয় ইনিংসে যদিও উইকেট পাননি তিনি। কার্তিক বিস্ময় প্রকাশ করেছে আগে কেন তাকে খেলানো হয়নি তা নিয়ে।
কার্তিক যোগ করেন, ‘রাজাউল্লাহর কথাই ধরুন, শেষ টেস্টে এসে ছেলেটি এত দারুণ বল করল; অথচ তাকে শুরু থেকে দলে রাখা হয়নি কেন? ওদের নির্বাচকেরা আসলে কী ভাবছেন? কিসের ভিত্তিতে খেলোয়াড় বাছাই হচ্ছে? ঘন ঘন অধিনায়ক আর কোচ বদলে পুরো পরিবেশটাই এখন অস্থির। যার স্পষ্ট প্রভাব পড়ছে মাঠের পারফরম্যান্সে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে তাদের খেলা দেখে একবারও মনে হয়নি তারা আসল প্রতিযোগিতাটা দিতে পারছে। সত্যি বলতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অধিকাংশ টেস্ট দলের সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার কোনো সামর্থ্যই এই পাকিস্তানের নেই—যা অত্যন্ত হতাশাজনক।’