পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটকে অসম্মান ও অবহেলা করছে: নাসের

ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজ
ওলি রবিনসনের প্রথম বলেই আউট হয়েছেন সাইম আইয়ুব
ওলি রবিনসনের প্রথম বলেই আউট হয়েছেন সাইম আইয়ুব
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ফোন কলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ইংল্যান্ডের বিমান ধরলেন সাইম আইয়ুব। এজবাস্টন টেস্টের একাদশে সুযোগও পেলেন বাঁহাতি ওপেনার। ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ইনিংসেই শূন্য করলেন সাইম। ভালো আসায় পরিবর্তন করলেও সেটা কাজে দেয়নি একটুও। প্রায় এক বছর ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলা বাঁহাতি ব্যাটারকে টেস্ট খেলতে নামিয়ে দিয়ে পাকিস্তান সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে অসম্মান করছে বলে মন্তব্য করেছেন নাসের হুসেইন।

সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের ক্রিকেটে একদমই ভালো করতে পারছে না পাকিস্তান। বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর ইংলান্ডেও নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারেননি বাবর আজমরা। ইংল্যান্ডে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে সফরকারীরা। এমন হারের পর তৃতীয় টেস্টের একাদশে দলে বড়সড় পরিবর্তন আনে পিসিবি। দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সাতজনকে।

দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে ইমাম উল হক, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আঘার মতো ক্রিকেটারদের। পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও পেস বোলিং কোচ উমর গুলকেও টেস্ট দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাসের মনে করেন, সিরিজের মাঝ পথে এভাবে ক্রিকেটারদের বাড়ি পাঠিয়ে দিলে দলের মধ্যে মৌলিক মূল্যবোধগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কের মতে, তখন ক্রিকেটাররা নিজের জন্য খেলতে থাকে।

স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপকালে নাসের বলেন, ‘সিরিজের মাঝপথেই খেলোয়াড়দের সতীর্থ ও রুমমেটদের দল থেকে বাদ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি আগের ম্যাচে ৫ উইকেট পাওয়া বোলারকেও বাদ পড়তে হয়েছে। যখন ৭ জন খেলোয়াড়কে টেস্টের মাঝে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তখন দলের মৌলিক মূল্যবোধগুলো নষ্ট হয়ে যায়। খেলোয়াড়েরা তখন ভাবতে শুরু করে, দল যখন আমার সতীর্থদের তোয়াক্কা করে না, তখন আমি কেন দলের জন্য খেলব? আমি কেবল নিজেরটা দেখি।’

তৃতীয় টেস্টের আগে সাতজনকে দেশে পাঠিয়ে পাঁচজনকে ডেকে পাঠায় পিসিবি। সেই পাঁচজনের একজন ছিলেন সাইম। ইংল্যান্ড সফরে যখন ডাক পান তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। জ্যামাইকা কিংসম্যানের হয়ে ছন্দেও ছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি খেলতে থাকা ব্যাটারকে আচমকা টেস্ট খেলতে নামিয়ে দেয় পাকিস্তান।

ফলস্বরূপ এজবাস্টন টেস্টের দুই ইনিংসেই ডাক মেরেছেন সাইম। অথচ ২০২৫ সালের সাউথ আফ্রিকা সফরের পর জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলেননি তিনি। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো ম্যাচও খেলেননি বাঁহাতি ওপেনার। এত পরিবর্তনের পরও তৃতীয় টেস্টে ইনিংস হার এড়ানোর জন্য লড়াই করছে পাকিস্তান। নাসের মনে করেন, এভাবে টেস্ট ক্রিকেটের অসম্মান করছে তারা।

এ প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘পাকিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে সাইম আইয়ুবকে দেখলে মনে হয়, অনেকক্ষণ ফিল্ডিংয়ে থাকার পর হঠাৎ ব্যাটিং করতে গিয়ে পুরোপুরি মনোযোগী না থাকার একটা ক্ল্যাসিক উদাহরণ।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আসল কথা হলো, ওর এখানে থাকাই উচিত ছিল না। সে গত ১১ মাসে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেনি; ১০ দিন আগেও সিপিএল খেলছিল। জানি না, কে মনে করেছে যে বিদেশের কন্ডিশন থেকে উড়িয়ে এনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সংস্করণে খেলার পর এই কন্ডিশনে ডিউক বলের বিপক্ষে সে ভালো করতে পারবে। এটা আসলে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি একধরনের অসম্মান এবং অবহেলা।’

আরো পড়ুন: