লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টেও পাকিস্তানের ব্যাটিং ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে বড় দুর্বলতা দেখা গেছে। দুই ইনিংসেই ২০০ রানের নিচে অলআউট হয়েছে তারা। তবে ব্রডের মতে, এসব সমস্যার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দায়ী করা ঠিক হবে না। বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের কাঠামো, দল নির্বাচন এবং বারবার কোচ পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’ ইউটিউব চ্যানেলের সাম্প্রতিক পডকাস্টে ব্রড বলেন, ‘সিরিজ শুরুর আগে আমি বলেছিলাম পাকিস্তান দুর্বল দল। এরপর পাকিস্তান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক বার্তা ও মন্তব্য পেয়েছি। এতে বুঝেছি, দেশটিতে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এখনো কতটা আবেগ, ভালোবাসা ও আগ্রহ আছে।’
পাকিস্তানকে দুর্বল দল বলার সময় তিনি তাদের প্রতিভার দিকটি যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি বলেও এখন মনে করছেন ব্রড। বিশেষ করে পাকিস্তানের পেস বোলিং এবং ব্যাটিংয়ে ভালো মানের খেলোয়াড় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ব্রড বলেন, ‘এই দেশে ক্রিকেটের জন্য অনেক আবেগ আছে এবং প্রতিভাও আছে। তাদের এমন বোলার আছে যারা ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে, আবার এমন ব্যাটারও আছে যারা বল ভালোভাবে মারতে পারে।'
সিরিজ শুরুর আগে অবশ্য পাকিস্তানকে নিয়ে নিজের অবস্থানে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সাবেক ইংলিশ পেসার। দ্বিতীয় টেস্টের আগেও তিনি বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতা উচিত এবং তা না হলে সেটিকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হবে। সেই সময় তাঁর মন্তব্য পাকিস্তানের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল।
দুই টেস্ট দেখার পর সেই মন্তব্যই এখন ভুল মনে হচ্ছে ব্রডের। পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের দায়ী করাটা যে ঠিক হয়নি তা উপলব্ধি হয়েছে সাবেক এই পেসারের। ক্ষমা চেয়ে ব্রড বলেন, ‘আমি আসলে পাকিস্তানকে দুর্বল দল বলার জন্য দুঃখিত। কারণ এতে খেলোয়াড়দেরই দায়ী করা হয়েছিল। এখন দুই টেস্টে তাদের খেলা দেখার পর পরিষ্কারভাবে মনে হচ্ছে, সমস্যাটা মূলত ক্রিকেটের ওপরের স্তর, দল নির্বাচন এবং কোচিংয়ে বারবার পরিবর্তনের জায়গায়।'